বৃহস্পতিবার ২৭ জানুয়ারি ২০২২
Online Edition

বিজিএমইএ ভবন ভাঙার রায়ের বাস্তবায়ন হয়নি এখনও- বিচারপতি মানিক

স্টাফ রিপোর্টার: কিছুদিন পর পর শুধু উচ্ছেদ অভিযান করলেই হবে না, দীর্য মেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে নদীর অবৈধ দখলরোধ করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক। সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বলেছেন, হাতিরঝিল দখল করে তৈরি করা বিজিএমইএ ভবন ভাঙার রায়ের এখনও বাস্তবায়ন হয়নি।
গতকাল সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ফোরাম ( বোয়াফ) আয়োজিত ‘নদীর অবৈধ দখল উচ্ছেদের বর্তমান-ভবিষ্যত’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এই মন্তব্য করেন তিনি। আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন- জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও সংসদ সদস্য শফিকুর রহমান রহমান, সাংস্কৃতিকবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব-নাছির উদ্দিন আহমেদ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক শামীম মোহাম্মদ আফজাল, যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজ্জাম্মেল হক চৌধুরী, বাংলাদেশ বুড্ডিস্ট ফেডারেশনের সভাপতি অশোক বড়ুয়া, উত্তরা ইউনিভার্সিটির প্রো-ভিসি প্রফেসার ড. ইয়াসমিন আরা লেখা প্রমুখ। বোয়াফ সদস্য তুলি হোসেনের সঞ্চালনায় আলোচনা সভার সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি কবীর চৌধুরী তন্ময়।
সাবেক বিচারপতি বলেন, প্রধানমন্ত্রী অনেক আগেই থেকে বলে আসছেন নদী দখলমুক্ত করতে হবে। এছাড়া সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা রয়েছে যে নদী দখলের ব্যাপারে একটি মামলার রায় সবসময় প্রচলিত থাকবে। নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলি, বিজিএমইএ ভবন ভাঙার আদেশ আমি দিয়েছিলাম। ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছিল হাতিরঝিলের ওপর। একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী এই জায়গা দখল করে ভবন নির্মাণ করেছিল। তারপরও আমি এটি ভাঙার আদেশ দিয়েছি। দুর্ভাগ্যবশত এখনও ভাঙা হয়নি, তারা বারবার এসে সময় বাড়িয়ে নিচ্ছে। আশা করি আর কয়েকমাস পর এটি ভাঙা হবে।
তিনি আরও বলেন, অনেকে নদীর কিংবা খালের মালিকানা দাবি করে। তাই সুনির্দিষ্ট করে নদী ও খাল চিহ্নিত করতে হবে। আমি মনে করি, একটি মন্ত্রণালয় হওয়া উচিত শুধু নদী-খাল বাঁচানোর জন্য। নদী-খাল দখলের মতো ঘৃণ্য কাজ যাতে কেউ না করতে পারে, সেজন্য কঠোর হতে দমনের ব্যবস্থা করতে হবে।
নদীর অবৈধ দখলকারীদের বিচারে আইনের অভাব নেই উল্লেখ করে এই বিচারপতি বলেন, তাদের বিচারে আইনের অভাব নেই, শুধু আইনের প্রয়োগ করতে হবে। আইনের প্রতি শ্রদ্ধা, জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও সর্বোপরি স্থায়ী সমাধানের জন্য সরকারের উচিত দীর্য মেয়াদী পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে কাজ করা। নদীর অবৈধ দখল রোধে একটা মন্ত্রণালয় দরকার বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই মন্ত্রণালয়ের কাজ হবে নদীর অবৈধ দখল বন্ধ করা। যারা নদী দখল করে তারা খুব পরাক্রমশালী হয়। তাই তাদের কঠোর হাতে দমন করতে হবে।
সুশীল সমাজের উদ্দেশে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও সংসদ সদস্য শফিকুর রহমান  বলেন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অবৈধ গাছ কাটার বিরুদ্ধে সুশিল সমাজকে যেভাবে এগিয়ে আসতে দেখেছিলাম এখন তাদেরকে আর আর নদীর অবৈধ দখল রোধে আর দেখা যায় না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ