শনিবার ০৬ জুন ২০২০
Online Edition

কবে চালু হবে খুলনার শিল্পকলা একাডেমি

খুলনা: শিল্পকলা একাডেমির প্রশাসনিক ভবন ও উন্মুক্ত মঞ্চের নকশা

আব্দুর রাজ্জাক রানা : ঘন ঘন নকশা পরিবর্তন, সেই ব্যয় অনুমোদন এবং নিখুঁতভাবে কাজ শেষ করতে একটু বেশিই সময় লাগছে। তবে যেভাবেই হোক মার্চের মধ্যে কাজ শেষ করবেন প্রকল্পের কর্মকর্তারা। আগামী এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহেই প্রতীক্ষার ক্ষণ শেষ হবে খুলনাবাসীর। চালুর পর এটিই হবে খুলনার সবচেয়ে দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা। ইতোমধ্যে গত বছরের সেপ্টেম্বরে মূল অবকাঠামোর কাজ শেষ হয়েছে। মুক্তমঞ্চ ও দেয়ালের টালি, লোহার সীমানা প্রাচীরসহ আনুষঙ্গিক কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল গত ডিসেম্বরে। চলতি মাসেই খুলনার মানুষের বহু প্রতীক্ষার শিল্পকলা একাডেমি কমপ্লেক্সের যাত্রা শুরুর কথা। তবে জানুয়ারি শেষ হলেও অনেক কাজ এখনও শুরুই হয়নি। চলমান কাজও শেষ হয়নি।
খুলনা জেলা শিল্পকলা একাডেমির কর্মকর্তারা জানান, একটি আধুনিক শিল্পকলা একাডেমি নির্মাণের জন্য অনেক আন্দোলন করেছে খুলনার মানুষ। এর জন্য মিছিল-সমাবেশ এমনকি হরতালও হয়েছে। অবশেষে নগরীর শেরেবাংলা রোডের পুরাতন নার্সিং ইনস্টিটিউটের জায়গায় শিল্পকলা একাডেমি কমপ্লেক্স তৈরির পরিকল্পনা গ্রহণ করে সরকার। প্রথমে প্রকল্পের ব্যয় ছিল ২২ কোটি ৭০ লাখ টাকা।
২০১৫ সালের ১৯ জানুয়ারি চারতলা প্রশাসনিক ভবন, ৫০০ আসনের মিলনায়তন, আর্ট গ্যালারি, মুক্তমঞ্চ নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করে গণপূর্ত বিভাগ। ওই বছরের ১০ জুন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বিসিটিএই ইলোরা জেভির সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি অনুযায়ী ২০১৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে তাদের কাজ শেষ করার কথা ছিল। তবে নকশা না পাওয়া, পুরাতন ভবন অপসারণে দীর্ঘসূত্রতার কারণে সময়মতো কাজই শুরু হয়নি।
পরবর্তী সময়ে দুই ধাপে ২০১৯ সালের জুন মাস পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়। এ সময় স্থাপনাটি আরও দৃষ্টিনন্দন করতে এর নকশায় পরিবর্তন আনা হয়। এতে কাজ করতে আরও সময় লেগেছে, ব্যয়ও বেড়েছে প্রায় ৮ কোটি টাকা।
প্রকল্প এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, আধুনিক স্থাপত্যশৈলীর বিভিন্ন উপকরণ ব্যবহার করে দৃষ্টিনন্দন কয়েকটি স্থাপনা তৈরি করা হচ্ছে। পানির ওপর মুক্তমঞ্চ এবং চার তলা প্রশাসনিক ভবনের কাজ প্রায় শেষ। শেষ হয়েছে ৫০০ আসনের মিলনায়তন, আর্ট গ্যালারি, লিংক করিডোরের ভৌত কাজ। এখন এসব স্থাপনায় সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য কোথাও মাটির টালি, কোথাও মার্বেল, কোথাও গ্রানাইট বসানো হচ্ছে।
ভবন ঘুরে দেখা গেছে, মিলনায়তনের ভেতরে বসার চেয়ার, সিলিং, এসিসহ বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, সাউন্ড সিস্টেমসহ আনুষঙ্গিক কাজ এখনও শুরু হয়নি। আর্ট গ্যালারি থেকে প্রশাসনিক ভবনের লিংক করিডোরের রেলিংয়ের কাজও শুরু হয়নি।
নির্মাণাধীন স্থাপনাটি ঘুরে দেখা গেছে, মূল ভবনের প্রবেশ পথের সামনেই রয়েছে গণপূর্ত বিভাগের একটি সরকারি ভবন। এই ভবনের জন্যই ঢাকা পড়ে গেছে দৃষ্টিনন্দন স্থাপনাটি।
অবশ্য, গণপূর্ত বিভাগ খুলনার নির্বাহী প্রকৌশলী আহমেদ আনোয়ারুল নজরুল জানান, মিলনায়তনের শব্দ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, এসি, লাইট, বৈদ্যুতিক সরঞ্জামসহ আনুষঙ্গিক কাজের দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। মালপত্রও খুলনায় এসেছে। শুরুর দুই মাসের মধ্যে তাদের কাজ শেষ হবে। তিনি বলেন, ভবনের কাজ শেষ হয়েছে আরও আগে। এখন শুধু সৌন্দর্য বর্ধনের ফিনিশিং কাজ চলছে। নিখুঁত ও সুন্দরভাবে কাজ শেষ করতে সময় একটু বেশি লাগছে। তবে মার্চের মধ্যেই সব কাজ শেষ হবে।
এ ব্যাপারে বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির মহাসচিব শেখ আশরাফ উজ জামান বলেন, ২৯ কোটি টাকার একটি প্রকল্পের সৌন্দর্য শুধু একটি সরকারি ভবনের জন্য ঢাকা পড়ে থাকবে-এটা মানা যায় না। অবিলম্বে ওই ভবন অপসারণের দাবি জানান তিনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ