বুধবার ১২ আগস্ট ২০২০
Online Edition

আগৈলঝাড়া উপজেলা ৫০ শয্যার হাসপাতাল তিন লক্ষাধিক লোক পাচ্ছে না চিকিৎসাসেবা

এস এম শামীম, আগৈলঝাড়া (বরিশাল) : বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলা ৫০ শয্যা হাসপাতালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, আন্তঃবিভাগে ভর্তি রয়েছে শিশু-বৃদ্ধসহ ৪০জন রোগী। বহিঃবিভাগের চিকিৎসক বখতিয়ার আল মামুনের কক্ষের সামনে চিকিৎসা নিতে আসা অসংখ্য রোগীর ভিড়। এসময় তার কক্ষের মধ্যেও লাইনে দাঁড়িয়ে আছে আরও অনেক রোগী। রোগীর চাপে হিমসিম খাচ্ছে বহিঃবিভাগের একমাত্র চিকিৎসক ডাঃ বখতিয়ার আল মামুন। আগৈলঝাড়া উপজেলা ৫০ শয্যা হাসপাতালে মঞ্জুরীকৃত ২৬ জন ডাক্তারের মধ্যে ২৩ টি পদ শূণ্য থাকায় ব্যহত হচ্ছে কাংঙ্খিত চিকিৎসাসেবা। এছাড়াও ডাঃ আবু বক্কর সিদ্দিক ৮ বছর ও ডাঃ সোমা হালদার ৩ বছর যাবৎ হাসপাতালে অনুপস্থিত রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা চলছে বলে জানাগেছে। উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেই কোন ডাক্তার। রোগীর রোগ নির্নয়ের জন্য হাসপাতালটিতে বিভিন্ন ধরণের যন্ত্রপাতির মধ্যে ইসিজি মেশিন ভাল থাকলেও আলট্রাস্নোগ্রাম মেশিনটি দীর্ঘদিন যাবৎ অকেজো অবস্থায় পরে রয়েছে। কাগজ কলমে হাসপাতালটিতে ১২৭ জনের পদ থাকলেও বর্তমানে আছে ৯১ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী। কর্মকর্তা কর্মচারীদের আবাসিক ভবন দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না করায় সম্পূর্ণ বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সম্প্রতি ভবনের বিভিন্ন স্থানে দেয়াল ও ছাদের কিছু অংশ ধসে পরেছে। যে কোন মুহুর্তে ভবন ধসে বড় ধরনের দূর্ঘটনার আশংকা করছেন বসবাসকৃত কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ।

সার্জারি ও এ্যানেসথেশিয়া ডাক্তারের অভাবে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেক্সে ২টি অপারেশন থিয়েটার থাকলেও হয়না কোন ধরণের অপারেশন। যে কারণে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে অপারেশন থিয়েটারের সরঞ্জামাদি। হাসপাতালের দুটি এ্যাম্বুলেন্সের মধ্যে একটি পরে রয়েছে অচল অবস্থায়। বর্তমানে ৩ জন ডাক্তারের মধ্যে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ একেএম মনিরুল ইসলাম সব সময় ব্যস্ত থাকেন বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজ নিয়ে। ডাঃ মনন কুমার দে ডেন্টাল সার্জন হওয়ায় সাধারণ রোগী দেখতে পারছেন না। পার্শ্ববর্তী গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এর ডাক্তার আব্দুল্লাহ আল মামুনকে ডেপুটেশনে দেয়া হয়েছে আগৈলঝাড়া হাসপাতালে।

পার্শ্ববর্তী  গৌরনদী উপজেলার পশ্চিমাংশ নাঠৈ, উজিরপুরের উত্তরাংশ কারফা-কুড়–লিয়া ও কোটালীপাড়া উপজেলার পূর্বাংশের নাগরা-বান্ধ্যাবাড়িসহ উপজেলার তিন লক্ষাধিক জনগণের চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন বহিঃবিভাগের একমাত্র চিকিৎসক ডাঃ বখতিয়ার আল মামুন। তিনি জানান, প্রতিদিন ১শ থেকে দেড়শ রোগীকে চিকিৎসা সেবা দিতে হয়। দীর্ঘক্ষণ দাড়িয়ে থেকে চিকিৎসা নিতে বাধ্য হয়ে কাংক্সিক্ষত সেবা খেকে বঞ্চিত হচ্ছে রোগীরা। 

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা একাধিক রোগী বলেন, ডাক্তার কম থাকার কারণে ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করে চিকিৎসা নিতে গিয়ে রোগীরা আরও অসুস্থ্য হয়ে পরছে। ডাক্তার না থাকায় জরুরী বিভাগে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে বহিঃবিভাগের ডাক্তারকেই। যে কারণে রোগীর চাপ সামাল দিতে হিমসিম খেতে হচ্ছে ডাক্তারদের। আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ একেএম মনিরুল ইসলাম জানান, ডাক্তারসহ জনবল সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ