মঙ্গলবার ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

চ্যাম্পিয়নদের হারিয়েই ফাইনালে ঢাকা

স্পোর্টস রিপোর্টার : দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার ম্যাচে বুধবার বর্তমান চ্যাম্পিয়ন রংপুর রাইডার্সকে ৫ উইকেটে হারিয়েই ফাইনাল নিশ্চিত করেছে ঢাকা ডায়নামাইটস। এর আগে সোমবার বিপিএলের প্রথম কোয়ালিফায়ারে রংপুরকে হারিয়েই সরাসরি ফাইনাল নিশ্চিত করে কুমিল্লা। তবু গতবারের চ্যাম্পিয়নদের সুযোগ ছিল টানা দ্বিতীয় ফাইনাল  খেলার। কিন্তু সেখানেও সঙ্গী হলো হতাশা। এলিমিনেটর বাধা পেরিয়ে আসা ঢাকার বিপক্ষে হেরে থামতে হয়েছে রংপুরকে। ১৯.৪ ওভারে তারা ১৪২ রানে গুটিয়ে যাওয়ার পর আন্দ্রে রাসেল ঝড়ে ৫ উইকেট হারিয়ে ২০ বল আগেই জয় নিশ্চিত করে ঢাকা। মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে বোলিংয়ে রুবেল হোসেনের তোপের ওপর ব্যাটিংয়ে ওঠে আন্দ্রে রাসেল ঝড়। ক্যারিবিয়ান এই হার্ডহিটার ১৯ বলে হার না মানা ৪০ রানের টর্নেডো ইনিংসে নিশ্চিত করেন ঢাকার ফাইনাল। বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে রাসেল মেরেছেন বিশাল ৫ ছক্কা। একটা সময় রংপুর চেপে ধরলেও রাসেলের ব্যাটের সামনে অসহায় আত্মসমর্পণ করতে হয়েছে তাদের। ১৪২ রানের পুঁজি নিয়ে বল হাতে শুরুটা ভালো করেছিল রংপুর। প্রথম ওভারেই উইকেট এনে দেন অধিনায়ক মাশরাফি। ৪ রান করা উপুল থারাঙ্গাকে ফেরান এই পেসার। শুরুর ওই ধাক্কা অবশ্য ঢাকা কাটিয়ে ওঠে সুনিল নারিন ও রনি তালুকদারের ব্যাটে। দ্বিতীয় উইকেটে তারা গড়েন ৩৭ রানের জুটি। ৮ বলে ১৪ রান করা নারিনের আউটে ভাঙে তাদের জুটি। এরপর সাকিব আল হাসান ও রনি তালুকদার মিলে বাড়িয়ে নেন দলের স্কোর। সাকিব অবশ্য বেশিদূর যেতে পারেননি, ২০ বলে ২৩ রান করে ফিরে যান প্যাভিলিয়নে। তবে কিয়েরন পোলার্ড ৮ বলে ১৪ করে আউট হওয়ার পরপরই ভুল বোঝাবুঝিতে রনি তালুকদার ২৪ বলে ৩৫ করে রানআউট হয়ে গেলে চাপে পড়ে ঢাকা। যদিও তাতে ঢাকার কোনও সমস্যাই হয়নি রাসেলের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে। তার সঙ্গে ৯ রানে অপরাজিত থেকে দলের ফাইনাল নিশ্চিত করেন নুরুল হাসান। রাসেল দুর্দান্ত ইনিংস খেলার পরও অবশ্য ম্যাচসেরা হয়েছেন বল হাতে চমৎকার পারফর্ম করা রুবেল হোসেন। এই পেসারের বিধ্বংসী বোলিংয়েই রংপুরকে অল্পতে আটকে রাখে ঢাকা। রুবেল ২৩ রান দিয়ে পেয়েছেন ৪ উইকেট। তার সঙ্গে আন্দ্রে রাসেল ও কাজী অনিকের চমৎকার বোলিংয়ে ১৯.৪ ওভারে রংপুর অলআউট হয় ১৪২ রানে। টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা রংপুরকে দারুণ শুরু এনে দিয়েছিলেন নাদিফ চৌধুরী ও ক্রিস গেইল। চলতি বিপিএলে প্রথম ম্যাচ খেলতে নামা নাদিফ ব্যাটে তোলেন ঝড়। শুভাগত হোমের এক ওভারেই মারেন তিন ছক্কা। যদিও দুর্দান্ত শুরুটা ধরে রাখতে পারেননি, শুভাগতের বলেই ২৭ রান করে প্যাভিলিয়নে ফেরেন তিনি। ১২ বলের ঝড়ো ইনিংসটি সাজান ২ চার ও ৩ ছক্কায়। নাদিফের আউট দিয়ে টানা ৩ বলে রংপুর হারায় ৩ উইকেট। শুভাগতের শেষ বলে নাদিফের আউটের পর বল হাতে নেওয়া রুবেল পরপর দুই বলে তুলে নেন ক্রিস গেইল ও রাইলি রোসোর উইকেট। ১৫ রান করা গেইলকে ফেরানোর পর রোসোকে (০) আউট করে হ্যাটট্রিকেরও সম্ভাবনা জাগান চমৎকার বল করা রুবেল। ওই ধাক্কা আর কাটিয়ে উঠতে পারেনি রংপুর। কাজী অনিকের ২১ রানে ২ উইকেট ও আন্দ্রে রাসেলের ৩১ রান খরচায় পাওয়া ২ উইকেটের সঙ্গে অন্য বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে কঠিন চাপে পড়ে তারা। এরপরও রান ১৪২ পর্যন্ত গিয়েছে রবি বোপারার ইনিংসটির কল্যাণে। ইংলিশ ব্যাটসম্যান ৪৩ বলে করেন ইনিংস সর্বোচ্চ ৪৯ রান। কার্যকরী ইনিংসটি তিনি সাজান ৬ বাউন্ডারি ও ১ ছক্কায়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ