সোমবার ২৪ জানুয়ারি ২০২২
Online Edition

ছুটির দিনে লোকে লোকারণ্য বই মেলা

ইবরাহীম খলিল : অমর একুশে গ্রন্থ মেলার ষোড়ষতম দিন শনিবার ছুটির দিন থাকায় লোকে লোকারণ্য হয়েছিল অমর একুশে গ্রন্থমেলা। গতকাল সন্ধ্যায় মেলায় আগত মানুষের সংখ্যা এতটাই বেশি ছিল যে, স্টলের বাইরের রাস্তায় একজনের গায়ে আরেকজনের গা লেগে গিয়েছিল। এরপরও ঠেলাঠেলি করে মানুষ মেলায় ঘুরাঘুরি এবং পছন্দের বই কিনেছেন। এদিকে মেলার পনেরতম দিন শুক্রবার মেলায় এসেছে মরহুম হয়ে যাওয়া সোনালি কাবিনের কবি আল মাহমুদের বই ‘গল্প’। আর এদিন রাত ১১টার পর পরই মারা যান কবি।
শনিবার অমর একুশে গ্রন্থমেলা শুরু হয় সকাল ১১টায়। সকালের অংশটা ছিল শিশুপ্রহর। এ ছাড়াও সকাল দশটায় অমর একুশে গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয়ে শিশু-কিশোরদের সাধারণ জ্ঞান ও উপস্থিত বক্তৃতার চূড়ান্ত নির্বাচন। এতে ক-শাখায় ১৬ জন খ-শাখায় ১৫জন প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করে। আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি এ প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা এবং পুরস্কার বিতরণ করা হবে।
সকালে মেলায় শিশুদের অগ্রাধিকার রাজত্ব থাকলেও দুপুরের পর দখল চলে যায় বড়দের কাছে। তরুণ-তরুণী থেকে শুরু করে সব বয়সীদের ঢল নামে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান এবং বাংলা একাডেমি চত্বরে। ভিড়ের কারণে লম্বা লাইন পড়ে টিএসসি ও দোয়েল চত্বরের দিকে। এ জন্য অবশ্য কারো মনে খেদ ছিল না। বরং মেলায় প্রবেশের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন বইপ্রেমী তরুণ-তরুণীরা। ঘুরে ঘুরে নতুন বইয়ের পাতা উল্টেপাল্টে দেখেছেন। পছন্দ হলে কিনে নিয়েছেন। তাদেরই একজন ইফায়েত। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ইফায়েত বলেন, ছুটির দিনে মেলায় এসেছি। পছন্দের লেখকদের বই কিনব। এ ছাড়া গবেষণার জন্য কিছু মৌলিক বই কেনার ইচ্ছে রয়েছে।’
গত তিন দিনের মতো এদিন ছিল স্টলে স্টলে বইপ্রেমী দর্শনার্থীদের ভিড়। মেলার ষোলোতম দিনে এসে বাংলা একাডেমিতে নতুন বই জমা পড়ে ২০৬টি। শুক্রবার পর্যন্ত নতুন বই জমা পড়ে ১ হাজার ৯শত ৯৯টি। গল্প-উপন্যাস-কবিতা-প্রবন্ধ-অনুবাদ-শিশুসাহিত্য সব ধরনের বই আছে এ তালিকায়। বাংলা একাডেমির হিসাব অনুযায়ী, সাহিত্যের বিভাগ অনুযায়ী বই জমা পড়েছে: গল্প ৩১৮টি, উপন্যাস ৩২৬টি, প্রবন্ধ ১১৯টি, কবিতা ৬০২টি, গবেষণা ২৯টি, ছড়া ৪৫টি, শিশুতোষ ৫৬টি, জীবনীগ্রন্থ ৬১টি, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক গ্রন্থ ৫২টি, নাটক ১৬টি, বিজ্ঞানবিষয়ক বই ৩০টি, ভ্রমণকাহিনি ৩৩টি, ইতিহাসমূলক ৩০টি, রাজনীতিবিষয়ক ১৯টি, চিকিৎসাসংক্রান্ত ১২টি, রম্য ১৪টি, ধর্মীয় ৮টি, অনূদিত বই ১০টি, সায়েন্স ফিকশন- গোয়েন্দা ২৩টি এবং বাকিগুলো অন্যান্য।
গতকাল আলোচনার বিষয় ছিল: চিত্রশিল্পী সৈয়দ জাহাঙ্গীর : শ্রদ্ধাঞ্জলি। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মইনুদ্দীন খালেদ। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন ফরিদা জামান, নিসার হোসেন এবং মলয় বালা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চিত্রশিল্পী হাশেম খান। এরপর শুরু হয় কবিকণ্ঠে কবিতাপাঠ, আবৃত্তি ও সংগীত সন্ধ্যা। ‘ লেখক বলছি’ মঞ্চে গতকাল উপস্থিত ছিলেন কবি কবি আসাদ মান্নান, নাট্যকার-ভ্রমণগদ্য লেখক শাকুর মজিদ, কথাশিল্পী আবদুল্লাহ আল ইমরান, গল্পকার মাহফুজ রিপন ও কবি পাপীয়া জেরিন।
গতকাল মোড়ক উন্মোচন করা হয় ২৬টি বইয়ের। গত ১৫দিনে প্রায় পাঁচ শতাধিক বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয় বইমেলার এই মঞ্চে। আজ রোববার মেলার ১৭তম দিন। মেলা শুরু হবে বিকাল ৩টার সময়, চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত।
অমর একুশে গ্রন্থমেলায় একাডেমি চত্বরে যে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা অনুষ্ঠান মন টানে না মেলায় আসা মানুষের। তবে একই মঞ্চে অনুষ্ঠিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে দর্শকের অভাব হয় না। প্রতিদিন বিকালে বাংলা একাডেমি চত্বরের মূল মঞ্চে আয়োজিত হয় আলোচনা অনুষ্ঠান। এতে আলোচিত বিষয়ের ওপর বক্তব্য দিতে আসেন বিশেষজ্ঞরা। আয়োজনও হয় পরিপাটি আর সুচারু। কিন্তু প্রতিদিনই দেখা যায় মঞ্চের সামনের দর্শনার্থী চেয়ারগুলোর বেশির ভাগ খালি পড়ে থাকে। বিকালে আলোচনা অনুষ্ঠান শেষ হলে একই মঞ্চে শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। তখন  সব কটি চেয়ার পূর্ণ হয়ে পড়ে। অনেক দর্শক দাঁড়িয়েও অনষ্ঠান উপভোগ করেন।
কথা হয় মেলায় ঘুরতে আসা মোহাম্মদপুর সেন্ট জোসেফ স্কুলের দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থী নাফিসের সঙ্গে। নাফিস জানেই না বইমেলার এমন আয়োজন সম্পর্কে। যদিও এমন আলোচনা বসে শোনার সময় বা ইচ্ছে তার নেই।
তবে সবাই নাফিসের মতো নয়। কেউ কেউ এই অনুষ্ঠানে নিয়ম করে আসেন। শোনেন আলোচকদের বক্তব্য। সেই সংখ্যাটা নেহাত হাতে গোনা। এমনই একজন রজত সেন। বয়স তার ৭০-এর কোঠায়। তিনি বলেন, ‘বইমেলায় প্রতিবছরই আসা হয়। এবারও কয়েকবার এসেছি। নতুন বই ঘুরে-ফিরে দেখে এখানে এসে খানিকটা আলোচনা শুনি। এখানে যেসব বিষয়ে আলোচনা হয় সেগুলো সমসাময়িক। তবে আলোচনা শুনতে তরুণদের কারোরই মন নেই। অথচ এসব আলোচনা তরুণদের শোনা উচিত। কিন্তু মূল মঞ্চোর আলোচনা অনুষ্ঠানে তরুণ-তরুণীদের উপস্থিতি খুব একটা দেখা যায় না। তাদের বেশির ভাগ পুকুড় পাড়ে আর নানা জায়গায় আড্ডায় বসে। তরুণী আফরোজা বলেন, ‘এবারের মেলায় কয়েকবার এসেছি। দেখেছি এখানে আলোচনা হয়। কিন্তু কখনো শোনা হয়নি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ