শনিবার ১৬ অক্টোবর ২০২১
Online Edition

পর্নোগ্রাফির কারণসমূহ : ক্ষতি এবং তার প্রতিকার

মুহাম্মদ মনজুর হোসেন খান : [তিন]
কোন ব্যক্তি পর্ণোগ্রাফি বিক্রয়, ভাড়া, বিতরণ, সরবরাহ, প্রকাশ্যে প্রদর্শন বা যে কোন প্রকারে প্রচার করলে অথবা কোন পর্ণোগ্রাফি প্রাপ্তি স্থান সম্পর্কে কোন প্রকারের বিজ্ঞাপন প্রচার করলে, অথবা এরূপ কোন কার্য সংঘটনের উদ্যোগ গ্রহণ করলে তিনি অপরাধ করেছেন বলে গণ্য হবে এবং উক্তরূপ অপরাধের জন্য তিনি সর্বোচ্চ দুই বৎসর সশ্রম কারাদন্ড এবং এক লক্ষ টাকা পর্যন্ত অর্থদন্ডে দন্ডিত হবেন। ‘‘প্রাগুক্ত, ধারা-৮ (৪) ও (৫) এর উপধারা ক, খ ও গ’’ সর্বোপরি এ আইনের অধীনে সংঘটিত কোন অপরাধের সহিত প্রত্যক্ষভাবে জড়িত বা সহায়তাকারী ব্যক্তি প্রত্যেকেই একই দন্ডে দন্ডিত হইবেন। ‘‘প্রাগুক্ত, ধারা-৮ (৬)’’
শিশুদের ব্যবহার করলে সর্বোচ্চ শাস্তি : শিশুদের ব্যবহার করে পর্ণোগ্রাফি উৎপাদন ও বিতরণকারীদের জন্য সবচেয়ে বেশি শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। এদের জন্য সর্বোচ্চ দশ বছরের কারাদন্ড ও পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করার বিধান রয়েছে। ‘‘প্রাগুক্ত, ধারা-৮ (৬)’’
পর্ণোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণে ইসলামী নৈতিকতা : পর্ণোগ্রাফি একটি সর্বজন স্বীকৃত অশ্লীলতা। মানব সমাজকে পুত:পবিত্র এবং বিশৃঙ্খলামক্ত রাখার উদ্দেশ্যে ইসলামে সকল প্রকার অশ্লীলতাকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। আল্লাহ বলেন, “আপনি বলুন, আমার পালনকর্তা কেবলমাত্র অশ্লীল বিষয়সমূহ হারাম করেছেন- যা প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য এবং হারাম করেছেন গোনাহ, অন্যায়-অত্যাচার, আল্লাহর সাথে এমন বস্তুকে অংশীদার করা, তিনি যার কোনো সনদ অবতীর্ণ করেননি এবং আল্লাহর প্রতি এমন কথা আরোপ করা, যা তোমরা জান না। ‘‘আল-কুরআন, ৭:৩৩’’ আল্লাহ সকল ধরনের অশ্লীলতা পরিহারের নির্দেশ প্রদান করে বলেন, “আল্লাহ ন্যায়পরায়ণতা, সদাচারণ এবং আত্মীয়-স্বজনকে দান করার আদেশ দেন এবং তিনি অশ্লীলতা, অসঙ্গত কাজ এবং অবাধ্যতা করতে বারণ করেন। তিনি তোমাদেরকে উপদেশ দেন- যাতে তোমরা স্মরণ রাখ।’’ ‘‘আল-কুরআন, ১৬:৯০’’ পর্ববর্তী কিতাবসমূহের প্রতি বিশ্বাস স্থাপনাকারী জাতিসমূহ অশ্লীল কাজ সম্পাদন করে তা আল্লাহর নির্দেশ হিসেবে চালিয়ে দিত। তাই আল্লাহ বলেন, “আর যদি আহলে-কিতাবরা বিশ্বাস স্থাপন করত এবং খোদাভীতি অবলম্বন করত, তবে আমি তাদের মন্দ বিষয়সমূহ ক্ষমা করে দিতাম এবং তাদেরকে নেয়ামতের উদ্যানসমূহে প্রবেশ করাতাম। ‘‘আল-কুরআন, ৫:৬৫’’
“তারা যখন কোন মন্দ কাজ করে তখন বলে, আমরা বাপ-দাদাকে এমনি করতে দেখেছি এবং আল্লাহও আমাদেরকে এ নির্দেশই দিয়েছেন। আল্লাহ মন্দ কাজের আদেশ দেন না। তোমরা এমন কথা আল্লাহর প্রতি কেন আরোপ কর, যা তোমরা জান না। ‘‘আল-কুরআন, ৭:২৮’’ আল্লাহ মুসলিম জাতিকে মন্দ কাজ থেকে কেবল দূরে থাকতে আদেশই প্রদান করেননি; বরং এসব অশ্লীল কাজ থেকে জাতিকে দূরে রাখতে যথাযথ কার্যকর ব্যবস্থা নিতে নিদের্শও প্রদান করেন। আল্লাহ বলেন, “আর তোমাদের মধ্যে এমন একটা দল থাকা উচিত, যারা কল্যাণের প্রতি আহ্বান করবে, নির্দেশ করবে সৎ কাজের এবং বারণ করবে অন্যায় কাজ থেকে। আর তারাই হল সফলকাম। ‘‘আল-কুরআন, ৩:১০৪’’ অন্যত্র এ কাজকে মুমিনদের পারস্পরিক দায়িত্ব আখ্যা দিয়ে বলেন, “আর ঈমানদার পুরুষ ও ঈমানদার নারী একে অপরের বন্ধু। তারা ভাল কাজের নির্দেশ দেয় এবং মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে এবং সালাত প্রতিষ্ঠা করে, যাকাত দেয় এবং আল্লাহ ও তাঁর রসূলের নির্দেশ অনুযায়ী জীবন যাপন করে”। এদেরই উপর আল্লাহ দয়া করবেন। নিশ্চয় আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। ‘‘আল-কুরআন, ৯:৭১’’ আর এ ভিন্ন বা উল্টো চরিত্রকে মুনাফিকদের কর্ম হিসেবে চিত্রিত করেছেন। এ সম্পর্কে বলেন, “মুনাফেক নর-নারী একে অপরের অনুরূপ; তারা পরস্পরকে অসৎকর্মের আদেশ দেয় এবং সৎকর্মে নিষেধ করে। ‘‘আল-কুরআন, ৯:৬৭’’। আল্লাহ ‘আমর বিল মরূপ’ এবং ‘নাহি আনিল-মুনকার’ (সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ) কে মু’মিন ও মুনাফিকদের সাথে পার্থক্যকারী নিদর্শন হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন। ফলে কোন মুসলিম অশ্লীল কোন কাজে জড়িত হওয়া তো দূরের কথা, বরং অশ্লীল কাজে বাধার প্রাচীর হয়ে দাঁড়ানো তার দায়িত্ব। রসূলুল্লাহ সা: বলেন, “তোমাদের কেউ অন্যায়-অশ্লীল কর্ম দেখলে তা শক্তি দ্বারা প্রতিহত করবে। যদি সমর্থ না হয় তাহলে কথার দ্বারা প্রতিবাদ করবে। এতেও সমর্থ না হলে বিবেক দ্বারা প্রতিহত করবে। আর এটিই হচ্ছে সবচেয়ে দুর্বল ঈমান। ‘‘ইমাম মুসলিম, সহীহ মুসলিম, অধ্যায়: কিতাবুল ঈমান, অনুচ্ছেদ: বায়ান্ন আন্না নিহ্য়া আনিল মুনকারি মিনাল ঈমান ওয়া আন্নাল ঈমানা ইয়াযিদু ওয়া ইয়ানকুসু, বৈরূত: দারু ইহইয়া আত-তুরাস আল-আরাবী, তা.বি. পৃ.৪৬’’ ফলে ইসলাম প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য সর্বপ্রকার অশ্লীলতাকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। আল্লাহ বলেন, “লজ্জাকর কার্যে জড়িত হয়োনা, সে প্রকাশ্যেই বা গোপনে। ‘‘আল-কুরআন, ৬:১৫১’’ ফলে অশ্লীল কর্ম সমাজে ছড়িয়ে দেয়াও মারাত্মক অপরাধ। আল্লাহ বলেন, “যারা পছন্দ করে যে, ঈমানদারদের মধ্যে অশ্লীলতার প্রসার লাভ করুক তাদের জন্যে ইহকাল ও পরকালে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি রয়েছে। আল্লাহ জানে, তোমরা জান না। ‘‘আল-কুরআন, ২৪:১৯’’ কোন নারীকে কটু কথা বলা, খারাপ ইশারা-ইঙ্গিত করা, হয়রানি করা, গালি দেয়া, ঢিল মারা, পথরুদ্ধ করা যেমন অশ্লীল কাজ তেমনি কোন নারী-পুরুষের বিকৃত স্থির চিত্র বা নগ্ন ভিডিও ধারণ ও ছড়িয়ে দেয়া কিংবা প্রত্যক্ষ করা অশ্লীল কাজ। রাসুলুল্লাহ (সা:) সবধরনের অশ্লীল কাজকে নিষেধ করে বলেন, “অশ্লীলতা এবং অশ্লীলতার প্রসার কোনটির স্থান ইসলামে নেই। নিশ্চয় ইসলামে সর্বোত্তম মানুষ হচ্ছে যার স্বভাব-চরিত্র সবার চাইতে সুন্দর। ‘‘ইমাম আহমদ ইবন হাম্বল, আল-মুসনাদ, অধ্যায়-মুসনাদুল আশারাহ আল-মুবাশিশরীনা বিল জান্নাহ, অনুচ্ছেদ! আউয়ালু মুসনাদিল বাসরিয়্যিন, বৈরুত: দারু এহইয়া আল-তুরাস আল-আরাবী, তা.বি.পৃ: ৫২১৩’’ ইসলাম এ অপরাধকে সরাসরি নিষিদ্ধ ঘোষণা করার পাশাপাশি এ অপরাধ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য অযাচিত ও রুচিহীন কয়েকটি কর্মকেও নিষিদ্ধ করেছে। নিম্নে পর্ণোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণে ইসলামের ঐতিহাসিক বিধি-বিধানের প্রায়োগিক দিকসমূহ তুলে ধরা হল-
স্বচ্ছন্দ ও প্রশান্তিপুর্ণ পারিবারিক ব্যবস্থাপনা : ইসলামে বিবাহবন্ধনকে সুস্থ জীবনযাপনের আদর্শ হিসেবে ধরা হয়। আল-কুরআনে বলা হয়েছে, “তোমাদের মধ্যে যারা বিবাহহীন তাদের বিয়ে সম্পাদন করে দাও এবং তোমাদের দাস-দাসীদের মধ্যে যারা সৎকর্ম পরায়ণ তাদেরও। তারা যদি নিঃস্ব হয়, তবে আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদের স্বচ্ছল করে দিবেন। আল্লাহ প্রাচুর্যময়, সর্বজ্ঞ। ‘‘আল-কুরআন, ২৪:৩২’’ পবিত্র কুরআনে আল্লাহ যৌনতার একমাত্র বৈধ পন্থা হিসেবে বিবাহ বন্ধনের স্বীকৃতি প্রদান করেছেন, যার মধ্যে নারী-পুরুষের জন্য পারস্পরিক স্বচ্ছন্দ এবং প্রশান্তি রয়েছে। দাম্পত্য জীবনকে ইসলাম একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান মনে করে এবং তা সংরক্ষণের পরামর্শ দেয়। রাসূলুল্লাহ (সা:) বিবাহকেই একমাত্র যৌনতা নিয়ন্ত্রণের সঠিক পদ্ধতি হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। তিনি বলেন, “হে যুব সমাজ! তোমাদের মধ্যে যার বিবাহের সামর্থ আছে সে যেন বিয়ে করে, কারণ তা দৃষ্টি নিম্নগামী করে এবং যৌনঅঙ্গকে পবিত্র রাখে। ‘‘ইমাম মুসলিম, সহীহ মুসলিম, অধ্যায়: আন-নিকাহ, অনুচ্ছেদ: ইসতিহবা নিকাহ লিমান তাকাত নাফসুহু ইলাহি, প্রাগুক্ত, খ, ৯, পৃ:১৭২’’ পরস্পরের আচরণ সৌহার্দপূর্ণ রাখতে নির্দেশ দিয়ে বলেন, “মুমিনদের মধ্যে পরিপূর্ণ মুমিন সেই ব্যক্তি, যার আচার-আচরণ উত্তম। আর তোমাদের মাঝে তারাই উত্তম যারা আচার-আচরণে তাদের স্ত্রীদের কাছে উত্তম। ‘‘ইমাম তিরমিযী, আস-সুনান, অধ্যায়: আর-রিদা’আ., অনুচ্ছেদ মা যাআ ফি হাক্কিল মার’আ আলা যাওজিহা, বৈরূত, দারু ইহইয়া আত-তুরাস আল-আরাবী, তা.বি., পৃ. ৪৪২’’ এ ক্ষেত্রে কখনোও কোন ত্রুটি পরিলক্ষিত হলে তার সমাধান হবে কীভাবে তিনি তার নির্দেশনা প্রদান করেছেন। রসূলুল্লাহ সা: বলেন, “কোন মুমিন পুরুষ কোন মুমিন নারীর প্রতি বিদ্বেষ রাখবে না। যদি তার একটি অভ্যাস অপছন্দনীয় হয় তবে আরেকটি অভ্যাস তো পছন্দনীয় হবে। ‘‘ইমাম মুসলিম, সহীহ মুসলিম, অধ্যায়: আর-রিদা’আ, অনুচ্ছেদ: আল-ওয়াসিয়াতু বিন-নিসা, প্রাগুক্ত, পৃ: ৯৯৪’’
ইসলামে পরিবারই যেহেতু যৌন চাহিদা পূরণের একমাত্র ক্ষেত্র তাই স্বামী-স্ত্রীর পরস্পরের যৌন চাহিদার প্রতি দৃষ্টি রাখতে বলা হয়েছে। আনাস ইবনে মালিক রা. বলেন, রসূলুল্লাহ সা: বলেছেন, “যখন পুরুষ তার স্ত্রীর সাথে সহবাস করে তখন সে যেন পরিপূর্ণভাবে (সহবাস) করে। আর তার যখন চাহিদা পূরণ হয়ে যায় এবং স্ত্রীর চাহিদা অপূর্ণ থাকে, তখন সে যেন তাড়াহুড়া না করে। ‘‘আব্দুর রাজ্জাক, আল-মুসান্নাফ, অধ্যায়: আল-নিকাহ, অনুচ্ছেদ: আল-কাওলু ‘ইনদাল জিমা’আ ওয়া কাইয়া ইয়াসনা’উ ওয়া ফাযলুল জিমা’আ, বৈরূত: আল-মাকতাব আল ইসলামী, ১৪০৩ হি. পৃ.১৮৫৫’’ এভাবে ইসলামে স্ত্রীর যৌন অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনে স্বামীকে সতর্ক করা হয়েছে। এমনকি স্বামীর বিরুদ্ধে শাসকের কাছে অভিযোগ করার অনুমতিও দেয়া হয়েছে। আবূ মূসা আল-আশয়ারী রা. থেকে বর্ণিত, ওসমান ইবনে মাযউন রা.-এর স্ত্রী মলিন বদন এবং পুরাতন কাপড়ে রসূলুল্লাহ সা: এর স্ত্রীদের কাছে এলেন। তাঁরা তাকে জিজ্ঞেস করলেন, তোমার এ অবস্থা কেন? তিনি বললেন, এতে আমার কী হবে? কেননা আমার স্বামীর রাত নামাযে কাটে ও দিন রোযায় কাটে। তারপর রসূলুল্লাহ সা: প্রবেশ করলেন। তখন রসূলুল্লাহ সা: এর স্ত্রীগণ বিষয়টি তাঁকে অবহিত করলেন। উসমান ইবনে মাযউন রা. এর সাথে সাক্ষাত হলে তিনি তাকে বললেন, “আমার মধ্যে কি তোমার জন্য কোন আদর্শ নেই? “উসমান রা. বললেন কী বলেন হে আল্লাহর রসূল! আমার পিতামাতা আপনার জন্য উৎসর্গিত হোক। তখন তিনি বললেন, “তবে কি তোমার রাত নামাযে আর দিন রোযায় কাটে না? অথচ তোমার উপর তোমার পরিবারের হক রয়েছে, তোমার উপর তোমার শরীরেরও হক রয়েছে। তুমি নামাযও পড়বে আবার ঘুমাবে, রোযাও রাখবে আবার ভাঙ্গবেও। তিনি বললেন, তারপর আরেকদিন তার স্ত্রী পরিচ্ছন্ন ও সুগন্ধি মাখা অবস্থায় এলেন যেন নববধূ। ‘‘আবূ হাতিম মুহাম্মদ ইবনে হিব্বান, সহীহ ইবনে হিব্বান, অধ্যায়: আল-বির ওয়াল ইহসান, পরিচ্ছেদ; মা যাআ ফিত তা’আত ওয়া সাওয়াবিহা, বৈরূত: মুয়াস্সাতুর-রিসালাহ, ১৯৯৩, পৃ. ১৩১’’
আবু জুহাইফা রা. বলেন, রসূলুল্লাহ সা: সালমান এবং আবু দারদা রা. এর মাঝে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন স্থাপন করেছিলেন। সালমান রা. আবু দারদা রা. এর সাক্ষাতে গেলেন। তিনি উম্মে দরদা রা. কে ময়লা কাপড় পরিহিত অবস্থায় দেখতে পেলেন এবং তাকে তার ঐ অবস্থার কারণ জিজ্ঞেস করলেন। তিনি বললেন, ‘আপনার ভাই আবু দারদার আবু দরদার দুনিয়ার চাহিদা নেই।’ এর মধ্যে আবু দারদা এলেন এবং তার (সালমানের) জন্য খাবার তৈরী করলেন এবং বললেন, খাবার গ্রহণ কর, কারণ আমি রোযা আছি। সালমান রা. বললেন, ‘তুমি না খেলে আমি খাচ্ছি না।’
কাজেই আবু দারদা রা. খেলেন। যখন রাত হল, আবু দারদা রা. উঠে পড়লেন। সালমান রা. বললেন, ‘ঘুমাও’। রাতের শেষ দিকে সালমান রা. তাকে বললেন, ‘এখন ওঠো’। কাজেই তারা উভয়ে নামায পড়লেন এবং সালমান রা. আবু দারদা রা. কে বললেন, ‘তোমার রবের অধিকার রয়েছে; তোমার উপর তোমার আত্মার অধিকার রয়েছে, তোমার উপর তোমার পরিবারের অধিকার রয়েছে; কাজেই প্রত্যেককে তার প্রাপ্য অধিকার প্রদান করা উচিত।’ পরে আবু দরদা রা. রসূলুল্লাহ সা: এর সাথে সাক্ষাত করলেন এবং একথা তাঁর কাছে উল্লেখ করলেন। রসূলুল্লাহ সা: বললেন, ‘সালমান যথার্থই বলেছে। ‘‘ইমাম তিরমিযী, আস-সুনান, অধ্যায়: আল-জুহদ, পরিচ্ছেদ: মা যাআ হিফযিল লিসান, প্রাগুক্ত, পৃ. ৮৯৩’’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ