শনিবার ০৬ জুন ২০২০
Online Edition

সুন্দরবনের করমজলে দর্শনার্থীদের ভীড়

 

খুলনা অফিস : নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার থাকায় সুন্দরবনের পর্যটন কেন্দ্র করমজলে দিন দিন বাড়ছে দর্শনার্থীদের ভীড়। বিশেষ করে শীতের মওসুম হওয়ায় বর্তমানে এখানে দর্শনার্থীদের উপছে পড়া ভীড়। দেশি-বিদেশী পর্যটকরা সুন্দরবনে আগে আসতে ভয় পেলেও এখন আর ভয় পাচ্ছে না। র‌্যাব, কোস্ট গার্ড, নৌবাহিনী ও পুলিশ বাহিনীর কঠোর পদক্ষেপে সুন্দরবন এখন অনেকটা বনদস্যু ও জলদস্যুমুক্ত। আর এ কারণেই সুন্দরবনের করমজলে বাড়ছে দর্শনার্থীদের ভীড়।    

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের করমজল পর্যটন কেন্দ্রে রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির পশু-পাখি, বানর, হরিণ, ছোট-বড় কুমির। 

কাউন্টার থেকে পাওয়া তথ্য মতে, একজন দেশি পর্যটকের টিকিট মূল্য ভ্যাট বাবদ ২৩ টাকা এবং বিদেশী পর্যটকের টিকিট মূল্য ভ্যাট বাবদ ৩৪৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এখানে রয়েছে গোলপাতার তৈরি বিশাল শুশুক, খাচার ভিতর রয়েছে অনেক হরিণ, ছোট-বড় কুমির, সুন্দরী-গরান-হ্যাতাল-কাঁকড়া ও বাইন গাছে চরিয়ে বেড়াচ্ছে বানর। সুন্দরবনের সবচেয়ে আকর্ষণীয় হচ্ছে শ্বাসমূল। যা দেখতে অনেকেই আসছে। শত শত দর্শনার্থী ঘুরে বেড়াচ্ছে সুন্দরবনের বিভিন্ন স্থানে। কেউ বানরের সাথে আবার কেউ হরিণের সাথে আনন্দ করছে।  

সুন্দরবনের করমজলে বন্ধুদের সাথে ঘুরতে আসেন শ্যামনগরের মহিব্বুল্লাহ মাহি। তিনি বলেন, আগেরকার দিনে মানুষ সুন্দরবন এলাকায় আসতে ভয় পেতেন। কিন্তু এখন আর সেই ভয় নেই। র‌্যাব, কোস্ট গার্ড, নৌবাহিনী ও পুলিশ বাহিনীর কঠোর হস্তক্ষেপে সুন্দরবন এখন বনদস্যু ও জলদস্যুমুক্ত হওয়ার পথে। আর এ কারণেই দেশি ও বিদেশী পর্যটকরা অহরহ অপরূপ এ সুন্দরবন ঘুরতে আসছেন। 

ঘুরতে আসা যশোরের হায়দার আলী বলেন, ‘অপরূপ সুন্দরবন। যা দেখলে চোখ জুড়িয়ে যায়। এখানে রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির পশু-পাখি। আর এসব পশু-পাখি দেখতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ আসছেন অপরূপ শোভিত এ সুন্দরবন দেখতে। 

ঢাকার সাংবাদিক শাহেদ মতিউর রহমান এসেছেন তার বন্ধুদের নিয়ে করমজলে পিকনিক করতে। তিনি ‘বর্তমানে নিরাপত্তা দেখে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, এখানে এসে খুবই ভালো লাগছে। দেশি-বিদেশী দর্শনার্থীদের ভীড় আগের চেয়ে অনেক অনেক বেশি। তিনি আরও বলেন, র‌্যাব, কোস্ট গার্ড ও পুলিশ বাহিনীর কর্মকান্ড জোরদার থাকায় সুন্দরবন এখন অনেকটা বনদস্যু ও জলদস্যু মুক্ত। আর এ কারণেই সুন্দরবনে দিন দিন দেশি ও বিদেশী পর্যটকদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রতিদিনই কেউ জালি বোঁ আবার কেউ ট্রলারযোগে করমজলে ঘুরতে আসছে। তিনি বলেন, সুন্দরবন আমাদের মা। তাই এ সুন্দরবনকে টিকিয়ে রাখার দায়িত্ব সকলের।’ দেখা হয় লুইচ নামে এক বিদেশী পর্যটকের সাথে। তার সাথে রয়েছেন একজন দেশি পর্যটক। তিনি বিদেশী পর্যটকের অভিব্যক্তি জানাতে গিয়ে বলেন, ‘সুন্দরবনে ঘুরতে এসে তিনি খুবই আনন্দিত এবং উদ্বেলিত।’ কথা হয় ঢাকার আবু তালেবের সাথে। তিনি বলেন, সুন্দরবনে হরেক প্রজাতির পশু-পাখি, গাছপালা, বানর, হরিণ, ছোট-বড় কুমির, বাঘ, মাছ ও কাঁকড়া রয়েছে। তিনি বলেন, বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন এক অপরূপ সৌন্দর্য্যে ঘেরা। আমাদের সুন্দরবনকে টিকিয়ে রাখতে হবে।

বনবিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, করমজলে হরিণ ও কুমির প্রজনন কেন্দ্রে যদি ডলফিনের এক্সিবিশন করা, সুন্দরবনে যে অরকিড আছে সেগুলোর গার্ডেন করা, বাাঁর ফাইয়ের গার্ডেনসহ আরও একটু বৈচিত্র্য আনতে পারলে আরও দর্শানার্থী বাড়বে। 

তবে অনেক দর্শনার্থীদের অভিযোগ, ট্যুরিজম এলাকায় বসার টুলের ব্যবস্থা নেই, ফুট ট্রেইল ও ওয়াচ টাওয়ারটি নাজুক। এ কারণে ঝুকিঁ নিয়ে চলাচল করতে হয়। এখানে অবকাঠামোর উন্নত ব্যবস্থা থাকলে দর্শনার্থীরা ভাল ভাবে প্রাকৃতিক সুন্দরবন ঘুরে দেখতে পারতো। লোকালয় থেকে পাঁচ কিলোমিটার দূরে পূর্ব সুন্দরবনের বন্য প্রাণী করমজলে ইকোট্যুরিজম সেন্টার হওয়ায় প্রতিনিয়ত দেশ-বিদেশের পর্যটকরা আসছে নৈসর্গ উপভোগ করতে। বনের বানর, হরিন ও কুমিরসহ পশু-পাখি খুব কাছ থেকে দেখা ও স্পর্শ করা যায়। এছাড়া বনের সৌন্দর্য দেখার জন্য রয়েছে ওয়াচ টাওয়ার। সহসাই বনের দৃশ্যগুলো দেখে দর্শনার্থীর মুগ্ধ হয়। কিছু সমস্যার কথা স্বীকার করে সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের করমজল বন্য প্রাণী ইকোট্যুরিজমের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাওলাদার আজাদ কবির বলেন, ‘এসএসসি পরীক্ষা শেষ হওয়ায় দর্শনার্থীদের সংখ্যা বাড়ছে। শুক্রবার দর্শানর্থীদের সামাল দিতে আমাদের হিমশিম খেতে হয়েছে। পর্যটক মওসুমে এখানে দু’টি ঘাট যথেষ্ট নয়। আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে নতুন কিছু অবকাঠামো নির্মাণের। যাতে ঘুরতে এসে কোন দর্শনার্থীদের বিড়ম্বনায় পড়তে না হয়।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ