বৃহস্পতিবার ০৫ আগস্ট ২০২১
Online Edition

জার্মান সামরিক বাহিনীতে ইমাম নিয়োগের দাবি মুসলিম সেনাদের

৭ ফেব্রুয়ারি, ইন্টারনেট : জার্মান সামরিক বাহিনীতে প্রায় ১৫০০ মুসলমান সেনা রয়েছেন। বিভিন্ন ধর্মীয় রীতিনীতি পালন ও পরামর্শ পেতে তারা কয়েক বছর ধরেই সেনাবাহিনীতে ইমাম নিয়োগের দাবি জানিয়ে আসছেন। তবে এখনো পর্যন্ত সেনাবাহিনীর মুসলমান সেনাদের সেই দাবি পূরণ করা হয়নি।

জার্মান সেনাবাহিনীর মুসলিম সেনাদের একজন নারিমান রাইনকে। মরোক্কান মা-বাবার ঘরে জন্ম নেয়া নারিমান রাইনকে ২০০৫ সাল থেকে জার্মান নৌবাহিনীতে কাজ করছেন। ইতোমধ্যে তাকে দুইবার আফগানিস্তানে মোতায়েন করা হয়। রাইনকে বলেন, খ্রিস্টান সৈন্যদের পরামর্শ দেয়ার জন্য সামরিক বাহিনীতে যাজকরা আছেন, কিন্তু মুসলিমদের জন্য কোনো ইমাম নেই। সামরিক বাহিনীতে এই ধর্মীয় বৈষম্য দূর করতে তিনি কয়েক বছর ধরে ইমাম নিয়োগের প্রস্তাব দিয়ে আসছেন, কিন্তু এ ব্যাপারে এখনো কোনো অগ্রগতি হয়নি। বিষয়টি নিয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী উরসুলা ফন ডেয়ার লাইয়েনের সাথেও নিজে কথা বলেছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

রাইনকে আরো বলেন, দায়িত্ব পালনের সময় তিনি সবসময় একটি বিষয় মাথায় রাখেন যে, যে-কোনো সময় তাঁর মৃত্যু হতে পারে। তিনি চান, মৃত্যুর পর ইসলামি রীতি অনুযায়ী তাঁর শরীর ধোয়া হোক এবং কাফনের কাপড়ে মোড়ানো হোক। এজন্য আফগানিস্তানে থাকাকালীন নিজের কাছে সবসময় কাফনের কাপড় রাখতেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

এদিকে জার্মানির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, ইমাম নিয়োগ নিয়ে ‘জার্মান ইসলাম কনফারেন্স'-এর (ডিআইকে) সাথে তাদের আলোচনা চলছে। তবে ডিআইকের প্রতিনিধিদের অভিযোগ, সরকার অনীহার সাথে বিষয়টি ভাবছে।

একটি বৈচিত্র্যপূর্ণ জার্মান সেনাবাহিনী গড়ে তুলতে দেশটির সরকার বারবার তাদের অঙ্গীকার ও আনুষ্ঠানিক সহায়তার কথা বলছে। অন্যদিকে সেনাবাহিনীতে কর্মরত মুসলমান সেনাদের জন্য ইমাম নিয়োগের বিষয়ে কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় সরকারের সমালোচনা করেছে জার্মান বিরোধী দলগুলো।

এদিকে সেনাবাহিনীতে ইমাম নিয়োগের জন্য নিজেদের পূর্ণ সমর্থনের কথা জানিয়েছে জার্মানির অন্যতম বড় একটি দল সোশ্যাল ডেমেক্র্যোটিক পার্টি (এসডিপি)। কিন্তু দলটির প্রতিরক্ষাবিষয়ক মুখপাত্র ফ্রিৎজ ফেলজেনট্রু স্বীকার করেন যে, ইমাম নিয়োগের বিষয়ে এখনো কয়েকটি ইস্যুর সমাধান হয়নি।

ফ্রিৎজ ফেলজেনট্রু বলেন,‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হচ্ছে, সেনাদের জন্য বিশ্বাসযোগ্য ও গ্রহণযোগ ইমাম জার্মান সেনাবাহিনী কোথায় খুজে পাবে?’

এ বিষয়ে জার্মান সেনাবাহিনীর মুসলিম কর্মকর্তা নারিমান রাইনকে জোর দিয়ে বলেন, সামরিক বাহিনীর সদস্যরা ধর্মীয় পরামর্শ পাওয়া থেকে বঞ্চিত থাকতে পারেন না। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে জার্মান বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অনেকে ইসলাম নিয়ে লেখাপড়া করেছেন। তাছাড়া সম্প্রতি অসনাব্রুক বিশ্ববিদ্যালয়ে যে ইমামরা প্রশিক্ষণ নিয়েছেন, তাঁদের সাথে বিদেশি কোনো সরকারের সম্পর্ক নেই। এই ইমামদের যথাযথ প্রশিক্ষণ দিয়ে সামরিক বাহিনীতে নিয়োগ দেয়া যেতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ