রবিবার ০৯ আগস্ট ২০২০
Online Edition

বই মেলায় ভিড় বাড়ছে ॥ বাড়ছে বেচাকেনা 

ইবরাহীম খলিল : দিন যতই এগিয়ে যাচ্ছে অমর একুশে গ্রন্থমেলাও তত বেশি জমে উঠছে। দর্শনার্থীদের পাশাপাশি দিনে দিনে ক্রেতার সংখ্যাও বাড়ছে। জমে উঠছে মেলাকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠিত নানা আয়োজনও। মেলার প্রবেশদ্বার খোলার পর থেকেই বিরামহীনভাবে তথ্যকেন্দ্র থেকে প্রচারিত হচ্ছে বইমেলা বিষয়ে নানা তথ্য। সেখান থেকেই জানানো হচ্ছে এবারই প্রথমবারের মতো যুক্ত হওয়া ‘লেখক বলছি’ মঞ্চে কোনো কোনো লেখক সরাসরি কথা বলছেন পাঠকের সঙ্গে। এ ছাড়াও মেলার মূল মঞ্চে অনুষ্ঠিত আলোচনার বিষয় ও বক্তাদের সম্পর্কেও জানানো হচ্ছে এখান থেকে। 

নতুন খবর হলো--হিরো আলম এবার বই লিখেছেন। জীবনী গ্রন্থটির নাম ‘দৃষ্টিভঙ্গি বদলান আমরা সমাজকে বদলে দেব।’ বইটি প্রকাশ করেছে তরফদার প্রকাশনী। প্রকাশক সৌরভ আলম সাবিদ। বইটি সম্পাদনাও করেছেন তিনি। বইটি সম্পর্কে হিরো আলম বলেন, ‘আমি জীবনে অনেক কষ্ট করেছি। হিরো আলম হতে আমার অনেক পরিশ্রম করতে হয়েছে। আমি চাই, বইটি সবাই পড়ুক। আমার সম্পর্কে অনেক অজানা কথা বইটিতে আছে। আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে হবে তা না হলে সমাজে পরিবর্তন আসবে না।’ প্রকাশক সৌরভ আলম সাবিদ বলেন, ‘আমি আশা করছি, বইটি পাঠক কিনবেন এবং পছন্দ করবেন।’ হিরো আলম ১১ ফেব্রুয়ারি অমর একুশে গ্রন্থমেলায় যাবেন বলে জানান।

সাপ্তাহিক কর্মদিবসে ৩টায় আর ছুটির দিন সকাল ১১টায় খুলে যায় মেলার প্রবেশ পথ। এর পর থেকেই মেলায় আসতে শুরু করেন বইপ্রেমীরা। তাদের দীপ্ত পদচারণায় সময় গড়ানোর সাথে সাথে মেলায় যেমন আসে প্রাণ-প্রাচুর্য্য, তেমনই মাসব্যাপী এ প্রাণের মেলার সময়ও কমে আসে।

মেলার প্রথম সপ্তাহে মেলার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে জানতে চাইলে মেলার বিভিন্ন প্রকাশনার সংস্থার প্রকাশকরা জানালেন- প্রতিদিনই বাড়ছে ভিড়, বাড়ছে বিক্রিও। তারা আরও বলেন, অতীতে কখনও প্রথম সপ্তাহের আগে বইমেলা তেমন জমে ওঠে না। কিন্তু এবারের দেশের রাজনৈতিক এবং সার্বিক পরিস্থিতি ভালো হওয়ায় মেলা শুরু থেকেই জমে উঠবে-এমনই আশা ছিলো। সেটা না মেলা নিয়ে হতাশা নেই তাদের।

এ প্রসঙ্গে ঐতিহ্য প্রকাশনীর বিক্রয় ব্যবস্থাপক আমজাদ হোসেন খান কাজল বলেন, ‘প্রথম সপ্তাহের বেচাকেনায় গতবারের মেলার চেয়ে বেশি আশাবাদী। এবারের মেলা নিয়ে অন্যান্য বছরের তুলনায়ও বেশি আশাবাদী তারা। তিনি বলেন, বিক্রি বাড়লেও দেশের মোট জনসংখ্যার তুলনায় বইয়ের পাঠক বাড়েনি।

এদিকে বাংলা একাডেমির সাংবাদিক সম্মেলনে জানানো হয়, মেলা শুরুর প্রথম ৬ দিনে শুধু বাংলা একাডেমির ২৫ লাখ ৩১ হাজার টাকার বই বিক্রি হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে বাংলা একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বাংলা একাডেমির অমর একুশে গ্রন্থমেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব ড. জালাল আহমেদ।

জালাল আহমেদ বলেন, ‘ বুধবার পর্যন্ত ৬৭১টি বই মেলায় প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম ৬ দিনে ২৫ লাখ ৩১ হাজার টাকার বাংলা একাডেমির বই বিক্রি হয়েছে। যা গত বছরের তুলনায় প্রথম ৬ দিনের চেয়ে সাত লাখ টাকা বেশি।’

তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত মেলায় পাঠকদের আগমন ব্যাপক ইতিবাচক। আশা করা যায়, নতুন নতুন এবং মানসম্পন্ন বই সংগ্রহ করতে পাঠকদের উপস্থিত সামনের দিনে আরও বাড়তে থাকবে। আমাদের কাছে থাকা তথ্যমতে, অন্যান্য প্রকাশনীও ইতোমধ্যে ভালো অঙ্কের টাকার বই বিক্রি করেছে।’ কিছু সীমাবদ্ধতার কথা জানিয়ে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী বলেন, ‘আমরা যেভাবে চেয়েছিলাম মেলার স্থান তেমনভাবে পরিপাটি করে সাজাতে পারিনি। আমাদেরও কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। অল্প কয়েক দিনের মধ্যে আমাদের সব প্রস্তুতি একসঙ্গে সম্পন্ন করতে হয়, যে কারণে কিছু কিছু ত্রুটি থেকে যায়। এমন সমস্যা সমাধান সম্ভব যদি একটি নির্দিষ্ট স্থানে বইমেলার জন্য জায়গা বরাদ্দ থাকে।

তিনি বলেন, যদি বাংলা একাডেমিকে একটি ‘ফেয়ার মাঠ’ বরাদ্দ দেয়া হতো তাহলে আমরা সারা বছর ধরে আস্তে আস্তে মেলার প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে পারতাম। ওই ফেয়ার মাঠে যে শুধুমাত্র বইমেলা অনুষ্ঠিত হবে তাই নয়, বাণিজ্যমেলা ছাড়া সাংস্কৃতিক এবং বাংলাদেশের চেতনার সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন মেলার আয়োজন করা যেতে পারে।’

সাংবাদিক সম্মেলনে আরও জানানো হয়, মেলায় এবার প্রথম ছয়দিনে বই এসেছে ৬৭১টি। এর মধ্যে গল্প ১০৭টি, উপন্যাস ১২২টি, প্রবন্ধ ৪৫টি, কবিতা ১৬১টি, গবেষণা ১২টি, ছড়া ২৩টি, শিশুতোষ ১৬টি, জীবনী ১৯টি, রচনাবলী ৪টি, মুক্তিযুদ্ধ ২৭টি, নাটক ৮টি, বিজ্ঞান ১৩টি, ভ্রমণ ১৫টি, ইতিহাস ১৩টি, রাজনীতি ৫টি, স্বাস্থ্য বিষয়ক ৫টি, রম্য/ধাঁধা ৬টি, ধর্মীয় ১টি, অনুবাদ ৩টি, সায়েন্স ফিকশন ১১টি এবং অন্যান্য ৫৫টি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ