বুধবার ১২ আগস্ট ২০২০
Online Edition

গত এক বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় খুলনা বিভাগে ৩৯২ জন নিহত 

খুলনা অফিস : খুলনায় ১২ ঘন্টার ব্যবধানে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় ৬ জন নিহত হয়েছে। এসময় আহত হয়েছে আরও ৩০ জন। এর মধ্যে সোমবার সকাল ১১টায় খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কের চুকনগরের চাকুন্দিয়ায় পিকনিকের বাস খাদে পড়ে মেঘলা খাতুন (১৪) নামের এক স্কুলছাত্রী নিহত হয়। এর আগে রোববার রাত সাড়ে ১০টার দিকে খুলনার রূপসা সেতু বাইপাস সড়কে প্রাইভেটকার ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে গোপালগঞ্জের ছাত্র ও যুবলীগের ৫ নেতা নিহত হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দুর্ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) খুলনা’র পরিসংখ্যান অনুযায়ী গত এক বছরে খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে ৩৯২ জন। আহত হয়েছে কমপক্ষে ১০০৯ জন। নিহতের মধ্যে পথচারি ও মোটরসাইকেল আরোহির সংখ্যা বেশি। দুর্ঘটনার হার সবচেয়ে বেশি যশোর জেলায়। এর পরের সারিতে রয়েছে সাতক্ষীরা, খুলনা ও কুষ্টিয়া জেলা। খুলনা মহানগরীতে ছোটখাট দুর্ঘটনায় আহতের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।

নাগরিক নেতারা বলেন, এখানে সংখ্যার কম-বেশির চেয়েও যে বিষয়টি জরুরি, তা হলো দুর্ঘটনার কারণ খুঁজে বের করা। সংবাদ মাধ্যমে যেসব খবর এসেছে, তাতে দেখা যায়, চালকদের বেপরোয়া গাড়ি চালানোর কারণেই বেশির ভাগ দুর্ঘটনা হয়ে থাকে। এ ছাড়া ভাঙাচোরা সড়ক, একই সড়কে বিভিন্ন গতির যানবাহন চলাচল, সড়কবাতি না থাকার কারণেও দুর্ঘটনা ঘটে থাকে।

খুলনা জেলা নিসচার সাধারণ সম্পাদক এসএম ইকবাল হোসেন বিপ্লব বলেন, সড়ক দুর্ঘটনার জন্য দায়ি ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, মালিকের অব্যস্থাপনা ও মনিটরিংয়ের অভাব, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, জনগণের অসচেতনতা, অনিয়ন্ত্রিত গতি, রাস্তা নির্মাণে ত্রুটি, রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব এবং আইন ও তার যথাযথ প্রয়োগ না হওয়ায় সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে।

জানা যায়, খুলনা মহানগরী ও জেলায় সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে জেলা প্রশাসনের পাশাপাশি সিটি কর্পোরেশন ও পুলিশ ব্যাপক উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে খুলনা মহানগরীতে যানজট ও দুর্ঘটনা কমাতে ইজিবাইকের লাইসেন্স ও শহরের বাইরের ইজিবাইক শহরে ঢুকতে না দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ট্রাফিক বিভাগ অবৈধ যানবাহন নিয়ন্ত্রণে গাড়ি তল্লাশি ও বৈধ কাগজপত্র নিশ্চিত করতে প্রতিনিয়ত অভিযান চালাচ্ছে। তবে এতকিছুর পরও বন্ধ করা যায়নি অনাকাক্সিক্ষত মৃত্যুর মিছিল। জনউদ্যোগ খুলনার আহবায়ক এডভোকেট কুদরত-ই খুদা বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে সবচেয়ে বড় প্রয়োজন জনসচেতনতা। কিছুদিন আগেই শিক্ষার্থীরা শুধু নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনই করেনি, তারা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে কীভাবে আইন মেনে চলতে হয়। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে কেবল চালক ও যাত্রীকে সচেতন হলে হবে না, পথচারিদেরও সচেতন হতে হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ