রবিবার ০৯ আগস্ট ২০২০
Online Edition

খুলনার ইনস্টিটিউট অব লাইভস্টক সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি চলতি বছরেও চালু হচ্ছে না

খুলনা অফিস : খুলনার ইনস্টিটিউট অব লাইভস্টক সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি (আইএলএসটি) চলতি বছরেও চালু হচ্ছে না। নকশা পরিবর্তন ও বহুতল ভবন নির্মাণে মাটির কার্যক্ষমতা না থাকার কারণে অবকাঠামোগত উন্নয়ন শেষ হচ্ছে না। দীর্ঘ ৪ বছর ধরে প্রকল্পটি ঝুলে ছিল। কর্তৃপক্ষ বলছে, ইনস্টিটিউট নির্মাণের নকশা পরিবর্তনের কারণেই এমন দেরি হয়েছে।

খুলনা জেলা প্রাণি সম্পদ অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালের জুলাই মাসে ইনস্টিটিউট অব লাইভস্টক সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি (আইএলএসটি) একটি প্রকল্প গ্রহণ করে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর। প্রাথমিকভাবে খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার শাহপুরে এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণে জায়গা বাছাই করা হয়। ৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে এ কাজের জন্য তিন একর জায়গা চূড়ান্ত করে। এরপর মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর। জমি অধিগ্রহণের কাজ শেষ হয় দুই বছর আগে। যার মূল্য পরিশোধ করা হয় ৭০ লাখ ১৭ হাজার টাকা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রটি জানিয়েছে, প্রকল্পটি ২০১৪ সালের পয়লা জুলাই থেকে শুরুর পর জমি অধিগ্রহণ করে পাইল নির্মাণ শুরু করতেই চলে গেছে চার বছর। প্রতিষ্ঠানটি নির্মাণের জন্য নির্ধারিত জায়গা পানিবদ্ধ ছিল। যার ফলে ভবন নির্মাণ করতে পারছিল না ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। দীর্ঘদিন শুধু জমি অধিগ্রহণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল এর কার্যক্রম। ২০১৮ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে এটি নির্মাণে গতি পায়। অতিরিক্ত জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ডা. অরুণ কান্তি মন্ডল বলেন, নকশা জটিলতায় এ প্রকল্পের কাজ দীর্ঘদিন ঝুলে ছিল। নতুন করে আবার এর কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। আমরা নিয়মিত প্রকল্পের স্থানটি পরিদর্শন করছি। নির্ধারিত জায়গাটি পানি বদ্ধ ছিল। সেখানে ৫ তলা ফাউন্ডেশন দিয়ে ভবন তৈরি করা সম্ভব হচ্ছিল না। পরবর্তীতে নকশা ঢাকায় পাঠিয়ে নতুন করে তৈরি করা হয়। এসব কাজ করতে সময়ক্ষেপণ হয়েছে বেশি। আরসিসি ঢালাইয়ের কাজ শুরু হয়েছে। আশা করছি, খুব শীঘ্রই মূল ভবনের কাজ শুরু হবে। তিনি বলেন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন হলেই একাডেমিক কার্যক্রম শুরু করা যাবে। এবছর সেটি সম্ভব হবে বলে মনে হচ্ছে না। আগামী বছর নাগাদ একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হবে বলে তিনি জানান।

সূত্রটি আরও জানিয়েছে, এ প্রকল্পে রয়েছে চার হাজার ছয়শ’ বর্গমিটার জমির উপর একাডেমিক ও প্রশাসনিক বহুতল ভবন নির্মাণ, চারশ’ বর্গমিটারের উপর ভেটেরিনারি ও ল্যাবরেটরিজ, পনেরশ’ বর্গমিটারের উপর অডিটোরিয়াম, ক্যাফেটরিয়া ও শিক্ষক ডর্মেটরি, পাঁচশ’ বর্গ মিটারের উপর চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের ডরমেটরি, চারশ’ বর্গ মিটারের উপর ছোট ও বড় প্রাণির জন্য ফার্ম, দুশ’ বর্গমিটারের উপর প্রিন্সিপালের বাসভবন, দু’হাজার পাঁচশ’ ৩০ বর্গ মিটারের উপর ছাত্র এবং ১৫শ’ ৬০ বর্গ মিটার জমির উপর ছাত্রীদের হোস্টেল নির্মাণ। এছাড়া অবশিষ্ট জায়গায় নির্মাণ করা হবে রাস্তা, ড্রেন, খেলার মাঠ, প্রদর্শনী খামার ইত্যাদি। এছাড়া ভবন নির্মাণের পাশাপাশি লাইভস্টক ডিপ্লোমা কোর্স কারিকুলাম প্রণয়ন, কারিকুলাম অনুযায়ী বই তৈরি করে প্রিন্ট করা এবং কোর্স চালুরও কার্যক্রমও রয়েছে এ প্রকল্পে।

তবে এ প্রতিষ্ঠানটি চালু করতে উপর মহলের তদারকি বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির মহসচিব শেখ আশরাফ উজ জামান। তিনি বলেন, এটি চালু হলে কৃষক ও খামারীদের রোগমুক্ত, সুস্থ গবাদি পশু, হাঁস-মুরগি উৎপাদনে পরামর্শসহ অন্যান্য সেবা প্রদান করা সম্ভব হবে। দেশে খাদ্য নিরাপত্তা বৃদ্ধি পাবে। তিনি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নজর বাড়ানোর দাবি করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ