রবিবার ০৯ আগস্ট ২০২০
Online Edition

ভালো কোম্পানি তালিকাভুক্তিতে নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টা চালাতে হবে

স্টাফ রিপোর্টার : দরপতনের বৃত্তে থেকে বের হতে পারছে না দেশের শেয়ারবাজার। চলতি সপ্তাহের তিন কার্যদিবসেই শেয়ারবাজারে দরপতন হয়েছে। পুঁজিবাজারের উন্নয়ন করতে হলে ভালো ভালো কোম্পানি তালিকাভুক্ত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে যেসব প্রতিবন্ধকতা আছে তা কাটাতে পদক্ষেপ নিতে হবে। যে ক্ষেত্রে আইনি বাধ্যবাধকতা নেই সে ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ছাড় দিয়ে কোম্পানির সঙ্গে সমঝোতা করতে হবে। পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে এ জন্য নিরবচ্ছিন্নভাবে প্রচেষ্টা চালাতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।
গতকাল মঙ্গলবার প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সবকটি মূল্যসূচকের পতন হয়েছে। মূল্যসূচকের পতন হলেও এদিন ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ কিছুটা বেড়েছে। সেই সঙ্গে সঙ্গে যে পরিমাণ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমেছে বেড়েছে তার থেকে বেশ। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেয়া ১৫৫টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ১৪৮টির। আর অপরিবর্তিত রয়েছে ৪৫টির দাম। বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার পরও ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ১ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৭৩১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অপর দুটি মূল্যসূচকের মধ্যে ডিএসই-৩০ আগের দিনের তুলনায় ৩ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৯৯৯ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আর ডিএসই শরিয়াহ্ সূচক আগের দিনের তুলনায় ২ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৩০৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের সার্বিক মূল্যসূচক সিএসসিএক্স ১৪ পয়েন্ট কমে ১০ হাজার ৬২০ পয়েন্টে অবস্থান করছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ২৯ কোটি ৮১ লাখ টাকা। লেনদেন হওয়া ২৬৮টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৩৪টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ১০৬টির। আর দাম অপরিবর্তিত রয়েছে ২৮টির।
এ ব্যাপারে গতকাল ‘দীর্ঘমেয়াদী অর্থায়নে শেয়ারবাজারের গুরুত্ব’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান বক্তার বক্তব্যে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ও বিএসইসির সাবেক চেয়ারম্যান এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, দেশে সুস্থ পুঁজিবাজার থাকলে বিদেশি বিনিয়োগ আসতে পারে এ জন্য বিনিয়োগ কাঙ্খিত পর্যায়ে রাখতে হবে। আমাদের নতুন ভালো প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) আনতে হবে। ভালো কোম্পানি কেন আসতে চাই না, সেই প্রতিবন্ধকতা কাটাতে পদক্ষেপ নিতে হবে। যে ক্ষেত্রে তালিকাভুক্তিতে আইনি বাধ্যবাধকতা নেই, সে ক্ষেত্রে সমঝোতাই একমাত্র পন্থা। নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে ভালো কোম্পানি আনতে হবে। এ জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টা চালাতে হবে। ভালো কোম্পানিকে ভালো প্রিমিয়াম দেয়া যেতে পারে। তবে বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে যে প্রাইসিং হচ্ছে তা অনেক ক্ষেত্রেই যথার্থ না। এ জন্য বিএসইসিকে কিছু পরিবর্তন আনতে হবে।
তিনি বলেন, ২০০৮-০৯ অর্থবছরে বেসরকারি বিনিয়োগ ছিল ২১ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ। এক দশক পর ২০১৭-১৮ অর্থবছরে এর পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৩ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ। অর্থাৎ এক দশকে বেসরকারি বিনিয়াগ মাত্র দুই শতাংশের মতো বেড়েছে। বেসরকারি বিনিয়োগের প্রতিবন্ধকতা দূর করা গেলে তা শেয়ারবাজারেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
বিএসইসির চেয়ারম্যান খায়রুল হোসেন বলেন, আমরা পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এবং অর্থমন্ত্রী ও সাবেক অর্থমন্ত্রী প্রয়োজনে প্রধানমন্ত্রীকে অন্তর্ভুক্ত করে দীর্ঘস্থায়ী স্থিতিশীল পুঁজিবাজার গড়ে তুলতে কাজ করছি। আইন মেনেই আমরা আইপিও অনুমোদন দেই। কোনো কোম্পানি শেয়ার দাম ধরে রাখতে পারছে, আবার কেউ পারছে না। এক্ষেত্রে আমাদের করার কিছু থাকে না। আইপিওর আগে আমরা কোম্পানি পরিদর্শন করি না, পরিদর্শন করে স্টক এক্সচেঞ্জ ও মার্চেন্ট ব্যাংক। মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোকে মানসম্পন্ন আইপিও আনাতে হবে। 
ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী বলেন, পুঁজিবাজার ভালো করতে হলে ভালো কোম্পানির বিকল্প নেই। গত ৮-১০ বছরে হাতেগোনা দুই-একটি ছাড়া ভালো কোম্পানি পুঁজিবাজারে আসেনি। যতদিন দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ব্যাংক থেকে ঋণ পাওয়া যাবে, ততদিন মুনষ ব্যাংকে ছুটবে। যখন ব্যাংক থেকে দীর্ঘমেয়াদী ঋণ পাওয়া যাবে না তখন মানুষ আপনা আপনিই পুঁজিবাজারে আসবে।
এদিকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির উদ্যোক্তা পরিচালকদের শেয়ার বিক্রির মতো বোনাস লভ্যাংশের ক্ষেত্রেও লকিং প্রথা চালু হবে বলে জানিয়েছেন বিএসইসি চেয়ারম্যান এম খায়রুল হোসেন। তিনি বলেন, উদ্যোক্তাদের শেয়ার তিন বছর লকিং (বিক্রি না করার বাধ্যবাধকতা আরোপ) থাকে। কিন্তু দেখা গেল এক বছর যেতে না যেতেই তারা শেয়ার বিক্রির সুযোগ পেয়ে যান। কারণ বোনাস দেয়ার একটা প্রবণতা আছে। বোনাস দিলে দেখা যায় বিনিয়োগকারীরা খুশি হয়ে যান। কারণ ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিলে ১ টাকা পাওয়া যায়। বোনাস ১০ শতাংশ দিলে শেয়ারের দাম ৫০ টাকা হলে আপনি লাভবান হচ্ছেন। কিন্তু এতে দীর্ঘ মেয়াদে কোম্পানির লভ্যাংশ দেয়ার সক্ষমতা কমে যায়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ