সোমবার ১০ আগস্ট ২০২০
Online Edition

দশ হাজার মেট্রিকটন ধান উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা

রামগঞ্জ (লক্ষ্মীপুর) সংবাদদাতা: বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) চাঁদপুর সেচ প্রকল্পের অধীনে (এন আই বি-৫) খালের রামগঞ্জ অংশের শাখা খালগুলোতে পানি না থাকায় প্রায় দশ হাজার মেট্রিকটন ধান উৎপাদনে ব্যহত হওয়ার আশঙ্কায় কৃষকরা। বোরো ধান বপনের মাসাধীক অতিক্রম করলে ও পাউবোর খালে পানি না থাকায় মৌসুমের শুরুতেই দুশ্চিন্তার মধ্যে পড়েন জেলার রামগঞ্জ উপজেলার ১নম্বর কাঞ্চনপুর, ৫নম্বর চন্ডীপুর, ৪নম্বর ইছাপুর-নয়নপর-নারায়নপুর-শ্রীরামপুর ও ৬নম্বর লামচর ইউনিয়নের কয়েক হাজার কৃষক।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আবাদি জমিগুলো পানির অভাবে মাটি ফেটে চৌচির হয়ে আছে। বোরো ধান গাছগুলি লালছে আকার ধারন করে প্রায় নষ্ট হয়ে গেছে। এতে দিশেহারা হয়ে চাষীরা উপজেলা কৃষি অফিসসহ বিভিন্ন দপ্তরে পানি সংকট সমাধানের জন্য লিখিত আবেদন করলেও কোনো ফল মিলেনি।
এব্যপারে চন্ডীপুরের কৃষক তাকদীর হোসেন বলেন, আমি এবছর এনজিও সমিতি থেকে ঋণ নিয়ে আমার ১২০ শতাংশ জমিতে বোরোধান রোপন করি। কিন্তু রোপনের পরেই খালে পানি সরবরাহ না থাকায় মাঠ শুকিয়ে যাচ্ছে। ধানের চারা লাল হয়ে গেছে।
ইছাপুরের কৃষক মোঃ ফারুক হোসেন বলেন, ১৩০ শতাংশ জমিতে ধার দেনা করে বোরো ধানের চাষ করেছি, কিন্তু পানির অভাবে ধানগাছগুলো নষ্ট হয়ে গেছে। এখন কীভাবে দেনা পরিশোধ করবো সে চিন্তায় আছি।
কৃষক সেরাজুল হক, কাশেম, বাবুলসহ বেশ কয়েকজন কৃষক জানান, অভাব অনটনের মধ্যেই ধারদেনা করে বোরো আবাদ করেছি, কিন্তু খালে পানি না থাকায় ধানগাছগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
কৃষক ছেরাজুল হক জানান, চাষাবাদের শুরুতে একবার পানি দেয়া হলে আমরা মাঠে ধানের চারা লাগাই। কিন্তু ধানের চারা লাগানোর পর থেকে খালে কোন পানি দেয়া না হওয়ায় বিপাকে রয়েছি।
উপজেলা কৃষলীগের সভাপতি আবুল কাশেম মাষ্টার জানান, স্থানীয় কৃষদের সাথে কথা বলার পর বেশ কয়েকজন কৃষককে সাথে নিয়ে পাউবোর খালে পানি সরবরাহ করার জন্য ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট লিখিত আবেদন করেছি।
এব্যপারে জানতে চাইলে চাঁদপুর সেচ প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী রুহুল আমিন বলেন, আমরা একবার পানি দিয়েছি। তবে উক্ত খালে কয়েক জায়গায় ব্রীজ নির্মান করার কারনে ঠিকাদাররা বাধ নির্মান করায় পানি সরবরাহ হচ্ছে না। আমরা ইতোমধ্যে নোটিশ দিয়ে খালে বাধ ও মাছ চাষে ব্যবহৃত বেড়া-গড়া তুলে ফেলার জন্য। আশা করছি দুই তিনদিনের ভিতরে একটা সমাধানে আসতে পারবো।
রামগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তানভীর আহমেদ সরকার বলেন, এবছর এ প্রকল্পের অধীনে প্রায় ২হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ও ১২শ হেক্টর জমিতে রবি শষ্য আবাদ করেছে স্থানীয় কৃষকরা। পানি সংকট সমাধানের জন্য চাঁদপুর সেচ প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে।
এব্যপারে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার মোহাম্মদ রিজাউল করিম বলেন, বিষয়টি আমি স্থানীয় কৃষকদের কাছ থেকে জেনে জেলা প্রশাসক মহোদয়কে জানিয়েছি। লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক চাঁদপুর জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে বিষয়টির সমাধানের চেষ্টা করছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ