বৃহস্পতিবার ০১ অক্টোবর ২০২০
Online Edition

মাতৃভাষা বাংলাভাষা খোদার সেরা দান

স্টাফ রিপোর্টার : স্বাধীকার আন্দোলনের ভিত্তি, ভাষার মাস  ফেব্রুয়ারির পঞ্চম দিন আজ মঙ্গলবার । নিরন্তর আগ্রহোদ্দীপক এ মাসটি এলেই ‘অমর একুশে’, ‘ভাষা-শহীদ’, ‘ভাষা-সন্তান’, ‘ভাষা-পুত্র’, ‘রক্তাক্ত অ আ ক খ’ ইত্যাকার শব্দমালা প্রতিটি বাংলাদেশীর দেহ ও মনে দ্যোতনার সৃষ্টি করে। আবেগে উচ্ছ্বাসিত হয় প্রাণ। কিন্তু নতুন প্রজন্ম কি জানে, ভাষা আন্দোলন শুধু বায়ান্নতেই সীমাবদ্ধ নয়। সুদীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামের পর এ জাতি পেয়েছে বাংলা ভাষা আপন করে। শাশ্বত ভাষা বাংলায় কথা বলার অধিকারটুকু প্রতিষ্ঠা করে সংকট লড়াইয়ের অগ্রজ সেনানীরা আমাদের ঋণের দায়ে আবদ্ধ করে গেছেন। আর ইতিহাসের পাতায় পাতায় তারা হয়ে আছে আপন মহিমায় ভাস্বর, জ্যোতির্ময়। ইতিহাস বিকৃত করতে একটি কূটচক্র সবসময়ই তৎপর থাকে। ভাষা আন্দোলনের ক্ষেত্রেও এ ধরনের মতলববাজদের দূরভিসন্ধিমূলক কর্মকা- অব্যাহত রয়েছে। যারা কি-না এখনও বিশিষ্ট জনদের বাংলা ভাষার দাবি আন্দোলনকে কৌশলে অস্বীকার করতে চায়।
খুরশীদ আলম সাগর তার ‘পলাশী প্রান্তর থেকে বাংলাদেশ ১৭৫৭, ১৯৭১ ও আমাদের স্বাধীনতা’ শীর্ষক গ্রন্থে লিখেছেন, একটি জাতির চিরন্তন সম্পদ হলো তার ভাষা, ভাব-প্রকাশের সর্বোত্তম বাহন। পাকিস্তান নামক শিশু রাষ্ট্রটি ভূমিষ্ঠ হবার পূর্ব থেকেই এর রাষ্ট্রীয় ভাষা কি হবে তা নিয়ে পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়ে যায়। সম্প্রসারণবাদী শোষক বৃটিশকে তাড়িয়ে পূর্ব বাংলা, সিন্ধু, খন্ডিত পাঞ্জাব, বেলুচিস্তান এবং উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশ নিয়ে সৃষ্টি হয় পাকিস্তান। ‘পূর্ব বাংলা’ পূর্ব পাকিস্তান নামে এবং সিন্ধু, পাঞ্জাব, বেলুচিস্তান, উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশ নিয়ে পরিচিতি লাভ করে পশ্চিম পাকিস্তান। পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তান নিয়ে আত্মপ্রকাশ করে ‘পাকিস্তান’ রাষ্ট্র। ‘সিন্ধি’, ‘বেলুচ’, ‘পাঞ্জাবী’, ‘পোস্তু’ ইত্যাদি ভাষাভাষী মানুষ ছিল পশ্চিম পাকিস্তানে। অন্যদিকে ‘বাংলা’, ‘চাংমা’ ইত্যাদি ভাষাভাষী মানুষ বাস করে পূর্ব পাকিস্তানে। চাংমা বা অন্যান্য ছোট ছোট জাতিসত্তার ভাষাভাষী লোক অত্যন্ত সীমিত। অন্যদিকে অল-পাকিস্তানে অর্ধেকের বেশি লোক বাংলা ভাষায় কথা বলে। পৃথিবীর নেতৃস্থানীয় ভাষাগুলোর মধ্যে বাংলা ভাষা হচ্ছে অন্যতম। তাই সঙ্গত কারণেই প্রশ্ন ওঠে বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্র ভাষা করার জন্য। কিন্তু পাকিস্তান রাষ্ট্রের স্থপতি মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ থেকে শুরু করে প্রায় সকল নেতাই একমাত্র উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্র ভাষা করার কথা জোর দিয়ে বলতে থাকেন।
ভাষা সৈনিক, ভাষা-আন্দোলনের ইতিহাস গবেষক এম আর মাহবুব তার ‘বাঙালা কী করে রাষ্ট্রভাষা হলো’ গ্রন্থে বর্ণনা করেন, অধ্যাপক (পরবর্তীতে প্রিন্সিপাল) আবুল কাসেম বহু চেষ্টা করেও তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রশাসকমন্ডলীকে এ ব্যাপারে কোনোরূপ কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করাতে সক্ষম হননি। ফলে সর্বস্তরে বাংলা চালু ও শিক্ষার মাধ্যম হিসেবে বাংলা ব্যবহার একটি বাকসর্বস্ব বক্তব্যে পরিণত হয়। এমনকি যুক্তফ্রন্টের ১৯৫৪ সালের নির্বাচনোত্তর ক্ষমতাসীন হলেও সর্বস্তরে বাংলা ভাষা চালু করতে রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। অধ্যাপক আবুল কাসেম পরবর্তীতে পরিকল্পিতভাবে সর্বস্তরে বাংলা চালুর জন্য বাংলা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে ১৯৬২ সালে (রাজধানীর মিরপুরে) বাংলা কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন এবং সর্বস্তরে বাংলা চালু ও ভাষা-আন্দোলনের চেতনা ও বহুমুখী পদক্ষেপ বাস্তবায়নের মাধ্যমে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ