শনিবার ০৬ জুন ২০২০
Online Edition

জনবল সংকটে খুলনা বিভাগীয় পাসপোর্ট  ও ভিসা অফিস ॥ ভোগান্তিতে গ্রাহকরা

 

খুলনা অফিস : খুলনা বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিসে জনবল সংকটের কারণে পদে পদে ভোগান্তিতে পড়ছে গ্রাহকরা। পাশাপাশি নির্দিষ্ট সময় অতিক্রম হওয়ার পরও পাসপোর্ট সরবরাহ করা হচ্ছে না বলে রয়েছে অভিযোগ। তবে পাসপোর্ট অফিস কর্তৃপক্ষের দাবি, জনবল সংকট হলেও তারা গ্রাহকদের সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছে। পাসপোর্ট সরবরাহের বিষয়টি কেন্দ্রীয় বিষয়, খুব দ্রুত এটার সমাধান হয়ে যাবে। পাসপোর্ট অফিস চত্বরে দালালের আনাগোনা নেই বলে স্বস্তিতে গ্রাহকরা।

নগরীর নূরনগরস্থ বিভাগীয় পাসপোর্ট ও ভিসা অফিসে গিয়ে আবেদনপত্র জমা দেওয়ার লাইনে দেখা যায় দীর্ঘ লাইন। পুরুষ ও মহিলাদের দীর্ঘ লাইন ভবনের বাইরে চলে যাওয়ার উপক্রম। কারণ পাসপোর্ট আবেদনকারীদের ভীড় অনেক থাকলেও ভিতরে মাত্র দু’জন কর্মকর্তা সেগুলো রিসিভ করছেন। যার ফলে শুধু আবেদনপত্র জমা দিতেই ঘন্টা খানেক সময় লাগছে। এরপর সেখান থেকে কম্পিউটার রুম ও ছবি তোলার কক্ষেও লাগছে সময়। জনবল সংকটের কারণে প্রত্যেক কক্ষেই সময় বেশি লাগছে বলে একাধিক আবেদনকারী এ তথ্য জানিয়েছেন। পাসপোর্ট করতে আসা মোহাম্মদ জানান, ৪৫ মিনিট লাইনে থাকার পর আবেদনপত্র জমা দিয়েছি। রিসিভ সেকশনে জনবল কম থাকায় সময় বেশি লাগছে যার কারণে ভোগান্তি বাড়ছে। তবে স্বস্তির বিষয় হচ্ছে, পাসপোর্ট অফিস চত্ত্বরে দালালের আনাগোনা নেই। নিজের কাজ নিজেই করা যাচ্ছে। 

এদিকে ডেলিভারী দেওয়ার নির্দিষ্ট সময় অতিক্রম হওয়ার পরও গ্রাহকরা পাসপোর্ট পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ মিলেছে। এ তালিকায় সাধারণ গ্রাহকের পাশাপাশি রয়েছেন সরকারি কর্মকর্তার আত্মীয় স্বজনও। পাসপোর্ট অফিসে আসা একাধিক গ্রাহকের সাথে কথা বলে জানা যায়, নির্দিষ্ট সময় অতিক্রম হওয়ার পরও তারা পাসপোর্ট পাচ্ছে না। যার কারণে অনেক গ্রাহক চিকিৎসা ও বিদেশে যেতে প্রতিবন্ধকতার স্বীকার হচ্ছেন। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সরকারি কর্মকর্তা বলেন, ‘আমার স্ত্রী ও ছেলের পাসপোর্ট একই দিনে আবেদন করা হয়েছে। আমার স্ত্রীর পাসপোর্ট হয়ে গেলেও ছেলেরটা এখনও পাইনি’।

এ ব্যাপারে খুলনা বিভাগীয় পাসপোর্ট ও ভিসা অফিসের পরিচালক মো. আবু সাইদ বলেন, ২৪ জন জনবল থাকার কথা থাকলেও সেখানে রয়েছে ১৫ জন। এর মধ্যে ছুটিতেও রয়েছেন কয়েকজন। জনবলের চাহিদাপত্র একাধিকবার ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। তিনি দাবি করেন জনবল সংকট হলেও গ্রাহকদের সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে জনবল বাড়লে আরও ভালো সেবা দেওয়া যেত। পাসপোর্ট বিলম্বে সরবরাহের বিষয় তিনি বলেন, অনেক সময় কুরিয়ার সার্ভিসের সমস্যা ও প্রিন্ট সেকশনে ধীরগতির কারণে সময়মত পাসপোর্ট আসে না। এই বিষয় নিয়ে আমার কাছে অনেক গ্রাহক এসেছিল। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে এবং ঢাকায় এটা নিয়েও কথাও হয়েছে। তবে খুব দ্রুত এর সমাধান হয়ে যাবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ