সোমবার ১০ আগস্ট ২০২০
Online Edition

চট্টগ্রামে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় ৫ নিহত ॥ আহত ৫

চট্টগ্রাম ব্যুরো- চট্টগ্রামে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় ৫ জন নিহত ও ৫ জন আহত হয়েছেন। মিরসরাই সংবাদদাতা জানান, চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে লরি ও মাইক্রো বাসের ঘর্ষণে অগ্নিদগ্ধ হয়ে স্বামী-স্ত্রী চালকসহ তিনজন পুড়ে অঙ্গার হয়ে মারা গেছেন। অগ্নিদগ্ধ হয়ে হাসপাতালের বেডে কাতরাচ্ছে একই পরিবারের দুই শিশু। এছাড়া একই ঘটনায় আহত হয়েছে পরিবারের দুইজন।
গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৭টায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নিজামপুর এলাকায় মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় দগ্ধ শিশুদের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদেরকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ বার্ণ ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়েছে। নিহতরা হলেন, আব্দুর রহমান (৬৫) ও তাঁর স্ত্রী বিবি কুলছুম (৫৫) এবং মাইক্রো বাসের চালক মাহবুব আলম (৩০)। এরা সবাই পুড়ে অঙ্গার হয়ে গেছেন। ঘটনাস্থল থেকে ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধার কর্মীরা তাদের দেহাবশেষ বলতে পোড়া কঙ্কালটুকুই উদ্ধার করতে পেরেছে। এ ঘটনায় দগ্ধ দুই শিশু আব্দুল মালেক রনি (১২) ও রাসেল (০৯)। সম্পর্কে তারা নিহত আব্দুর রহমানের নাতি হয়। এছাড়া ওই দুর্ঘটনায় আহত হন তার ছেলে আবুল কালাম ও ছেলের শ্যালক আবুল হাসান। পুলিশ জানায়, মারাত্মক দগ্ধ অবস্থায় শিশু রনি ও রাসেলকে প্রথমে মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে শারীরিক অবস্থার অবনিত হলে তাদেরকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ বার্ণ ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়। আহত ও নিহতরা সবাই একই পরিবারের সদস্য (মাইক্রোবাসের চালক ছাড়া)। তাদের বাড়ি কুমিল্লা জেলার মনোহরগঞ্জ থানার হাসনাবাদ ইউনিয়নের কমলপুর গ্রামে। চালক মাহবুব আলমের বাড়ি নোয়াখালির চাটখীল উপজেলার বানসা এলাকায়। ওইদিন দুর্ঘটনার পরপর ঘটনাস্থলে উদ্ধার তৎপরতা চালিয়েছে মিরসরাই ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের উদ্ধার কর্মী ও জোরারগঞ্জ হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা।
প্রত্যক্ষদর্শী, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধার কর্মীরা জানায়, মহাসড়কের হাদিফকিরহাট এলাকায় চট্টগ্রামমুখী একটি মাইক্রোবাস (ঢাকা মেট্রো চ ১৫-২০৩৫) নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে চলন্ত লরিকে পেছন দিক থেকে ধাক্কা দেয়। এতে মাইক্রোবাসটি লরির পেছনে আটকে যায়। পরে লরিটি চলতে থাকলে দুই গাড়ি ও সড়কে উপর্যুপরি ঘর্ষণ হয়। নিজামপুর কলেজ গেইট আসার পর মাইক্রোবাসের সামনের দিক থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। এতে মাইক্রোবাসের ভেতর থাকা সাতজনের মধ্যে তিনজন আগুনে পুড়ে মারা যান। দগ্ধ হয় দুই শিশু। মাইক্রোবাসের দরজা খুলে বেরিয়ে পড়ায় প্রাণে বেঁচে যান দুইজন।
প্রত্যক্ষদোশী আব্দুল আউয়াল তুহিন, আব্দুল মান্নান ও রিয়াদ হোসেন বলেন, জীবনে অনেক দুর্ঘটনা অগ্নিকান্ড দেখেছি। কিন্তু এমন ঘটনা আর চোখে পড়েনি। মুহূর্তের মধ্যে জীবন্ত মানুষগুলো পুড়ে অঙ্গার হয়ে গেছে। তাঁরা প্রথমে বাঁচতে অনেক চিৎকার করেছে। ভয়াবহ আগুনের কারণে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। তবে লরিকে ধাক্কা দেয়ার সাথে সাথে যদি দাঁড়িয়ে যেত তাহলে এমন দুর্ঘটনা ঘটতো না।
মিরসরাই ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল স্টেশন কর্মকর্তা রবিউল আজম রবিন জানান, ধারণা করা হচ্ছে লরির পেছনে আটকে থাকা মাইক্রোবাসের সাথে সড়কের ঘর্ষণের ফলে সৃষ্ট স্ফুর্লিঙ্গ থেকেই আগুনের সুত্রপাত। তাছাড়া মাইক্রোতে অনেক দাহ্যবস্তু ছিল যা আগুন  জ্বলতে যেগুলো সহায়তা করে। মাইক্রোর দুটি সিলিন্ডারের একটিও বিস্ফোরিত হয়নি।
জোরারগঞ্জ হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (এসআই) সোহেল সরকার জানান, ‘নিহতদের দেহাবশেষ তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত মাইক্রোবাসটি উদ্ধার করা হয়েছে। লরিটির খোঁজ পাওয়া যায়নি।
এদিকে নিহত আব্দুর রহমান ও বিবি কুলছুমের ছেলে মোঃ রুবেল হোসেন জানান, দুবাই থাকা তাঁর বড় ভাই আব্দুল মমিন দুই বছর পর দেশে আসে গত পরশু। আসার পর রাতে চট্টগ্রাম শহরে তার বাসায় থাকে। তাকে আনতে মাইক্রোবাসযোগে মঙ্গলবার বাড়ি থেকে চট্টগ্রাম যাচ্ছিলো মা বাবা, এক ভাই, ভাইয়ের শ্যালক ও দুই ভাতিজা। পথে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে তারা। রুবেল আরো জানান, তার দুই ভাতিজা স্থানীয় একটি মাদ্রাসার ছাত্র।
নিহত আব্দুর রহমানের প্রতিবেশী মোরশেদ আলম বলেন, গতকাল রাতেও তাঁর সাথে বাড়িতে কথা হয়েছে। ভোরে স্বপন ভাইকে নিয়ে আসতে চট্টগ্রাম শহরে যাবে বলে জানায়। কিন্তু আজ সকালে মৃত্যুর খবর পেয়ে প্রথমে কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। মারা যাওয়ার পর চেহারা দেখার সুযোগ হয়নি। মহুতে কি-যে হয়ে গেল! আমাদের বাড়ির সকলের মুরব্বী ছিলেন রহমান চাচা। তাদের মর্মান্তিক মৃত্যুতে পুরো এলাকার মানুষের মধ্যে শোকের ছায়া বিরাজ করছে। মঙ্গলবার বিকাল ৫টায় জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাদের দাফন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার বিকালে রুবেল হোসেন জানান, অগ্নিদগ্ধ তাঁর দুই ভাতিজা রণি ও রাসেলকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ বার্ণ ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে।
এদিকে চট্টগ্রাম নগরীর চান্দগাঁওয়ের একটি বাসার গ্যাস সংযোগ সারাইয়ের সময় আগুন লেগে দুইজন দগ্ধ হয়েছেন।মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে সিঅ্যান্ডবি সিএন্ডবি টেকবাজার এলাকার শওকত বিল্ডিংয়ে ওই ঘটনায় দগ্ধ হন আয়মান (১৮) এবং সাজ্জাদ (২৪)।সাজ্জাদ ওই ভবনের তৃতীয় তলার বাসিন্দা। আর চান্দগাঁও থানার রশিদ টেন্ডন বাড়ির নুরুল আলমের ছেলে আয়মান গ্যাস সংযোগ মেরামতের কাজ করেন।পুলিশ বলছে, সাজ্জাদের বাসায় গ্যাসের লাইন মেরামত করার সময় আগুন লাগলে দুইজন দগ্ধ হয়।তাদের হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে।
 এদিকে চট্টগ্রামের পটিয়ায় মিনিবাসের ধাক্কায় এক পথচারীর মৃত্যু হয়েছে।সোমবার রাত আটটার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পটিয়া শান্তিরহাটে এ দুর্ঘটনা ঘটে।নিহত মো. ইসহাক মিয়া (৪০) পটিয়ার কুসুমপুরা ইউনিয়নের মৃত ফজল আহম্মদের ছেলে।পুলিশ জানায়,শান্তিরহাট এলাকায় দাঁড়িয়ে থাকা ইসহাককে একটি মিনিবাস ধাক্কা দেয়।গুরুতর আহতাবস্থায় হাসপাতালে আনলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে সীতাকুন্ডের জোড়ামতল এলাকায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় দীপক দত্ত (৩৯) নামে এক মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও একজন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৩টায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।তাৎক্ষনিক আহতের পরিচয় পাওয়া যায়নি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ