বুধবার ০৫ আগস্ট ২০২০
Online Edition

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বিদায়বেলার সমুদ্রবিলাস

মনটা যেন আজ পাখির ডানা, হারিয়ে যেতে তাই নেইতো মানা। হ্যাঁ সদ্য স্নাতকের পাঠ চুকিয়ে আমরা নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি বিভাগের দ্বিতীয় ব্যাচের শিক্ষার্থীরা হারিয়ে গিয়েছিলাম সমুদ্রে। হাসি আনন্দে মেতে উঠতে গিয়েছিলাম নীল পানি ঘেরা দ্বীপ সেন্টমার্টিনে।
১৪ নভেম্বর রাত ১০ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বর থেকে টেকনাফের উদ্দেশ্যে আমাদের বাস ছাড়ে। ১৫ নভেম্বর সকালে টেকনাফ পৌঁছে হালকা নাস্তা করেই আমরা জাহাজে করে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশ্যে রওনা হই।
একদিকে আরাকান পাহাড় ঘেরা মিয়ানমার আর অন্যদিকে সবুজের সমারোহে আচ্ছন্ন প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ। সাদা রঙের সি-গাল পাখিগুলো পথ প্রদর্শকের মতো ছুটে চলছে আমাদের জাহাজের সঙ্গে তাল মিলিয়ে। আকাশের নীল আর সমুদ্রের নীল মিশে যাওয়া, তীরে বাঁধা নৌকা, নান্দনিক নারিকেল বৃক্ষের সারি আর ঢেউয়ের ছন্দে মৃদু পবনের কোমল স্পর্শ উপভোগ করতে করতেই আমরা দুপুর প্রায় ১২ টায় দিকে সেন্টমার্টিন পৌঁছে যাই।
হোটেলে পৌঁছেই দুপুরের খাওয়া এবং খানিকক্ষণ বিশ্রাম শেষে আমরা চলে যাই সমুদ্র সৈকতে। সৈকতে পৌঁছাতে না পৌঁছাতেই নীল জলের সফেদ ফেনার ঢেউ একে একে আছড়ে পড়লো আমাদের পায়ের কাছে।
পরদিন সকালে সূর্যোদয়ের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য উপভোগ শেষে জেটিতে এসে আমরা ট্রলারে করে ছেড়া দ্বীপের উদ্দেশ্যে রওনা হই। মাথার উপরে ঘন নীলাকাশ আর চারদিকে স্বচ্ছ জলের নীল সাগরে ইঞ্জিনের বিকট শব্দে হেলেদুলে এগিয়ে চলছে আমাদের ট্রলার। ট্রলার থেকেই চোখে পড়ে প্রবালের প্রাচীর আর কেয়া গাছের বেষ্টনী ঘেরা ছেড়া দ্বীপ।
জনমানবশূন্য ছেড়া দ্বীপে কেয়া বন ছাড়া বিশেষ কোনো গাছ কিংবা প্রাণী চোখে পড়েনি। চারদিকে শুধু প্রবাল আর প্রবাল। ব্যাপক ঘুরাঘুরি আর সেলফিবাজি শেষে ক্লান্ত দেহকে প্রশান্ত করার জন্য চলে ডাব খাওয়া। উদ্দেশ্য এবার সেন্টমার্টিনে পুনরায় ফিরে যাওয়া। এইদিন সেন্টমার্টিনে অবস্থান করে পরেরদিন দারুচিনি দ্বীপকে বিদায় জানিয়ে রওনা হলাম কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে। সেখান থেকে কেনাকাটা এবং রাতের খাবার শেষে বেশকিছু সুখ স্মৃতি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ফিরে আসি।
-কামরুল হাসান শাকিম ও আবুল হাসান

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ