বুধবার ১২ আগস্ট ২০২০
Online Edition

৫ বছরে দুধ উৎপাদন হয়েছে ২৪ লাখ মেট্রিকটনের বেশী

মোহাম্মদ নুরুজ্জামান, রংপুর অফিস : রংপুর বিভাগের ৮ জেলায় গত ৫ বছরে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ২৪ লাখ মেট্রিকটনের বেশী দুধ উৎপাদন করে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর এক অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে।
রংপুরের বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে- একই সময়ে এসব জেলায় প্রায় সোয়া ১৯ লাখ মেট্রিকটন দুধ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল। তবে রংপুর অঞ্চলের সার্বিক অনুকূল আবহাওয়া এবং মানুষের চাহিদা পূরণ সহ গবাদীপ্রাণী পালনে উৎসাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে প্রত্যাশার চেয়ে প্রায় ৫ লাখ মেট্রিকটন দুধ বেশী উৎপাদন হয়েছে বলে জানা গেছে।
জেলাগুলো হচ্ছে-রংপুর, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট, নীলফামারী, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও এবং পঞ্চগড়।
প্রাপ্ত সূত্রে জানা গেছে, প্রাণিসম্পদেও উন্নয়নে সরকারের যুগোপযোগী প্রণোদনামূলক বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণের ফলে রংপুর বিভাগের প্রত্যন্ত পল্লী এলাকার মানুষ ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে গবাদিপ্রাণী পালনে ক্রমান্বয়ে উৎসাহিত উঠেছে। এছাড়া নদী বিধৌত চরাঞ্চলগুলোতে গবাদী প্রাণী পালনের প্রবণতাও ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে নিজেদের ব্যক্তিগত প্রয়োজনের পাশাপাশি আর্থসামাজিক উন্নয়নের স্বার্থে পারিবারিক এবং সমষ্টিগত চাহিদা পূরণ করে এই অঞ্চলের মানুষ বাণিজ্যিকভাবে গবাদিপ্রাণী পালনে ছোট-বড় বিপুল সংখ্যক গাভীর খামার গড়ে তুলেছেন। ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণ এবং প্রয়োজনের তাগিদে এই অঞ্চলের বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ গরু, মহিষ, ছাগল এবং ভেড়া পালন করে নিজস্ব উদ্যোগে আত্মনির্ভরশীল হয়ে উঠছে। এর ফলে বর্তমানে রংপুর বিভাগের ৮ জেলায় প্রায় ২ কোটি গবাদি প্রাণীর বিশাল মজুদ গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত সাড়ে ৮ হাজার গাভীর খামারে প্রায় ২০ লাখ ২৫ হাজার দেশী ও শংকর জাতের প্রজননক্ষম গাভী, প্রায় দেড় হাজার খামারে ৩৫ হাজারের বেশী প্রজননক্ষম মহিষ, প্রায় ২ হাজার সাড়ে ৬ শো ছাগলের খামারে প্রায় ৪১ লাখ ছাগল এবং আড়াই হাজারের বেশী ভেড়ার খামারে প্রায় ৭ লাখ ভেড়া মজুদ গড়ে উঠেছে। এসব খামার থেকে প্রতিনিয়ত দুধের উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
প্রাপ্ত সূত্রে আরও জানা গেছে, গবাদি প্রাণীর ক্রমবর্ধমান সম্প্রসারনের লক্ষ্যে ব্যক্তি উদ্যোগ ও খামার ব্যবস্থাপনার ব্যাপক হারে উৎসাািহত করার জন্য রংপুর বিভাগের ৮ জেলার বিভিন্ন সম্ভাবনাময় স্থানে ইতোমধ্যে ১৬৭ টি কৃত্রিম প্রজনন উপকেন্দ্র এবং কৃত্রিম প্রজনন পয়েন্ট স্থাপন করে দীর্ঘদিন ধরে ধারাবাহিকভাবে এসবের উন্নত জাত সম্প্রসারণ কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হয়েছে। এসব কৃত্রিম প্রজনন উপকেন্দ্র এবং কৃত্রিম প্রজনন পয়েন্টে প্রাণী সম্পদ অধিদফতরের দক্ষ জনশক্তির পাশাপাশি প্রায় পাঁচ শতাধিক স্বেচ্ছাসেবী উন্নত জাতের প্রজনন সম্প্রসারণে সেবা প্রদান করছে। এই নিরলস শ্রমের ফসল হিসেবে বর্তমানে রংপুর বিভাগের ৮ জেলার বিভিন্ন স্থানে দেশী এবং উন্নত শংকর জাতের প্রায় ২১ লাখ গাভীর বিশাল মজুদ গড়ে উঠেছে।
অনুসন্ধান নিয়ে জানা গেছে, গত ৩ বছরেই এই অঞ্চলে দুধ উৎপাদনের হার ব্যপক প্রবৃদ্ধি ঘটেছে। এর মধ্যে রংপুর এবং দিনাজপুর জেলায় দুধ উৎপাদন হয়েছে সবচেয়ে বেশী। গত ৩ বছরে রংপুর বিভাগের ৮ জেলায় দুধ উৎপাদনের লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছিল ১২ লাখ ৪৬ হাজার মেট্রিকটন। সেই লক্ষমাত্রা ছাড়িয়ে এসব জেলায় একই সময়ে প্রায় ১৭ লাখ ৩২ হাজার মেট্রিকটন দুধ উৎপাদন হয়েছে। এর মধ্যে রংপুর জেলায় দুধ উৎপাদন হয়েছে প্রায় ৪ লাখ মেট্রিকটন। দিনাজপুর জেলায় দুধ উৎপাদন হয়েছে প্রায় পৌণে ৪ লাখ মেট্রিকটন। গাইবান্ধা জেলায় দুধ উৎপাদন হয়েছে প্রায় ২ লাখ মেট্রিকটন। নীলফামারী জেলায় দুধ উৎপাদন হয়েছে প্রায় পৌণে ২ লাখ মেট্রিকটন। লালমনিরহাট জেলায় দুধ উৎপাদন হয়েছে প্রায় দেড় লাখ মেট্রিকটন।
এছাড়া, কুড়িগ্রাম, ঠাকুরগাঁও এবং পঞ্চগড় জেলায় প্রায় সোয়া লাখ মেট্রিকটন কোরে দুধ উৎপাদন হয়েছে। পাটগ্রাম উপজেলার কলেজ শিক্ষক মওলা বক্স জানালেন তিনি নিজ পেশার অবশরে ৫ টি গাভি পালন করে স্বাবলম্বি হয়েছেন। রংপুর সদর উপজেলার মমিনপুরের কাশেম তার নিজ প্রচেষ্টায় গড়ে ওাঠা ক্ষুদ্র গাভীর খামার দিয়ে পরিবার লালন করছেন। এখন তাকে পিছনে ফিরে তাকাতে হয়না। এচিত্র রংপুর অঞ্চলের সর্বত্র।
 প্রাণী সম্পদ অধিদফতরের পরিচালক ডাক্তার শেখ আজিজুর রহমান এই প্রতিনিধিকে জানান, রংপুর অঞ্চলের অনুকুল আবহাওয়ার পাশাপাশি ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণ এবং প্রয়োজনের তাগিদে এই অঞ্চলের বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ জন গরু-মহিষ-ছাগল-ভেড়া পালন করে সাম্প্রতিককালে দুধ উৎপাদনে বেশ জোর দিয়েছে। এজন্য উন্নত জাতের কাঁচা ঘাষ সহ এসবের উন্নত খাদ্য উৎপাদনেও অনেকে এগিয়ে আসছে। পাশাপাশি সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে যুগোপযোগী নানা ধরনের কারিগরী সহায়তা এবং প্রনোদনা দেয়া হচ্ছে। গবাদিপ্রাণী পালনে মান সম্পন্ন খাদ্য সমস্যা কিছুটা থাকলেও খাদ্য ঘাটতি অনেকটাই পূরণ হয়ে আসছে। এছাড়া মানুষ নিজের প্রয়োজনের তাগিদে সবচেয়ে বড় উপকরণ খড় এবং উন্নত জাতের ঘাষের ব্যাপক হারে চাষ করছে। ফলে রংপুর অঞ্চলে ব্যাপক হারে দুধ উৎপদনের লক্ষ্যে গবাদি প্রাণীর পালন এখন প্রতিযোগিতা মুলক এবং লাভজনক হয়ে উঠেছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ