শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

ছড়া

শীতবুড়ি 

রাজু ইসলাম

 

শরীরের সাথে সাথে

মনটাও ছুয়ে দেয়

শিশিরের জল

সকাল আর কুয়াশার

নিরবতা ভেঙে দেয়

পাখিদের দল ॥

 

ঘাসেদের ডগাতে

মাছেদের বগাকে

নাড়া দেয় সোনালী আলো।

সূর্যটা উঁকি দেয়

ওম তারে ফাঁকি দেয়

দিন কাটে সারাটা ভালো ॥

 

গোধূলির আগে ফিরে

পাখিদের নিড়ে নিড়ে

জেঁকে বসে শীত।

সেই সুখে শীতবুড়ি

ছড়া কাটে ভুড়ি ভুড়ি

গায় শতো গীত ॥

 

মাতৃভাষা 

আবদুল হাই ইদ্রিছী

 

মাতৃভাষা বাংলা আমার 

জন্ম থেকে চেনা, 

এই ভাষাটা বাঙ্গালীদের 

রক্ত দিয়ে কেনা। 

 

বাংলা আমার প্রাণের ভাষা 

তাকে নিয়ে আছি, 

এই ভাষার-ই গানের তানে 

মনের সুখে নাচি। 

 

এই ভাষাতে গল্প লিখি 

লিখি কাব্য-ছড়া, 

বাংলা ভাষার গাঁথুনিতে 

আমার হৃদয় গড়া। 

 

 

হাত রেখেছি গালে

আতিফ আবু বকর

 

শীত হারানো মাঘের শেষে 

পাতা ঝরার কালে,

নেড়া মাথা গাছের ডালের

হালত যে বেহালে।

 

বেহাল দশা কাটবে দ্রুত

কচিপাতা এসে,

ঋতুর রাজা বসন্তে সে

উঠবে মৃদু হেসে।

 

ফুল ও ফলে দুলবে বাগান

ফাগুন হাওয়ার তালে,

প্রকৃতির এই বদল ভেবে

হাত রেখেছি গালে!

 

 

সফলতা

নাহিদ নজরুল

 

সফলতার হাতছানিটা

চাও'রে পেতে যদি

যাও অবিরাম চেষ্টা করে

চলতে নিরবধি।

দিলটা রেখো কলুষ মুক্ত

ভরে না যেন কাদা!

সব ডিঙিয়ে পৌঁছে যাবে

আসুক যতই বাধা।

তবেই তুমি দেখতে পাবে

সফলতার মুখ

ধীরে ধীরে পরিশ্রমে 

নাও এগিয়ে সুখ।

 

 

মায়ের জন্য

হামীম রায়হান

 

দেখলে মায়ের মুখ,

দুঃখগুলো পালিয়ে গিয়ে

নাচে আমার বুক।

 

মায়ের মুখের ভাষা,

শুনলে পরে জুড়াই প্রাণ,

মিটে মনের আশা।

 

মায়ের চোখের দৃষ্টি ,

কী অপরূপ মায়ায় ভরা

যেন স্নেহের বৃষ্টি।

 

মায়ের মুখের হাসি,

দেখলে নামে মনের ভিতর

সুখ যে রাশি রাশি।

 

মায়ের হাতের পরশ,

পেলে তবে এক নিমিষে

পালায় যত হরষ।

 

ভোরের আলো

কবির মাহমুদ

 

স্বপ্নগুলো পাখির ডানায়

উড়ছে আকাশ ওই ফুলে,

সমাজটাকে সাজিয়ে দাও

দ্বন্দ্ব যত সব ভুলে।

 

নতুন দিনে নতুন গানে

নতুন নতুন চাওয়াতে,

সমাজের ওই ক্লান্তি যত

দূর হবে সব পাওয়াতে।

 

জাগুক বিবেক নতুন দিনে

ছাড় রে সবাই সুখের হাঁক,

দূর হবে যে সকল কালো 

ভেঙ্গে দে সব আঁধার বাঁক।

 

যাক না দূরে হানাহানি

দূর হয়ে যাক কালোটা,

পাক না সবাই একটি প্রভাত 

রাঙা ভোরের আলোটা।

 

শীত বন্দনা 

আশিক ফয়সাল 

 

গ্রীষ্ম মধুর, বর্ষা বাদল বৃষ্টির

শরৎ কাশের, হেমন্ত সুদৃষ্টির 

বসন্ত ফুল কোকিল পাখির 

অফুরান সুখ চাতক আঁখির

তবু শীতের দুষ্ট সকাল মিষ্টির।

 

আমার ইচ্ছে করে

খোরশেদ আলম খোকন

 

আমার ইচ্ছে করে

প্রান্ত থেকে তেপান্তরে

পাখির মত উড়তে,

 

আমার ইচ্ছে করে

 দেশ হতে ঐ দেশান্তরে

জলের মতো ঘুরতে।

 

আমার ইচ্ছে করে

সন্ধ্যা হলে আঁধার ঘরে

প্রদীপ হয়ে জ্বলতে

 

আমার ইচ্ছে করে

প্রত্যহ সে কুয়াশা ভোরে

উঞ্চ রঙিন চলতে।

 

 

ভাপা পিঠা

 রোমানুর রোমান

 

শীত এসেছে ধুম পড়েছে

 দেখ বাজার মোড়ে,

ভাপা পিঠার ধোঁয়া ওড়ে 

কয়লা চুলায় পোড়ে।

পথের ধারের দোকানেতে

ভাপাপিঠা পাই

সকাল বিকাল অল্প দামে 

কিনি তবে তাই।

 তৈরি করে গরম-গরম

পিঠা কিন্তু তায়,

থাকে যদি নারকেল আর গুড়

মজা করে খায়।

 রোমান কবি চাদর গায়ে

নিত্য সেথায় এসে,

আরাম করে খায়রে পিঠা

কাঠের বেঞ্চে বসে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ