সোমবার ১৭ জানুয়ারি ২০২২
Online Edition

অসমে বিজেপির ‘হিন্দু রাষ্ট্র’  বানানোর ষড়যন্ত্র ব্যর্থ-আমসু

 

১৬ ফেব্রুয়ারি, পার্সটুডে : ভারতের অসমে বিজেপির ‘হিন্দু রাষ্ট্র’ বানানোর ষড়যন্ত্র বাস্তবায়িত হবে না বলে মন্তব্য করেছে অল অসম মাইনরিটি স্টুডেন্টস ইউনিয়ন (‘আমসু’)। বিজেপি আর ক্ষমতায় আসতে পারবে না বলেও সংগঠনটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। রাজ্যসভায় নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল পাস না হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে সংগঠনটি এ মন্তব্য করেছে।

নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল বাতিল হওয়ার বিষয়ে ‘আমসু’র উপদেষ্টা, আইনজীবী আজিজুর রহমান রেডিও বিশেষ সাক্ষাৎকারে বলেন, “এটা বিজেপির সম্পূর্ণ পরাজয়। নরেন্দ্র মোদি বলেন যে উনি ৫৬ ইঞ্চির ছাতির মানুষ, উনি যেকোনো কাজ করতে পারেন। কিন্তু অসমবাসী ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলবাসী গণতান্ত্রিকভাবে আন্দোলন করে যত বিরোধীদল আছে তাদের সহযোগিতায় ৫৬ ইঞ্চির দম্ভকে প্রতিহত করেছে। আর কোনও কারণেই আগামীদিন ৫৬ ইঞ্চি ছাতির দক্ষতা থাকবে না তা প্রমাণিত হয়ে গেছে।”

তিনি বলেন, “ভারতবাসী জানেন ভারতে যত জ্ঞানী মানুষ তারা সংবিধান প্রণয়ন করে গেছেন এবং সংবিধানের নিয়ম অনুযায়ী ভারতবর্ষ চলবে। এখানে কোনও ৫৬ ইঞ্চির দম্ভ চলবে না। এরফলে বিজেপির ‘হিন্দু রাষ্ট্র’ বানানোর ষড়যন্ত্র বাস্তবায়িত হবে না। এরইমধ্যে অসম এবং উত্তরপূর্বাঞ্চলের রাজ্যের মানুষ বিজেপির কুচক্রান্ত মানুষ বুঝে গেছেন। এজন্য তাঁরা মোদির ৫৬ ইঞ্চির ছাতির সঙ্গে নেই। ভারতের যে হিন্দি বলয় বলা যায় সেই ছত্তিসগড়, রাজস্থান, মধ্য প্রদেশ এসব রাজ্যের মানুষ বিজেপিকে প্রত্যাখ্যান করেছে। দক্ষিণ ভারতেও বিভিন্ন রাজ্যেও বিজেপিকে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। সেজন্য ওনারা যতই ৫৬ ইঞ্চি ছাতির কথা বলুক না কেন, ওনারা আগামীদিনে আর সরকারে আসতে পারবে না। ভারতের যে ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধান ও ধর্মনিরপেক্ষ আদর্শ ও চরিত্রের জন্য বিশ্বে ভারতের যে সুনাম ছিল তা ২০১৯ সালে লোকসভা নির্বাচনের পরে আবার পুনরায় প্রতিষ্ঠিত হবে বলে আমরা আশাবাদী। ভারতবাসী এবার কোনও কারণেই ৫৬ ইঞ্চি ছাতির পিছনে যাবে না তাঁরা সংবিধান ও ধর্মনিরপেক্ষ শক্তি ও মহাত্মা গান্ধীর যে স্বপ্ন ছিল তার পক্ষে থাকবে বলে আমরা আশাবাদী।”

রাজ্যের মন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা বিভিন্ন সময়ে সাম্প্রদায়িক মন্তব্য করেছেন অভিযোগ করে ‘আমসু’ নেতা আজিজুর রহমান বলেন, “আমরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে অবিলম্বে মন্ত্রিপরিষদ থেকে হিমন্ত বিশ্বশর্মার অপসারণ দাবি করছি। সংবিধানের নামে শপথ নিয়ে সংবিধান অবমাননা করবেন এরকম ব্যক্তির সাংবিধান পদে থাকা উচিত নয়। আমাদের আশা মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সনোয়াল শিগগিরি হিমন্ত বিশ্বশর্মাকে অপসারিত করে প্রমাণ করবেন যে উনি সংবিধান মেনে সরকার চালাচ্ছেন।”

আজিজুর রহমান বলেন, “ড. হিমন্ত বিশ্বশর্মা বলছেন যে, বাঙালি মুসলিমরা বিধানসভার ১৭ টা আসন নিয়ে যাবে। কিন্তু ১২৬ টা আসনের মধ্যে ১৭ টা আসন গেলে অসমের কী ক্ষতি হতে পারে? আমরা বাঙালি মুসলিম হোক বা অসমিয়া মুসলিম হোক, অসমিয়া হোক বা বাঙালি হোক আমরা তা বিচার করি না। আমরা বিচার করি ভারতীয়। এখনে বাংলাদেশের কোনও লোক এসে অসমের বিধায়ক হতে পারবে না। হিমন্ত বিশ্বশর্মার এটা হতাশার বহিঃপ্রকাশ। উনি চরম হিন্দুত্ববাদী এক নেতা। অসম বাসীদের সামনে হিন্দু, মুসলিমের নামে মেরুকরণের জন্য  এরকম উল্টোপাল্টা কথা বলেন।”

প্রসঙ্গত, বহুলালোচিত নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল সংসদের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায় পেশ না হওয়ায় হতাশা ব্যক্ত করে অসমের অর্থ, স্বাস্থ্য ও পূর্তমন্ত্রী ড. হিমন্ত বিশ্বশর্মা একে ‘অসমবাসীর পরাজয়’ বলে উল্লেখ করে ‘বিল পাস না হলে রাজ্যের ১৭ টি নির্বাচন কেন্দ্র বাংলাদেশি মুসলিমদের হাতে চলে যাবে’ বলে মন্তব্য করেন।

কেন্দ্রীয় বিজেপি সরকার বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে আসা সংখ্যলঘুদের (হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, জৈন ও পার্সি) ভারতে আশ্রয় দিতে ১৯৫৫ সালের নাগরিকত্ব আইন পরিবর্তন করতে চেয়েছিল। সংসদে পেশ করা এ সংক্রান্ত বিলে প্রস্তাব করা হয়, ওই তিন দেশ থেকে ভারতে আসা অমুসলিমরা ১২ বছরের পরিবর্তে ৬ বছরের মধ্যেই নাগরিকত্ব পাবেন। কিন্তু এভাবে ধর্মীয়ভিত্তিতে নাগরিকত্ব প্রদানের চেষ্টা নিয়ে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়। তাছাড়া এরফলে স্থানীয় আদি বাসিন্দাদের রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হওয়াসহ বিভিন্ন সঙ্কট সৃষ্টি হবে বলে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের বিরোধীরা আশঙ্কা করছেন।

লোকসভায় বিতর্কিত ওই বিল পাস হলেও রাজ্যসভায় বিরোধীদের দাপটে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি বাজেট অধিবেশনের শেষ দিনে বিলটি পেশ করতে ব্যর্থ হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। এরফলে বিতর্কিত ওই বিলটি তামাদিতে পরিণত হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ