সোমবার ১৭ জানুয়ারি ২০২২
Online Edition

কাশ্মীরে হামলার পর স্থানীয় মুসলিম বাসিন্দাদের ওপর হামলা

 

১৬ ফেব্রুয়ারি, কাশ্মীর মনিটর : আত্মঘাতী বোমা হামলায় ভারতীয় নিরাপত্তারক্ষী বাহিনীর সদস্যদের মৃত্যুর প্রতিক্রিয়ায় জম্মুতে কাশ্মিরি ও স্থানীয় মুসলমান বাসিন্দাদের মারধরের ঘটনা ঘটেছে। এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন জম্মু ও কাশ্মিরের সাবেক দুই মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি ও ওমর আব্দুল্লাহ। তাদের ভাষ্য, হামলার দায় মুসলমানদের নয়, সন্ত্রাসীদের। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, হামলার পেছনে পাকিস্তানের মদত থাকার অভিযোগ তুলে বিক্ষোভকারীরা মিছিলে মুখরিত করে রেখেছিল জম্মু শহর। স্থানীয় প্রশাসন সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে জারি করেছে কারফিউ।

বৃহস্পতিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) ভারতীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনীর (সিআরপিএফ) প্রায় আড়াই হাজার সদস্যকে নিয়ে ৭০টি গাড়ির একটি বহর জম্মু থেকে কাশ্মির যাচ্ছিল। বহরের একটি বাসে প্রায় সাড়ে তিনশ কেজি বিস্ফোরক ভর্তি একটি গাড়ি নিয়ে আত্মঘাতী হামলা চালায় জয়েশ-ই-মোহাম্মদের সদস্য আদিল। এতে ৪৪ নিরাপত্তারক্ষীর মৃত্যু হয়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে হামলার দায় স্বীকার করে জঙ্গিগোষ্ঠী জয়েশ-ই-মোহাম্মদ। গোষ্ঠীটি কাশ্মিরে ভারতীয় শাসনের অবসান চায়। মতাদর্শগতভাবে কাশ্মিরকে পাকিস্তানের অঙ্গীভূত করার পক্ষে অবস্থান তাদের।

কাশ্মীরে ওই হামলার প্রতিবাদে জুয়েল চক, পুরানি মু-ি,  রেহারই, শক্তিনগর, প্যাঁচাডাঙ্গা, জানিপুর, গান্ধী নগর, বকসি নগরসহ বিভিন্ন এলাকায় পাকিস্তান বিরোধী মিছিল হয়েছে।  বিক্ষোভকারীরা সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে ও টায়ার জ্বালিয়ে পাকিস্তানবিরোধী স্লোগান দেওয়ার পাশাপাশি ডাক দিয়েছে ‘প্রতিশোধের।’

অন্যদিকে গুজার নগর এলাকায় বহু গাড়ি পাথর ছুঁড়ে ভাঙচুর করা হয়েছে। সেখানে মারধরের ঘটনাও ঘটেছে। পুলিশের দাবি তারা বড় মাত্রার সংঘাত থামিয়ে দিতে পেরেছে। জম্মুর ‘ট্যুরিস্ট রিসিপশন সেন্টার’ বিক্ষোভকারীদের হামলার শিকার হয়েছিল। সেখানে কর্মরত কাশ্মিরি কর্মীরা পুলিশের সহায়তা নেয়।  

জম্মু ও কাশ্মিরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি এক টুইটার বার্তায় এই সহিংসতার নিন্দা জানিয়েছেন। জম্মুর পুলিশ প্রধানের কাছে সংখ্যালঘুদের বসবাসের এলাকায় নিরাপত্তা বৃদ্ধির দাবি তার।

অন্যদিকে জম্মু ও কাশ্মিরের আরেক সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ওমর আব্দুল্লাহও মুসলমান অধ্যুষিত এলাকায় সহিংসতার সমালোচনা করে টুইটার বার্তা প্রকাশ করেছেন। তার ভাষ্য, ‘কাশ্মিরি বা জম্মুর মুসলমানরা গতকাল নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের ওপর হামলা চালায়নি, সন্ত্রাসীরা চালিয়েছিল। এই সহিংসতার মাধ্যমে উধোর পি-ি বুধোর ঘাড়ে চাপানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। আসুন, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হই, সন্ত্রাস যেন আমাদের বিভক্ত করে ফেলতে না পারে।’

জম্মু এখন কার্যত অচল। রাস্তায় কোনও যানবাহন নেই। খোলেনি দোকান-পাট। আদালতও ঘোষণা করেছে কর্মবিরতি। জম্মুর ডেপুটি কমিশনার বার্তা সংস্থা পিটিআইকে বলেছেন, ‘সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে জম্মু শহরে কারফিউ জারি করা হয়েছে।’

সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার আশঙ্কায় ভারতীয় সেনাবাহিনীর দুইটি দলকে মাঠে নামানো হয়েছে। তারা ‘ফ্ল্যাগ মার্চ’ করে অবস্থান জানান দিয়েছে। মাইকে ঘোষণা করা হয়েছে কারফিউ জারির কথা। কিন্তু কয়েকটি এলাকায়, বিশেষ করে জম্মু শহরের পুরাতন অংশে, সেসব গ্রাহ্য না করে বিক্ষোভকারীদের রাস্তায় অবস্থান নিতে দেখা গেছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ