বৃহস্পতিবার ২৭ জানুয়ারি ২০২২
Online Edition

চাকরি জাতীয়করণসহ ৫ দফা বাস্তবায়নের দাবি

স্টাফ রিপোর্টার : চাকরি জাতীয়করণসহ ৫দফা বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে, বাংলাদেশ ইউসিসিএ কর্মচারী ইউনিয়ন (বিআরডিবি)। বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন (বিআরডিবি) ইউসিসিএ কর্মচারী ইউনিয়ন সারা  দেশে সাথে একাত্ম হয়ে অসংখ্যবার স্মারকলিপি প্রদান করেছে ইউসিসিএ কর্মচারীরা ।
গতকাল সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে এই দাবি জানায়। সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ ইউসিসিএ কর্মচারী ইউনিয়ন (বিআরডিবি) সভাপতি মো: দুলাল মিয়া, ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সেখ ফেরদাউস, কোষাধক্ষ শাকিল খান, সিনিয়র সহসভাপতি আব্দুস শহিদ, মামুনুর রশিদ প্রমুখ।
সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বাংলাদেশ ইউসিসিএ কর্মচারী ইউনিয়ন (বিআরডিবি) সভাপতি মো: দুলাল মিয়া বলেন, আমাদের দাবি একটাই অবিলম্বে চাকরি জাতীয়করণ করতে হবে। বিআরডিবি'র সদাবিকের মাঠ- সহকারীদের রাজস্ব ভুক্তি সহ নিয়মিত  বেতন -ভাতা নিশ্চিত করার জন্য আবেদন। তিনি লিখিত বক্তব্যে কর্মচারীদের ৫ দফা দাবি তুলেধরেন, সমবায় মন্ত্রণালয়ের ১১এপ্রিল ২০১২ সালের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চাকরি জাতীয়করণ, বাংলাদেশী পল্লী উন্নয়ন সমবায়  ফেডারেশন  চাকরি বিধি/১৫ পরবর্তী বিআরডিবি গৃহীত চাকরি বিধি-২০১৬ বাস্তবায়ন ও সর্বশেষ চাকরি বিধান মালা/১৭ বাতিল করা,  বিআরডিবি জারীকৃত স্মারক -১৬৮৪, ৭ জুন ২০১৭ তারিখের পরিপত্র বাতিল ও প্রত্যাহার করা, অবসর গ্রহণকৃত কর্মচারীদের নিয়মতান্ত্রিকভাবে অবসরকালীন সুবিধা নিশ্চিত করা, বিভিন্ন শর্তে আবদ্ধ জাতীয়  বেতন  স্কেল/১৫ বাস্তবায়ন হয় নাই, শর্তহীনভাবে তা বাস্তবায়ন করা এবং সরকার প্রদত্ত স্যালারি সাপোর্ট প্রাপ্তিতে বিআরডিবি  প্রেরিত পত্রে ১২নং শর্ত বাতিল করা এমন ৫দফা দাবীনামা স্মারকে উল্লেখ করা হয়েছে।
সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন  বোর্ড কর্তৃক বাস্তবায়িত "সমন্বিত দারিদ্র বিমোচন কর্মসূচী (সদাবিক) এর ১২২৮ জন ভাগ্য বিড়াম্বিত মাঠ-সহকারীর ফরিয়াদ। সরকার  দেশ থেকে দারিদ্র দূর করার জন্য ২০০৩/০৪ অর্থ বছরে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অধীনে তিনটি উন্নয়ন কর্মসূচী হাতে নেয়। কর্মসূচী তিনটি হল সমন্বিত দারিদ্র বিমোচন কর্মসূচী (সদাবিক), দারিদ্র বিমোচনে মহিলাদের আত্মকর্মসংস্থান কর্মসূচী (দাবিমআক) এবং ক্ষুদ্র কৃষক ও বর্গা চাষী উন্নয়ন কর্মসূচী। এই কর্মসূচী তিনটি বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি) কে দায়িত্ব প্রদান করেন। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচীর পরিবর্তে রাজস্ব বাজেটের আওতায় পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে নির্দেশ প্রদান করেন। কিন্তু দুঃখের বিষয় কোন অজ্ঞাত কারণে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অধীনের তিনটি উন্নয়ন কর্মসূচী অদ্যবধি রাজস্ব ভুক্ত হয় নাই।
সাংবাদিক সম্মেলনে ইউনিয়নের কর্মচারীরা আরও বলেন, পক্ষান্তরে আদেশটি বাস্তবায়ন না করে ২০০৬ সনে বিআরডিবির ৪১তম বোর্ড সভায় কর্মসূচী তিনটিকে একত্রিত করে সমন্বিত দারিদ্র বিমোচন কর্মসূচী (সদাবিক) নামে ০১/০৭/২০০৬ বিআরডিবি 'র মনগড়া নীতিমালার আলোকে আয় থেকে দায় প্রথার মাধ্যমে পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যা আজও একই নিয়মে চলমান। বিআরডিবি'র তৎকালীন মহা পরিচালক মহোদয়ের দপ্তরের স্মারক নং ৪৭.৬২.০০০০.৫১২.১৫.০৬৬.১২.৪৮৪০ পত্রের মাধ্যমে ১২২৮ জন মাঠ সহকারীদের রাজস্ব বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পত্র দিলে উক্ত পত্রের আলোকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ০৯/০৯/২০১৪ খ্রিঃ তারিখে স্মারক নং ৪৭.০২৩.০১৫.৬১.০০.১০২.২০১২-৩০২(৪) এর মাধ্যমে ১২২৮ জন মাঠ -সহকারীর পদ রাজস্ব বাজেটে অন্তভূক্তির প্রস্তাবটি জন প্রশাসন মন্ত্রণালয়ে প্রেরণের জন্য বিভিন্ন তথ্যাদি চেয়ে বিআরডিবি'র মহা পরিচালক মহাদয়ের নিকট পত্র দেন । পরবর্তিতে ফাইলটি আর কোন অগ্রগতি দেখে নাই। এই অবস্থায় ঋণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য অফিস আদেশ জারি করেন কিন্তু তা আজও আলোর মুখ দেখে নাই। ফলে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং মাঠ-সহকারীরা আয় থেকে দায় প্রথার মাধ্যমে মাসের পর মাস বেতন ভাতা না পাওয়ায় তারা আর্ত- মানবতার জীবন যাপন করছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ