বুধবার ১২ আগস্ট ২০২০
Online Edition

বগুড়ার আদমদীঘিতে নাগর নদে বালু উত্তোলনের মহোৎসব

বগুড়া অফিসঃ বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার কুন্দগ্রাম ও চাঁপাপুর ইউনিয়নের পাশ ঘেঁষে প্রবাহিত নাগর নদী থেকে এক্সেভেটর মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনের মহোৎসব চলছে। এতে করে ওই এলাকার কয়েকটি গ্রামসহ ফসলী জমি ও ঘর বাড়ি মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। আর সেই কারণে দিন দিন নাগর নদটি তার আপন সত্তা হারিয়ে এখন রাক্ষসী রূপ ধারণ করেছে।
জানা যায়, উপজেলার কুন্দগ্রাম ইউনিয়নের কতিপয় রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তি স্থানীয় প্রশাসনের গোপন সহায়তায় এক্সেভেটর মেশিন দিয়ে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলনের পর তা বিক্রি করে দিন দিন কোটিপতি বুনে যাচ্ছেন। প্রতিবার নদীর বাঁধ ভেঙ্গে নদী এলাকার হাজার হাজার হেক্টর আমন ফসলের জমি বন্যা কবলিত হয়ে পড়ছে। আদমদীঘির কুন্দগ্রাম ইউনিয়নের পূর্ব প্রান্ত দিয়ে চাঁপাপুর ইউনিয়ন হয়ে এই নদীটি আত্রাই নদীতে মিলিত হয়েছে। এক সময় কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রতিসরে থাকাকালীন এই নদী দিয়েই নৌকা যোগে যাতায়াত করতেন। ফলে এই নদীকে বলা হতো কবিগুরুর যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম নাগর নদের নৌকা। বেশ কয়েক বছর ধরে অবৈধ মাটি ও বালি ব্যবসায়ীদের কারণে নদীটি এখন তার আপন সত্তা হারিয়ে রক্ষসী রূপ ধারণ করেছে। অবৈধ বালু ব্যবসায়ীরা ক্ষমতাশীন দলের নামধারী নেতা ও প্রভাবশালী নেতাদের ছত্রছায়ায় থেকে দেদারচ্ছে স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে এ কাজটি করে যাচ্ছে। কুন্দগ্রাম-চাঁপাপুর মিলে অন্তত ১২টি পয়েন্টে এভাবে এক্সেভেটর মেশিন দিয়ে নদী থেকে বালু তোলা হচ্ছে।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ওই এলাকার পেশাদার বালু উত্তোলনকারিরা নাগর নদের কুশাবাড়ি ব্রীজ সংলগ্ন হরিয়ানমারা পয়েন্ট, ফুলবাগিচা, চাঁপাপুরের পালনকুড়ি-বাঘাদহ সহ দুই ইউনিয়নের অন্তত ১০ থেকে ১২ পয়েন্ট থেকে মাটি ও বালু এক্সেভেটর মেশিন দিয়ে উত্তোলন করে ইট ভাটায় বিক্রয় করছে। ফলে ওই নদীর বালু ও মাটি ইট ভাটা গিলে খাচ্ছে বিনিময়ে পাচ্ছে তারা অগনিত টাকা। বর্ষা মৌসুম এলে প্রতি বারই পানির তোরে ভেঙ্গে যায় বাঁধ ক্ষতি হয় হাজার হাজার হেক্টর ফসলী জমির। নদী শাসন বিভাগ, পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রায় প্রতি বারই বাঁধ নির্মাণের কাজ করে থাকে। আর এ কাজে সরকারকে প্রতিনিয়তই রাজস্ব কোষাগারের কোটি কোটি টাকা লোকসান পেতে হচ্ছে।
একটি বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, এ সকল অবৈধ মাটি ও বালু ব্যবসায়ীরা স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে জেলা প্রশাসনকেও ম্যানেজ প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখেছে। ফলে তারা দেদারছে প্রত্যহ শত শত ট্রাক মাটি ও বালু এই নদী থেকে জেলার বিভিন্ন ইট ভাটায় এমনকি পার্শ্ববর্তী নওগাঁ জেলার ইট ভাটাগুলোতেও বিক্রি করছে।
আদমদীঘি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম জানান, যে এলাকা থেকে বালু উত্তোলন করা হয় সেই এলাকা প্রত্যন্ত দুর্গম এলাকা হওয়ায় পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছার আগেই অপরাধীরা পালিয়ে যায়। তবে অচিরেই এদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। আদমদীঘি উপজেলা নির্বাহি অফিসার সাদেকুর রহমান জানান, উপজেলায় সরকারি ভাবে চিহিৃত কোন বালু মহল নেই। অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ