বৃহস্পতিবার ০১ অক্টোবর ২০২০
Online Edition

চিটাগংকে বিদায় করে দ্বিতীয় কোয়ালিফাইয়ারে ঢাকা

স্পোর্টস রিপোর্টার : ঠিক সময়ে জ্বলে উঠল ঢাকা ডায়নামাইটস। শেষ চারে ৪র্থ দল হিসেবে সুযোগ পাওয়া ঢাকা এলিমিনেটর ম্যাচে চিটাগংকে বিদায় করে ফাইনালের পথে টিকে রইল। এই আসরে লিগ পর্বে এর আগের দু-দেখায় চিটাগং ভাইকিংসের কাছে দুবারই হেরেছিল ঢাকা। কিন্তু সেই ঢাকাই গতকাল বিদায় করলো চিটাগংকে। আর চিটাগং ভাইকিংসকে হারিয়ে বিপিএলে দ্বিতীয় কোয়ালিফাইয়ার নিশ্চিত করলো গতবারের রানার্স-আপ ঢাকা ডায়নামাইটস। গতকাল টুর্নামেন্টের এলিমিনেটর ম্যাচে ঢাকা ৬ উইকেটে হারিয়েছে চিটাগং ভাইকিংসকে। আগামীকাল দ্বিতীয় কোয়ালিফাইয়ার ম্যাচে মাঠে নামবে ঢাকা। আর এই ম্যাচে হেরে এবারের আসর থেকে বিদায় নিলো মুশফিকুর রহিমের দল চিটাগং। গতকাল মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে আগে ব্যাট করে চিটাগং ভাইকিংস ৮ উইটেটে করে ১৩৫ রান। বাচা মরার ম্যাচে জয়ের জন্য রানটা মোটেও নিরাপদ ছিলনা। ফলে যা হবার তাই হয়েছে। জয়ের জন্য মাত্র ১৩৬ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে ঢাকা ডায়নামাইটস চার উইকেট হারিয়ে টার্গেট ১৩৬ রান করে ম্যাচ জিতেছে ৬ উইকেটে। জয়ের জন্য ঢাকাকে খেলতে হয়েছে মাত্র ১৬.৪ ওভার। এই জয়ের ফলে ঠিকই টিকে গেল ঢাকা। টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং বেছে নেয় চিটাগং ভাইকিংস। ব্যাট হাতে নেমে ভালো শুরুর আভাস দিয়েছিলেন ওপেনার দক্ষিণ আফ্রিকার ক্যামেরন ডেলপোর্ট। তাকে যথার্থ সঙ্গ দিচ্ছিলেন আরেক ওপেনার ইয়াসির আলি। কিন্তু বেশিক্ষণ উইকেটে থাকা হয়নি ইয়াসিরের। ঢাকা ডায়নামাইটসের পেসার রুবেল হোসেনের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান ৮ রান করা ইয়াসির। এরপর তিন নম্বরে নামা সাদমান ইসলামকে নিয়ে ইনিংস গড়ার কাজে মনোযোগী হন ডেলপোর্ট। ২৭ বলে ৩৪ রানের জুটি গড়ে প্যাভিলিয়নে ফিরেন ডেলপোর্ট। রান আউটের ফাঁদে পড়ার আগে ৫টি চার ও ১টি ছক্কায় ২৭ বলে ৩৬ রান করেন ডেলপোর্ট। ৫৬ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারানো চিটাগং-কে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব ছিলো অধিনায়ক মুশফিকের ওপড়। কিন্তু তিনি এবার ব্যর্থ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্পিনার সুনীল নারাইনের ডেলিভারিতে বোল্ড হওয়ার আগে ১টি চারে ৬ বলে ৮ রান করেন মুশফিক। অধিনায়কের বিদায়ের পর মিনি ধস নামে চিটাগং-এর ইনিংসে। ৩ উইকেটে ৭৬ রান থেকে ৭ উইকেটে ১০৯ রানে পরিণত হয় দলটি। ফলে সম্মানজনক স্কোরে পৌঁছানোটাই কঠিন হয়ে যায় চিটাগং-এর জন্য। কিন্তু শেষদিকে, ব্যাট হাতে ছোট্ট ও বুদ্ধিদীপ্ত একটি ইনিংস খেলেন মোসাদ্দেক হোসেন। ৩টি চারের সাথে ১টি ছক্কায় ৩৫ বলে ৪০ রান তুলে চিটাগংকে ১৩৫ রানের সম্মানজনক স্কোর এনে দেন মোসাদ্দেক। ঢাকার পক্ষে এবারের আসরে নিজের সেরা ১৫ রানে ৪ উইকেট নেন নারাইন। দ্বিতীয় কোয়ালিফাইয়ার নিশ্চিতের জন্য ১৩৬ রানের টার্গেট পায় ঢাকা ডায়নামাইটস। ব্যাট হাতে শুরুটাও দুর্দান্ত ছিলো তাদের। মারমুখী মেজাজে শুরু করেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের সুনীল নারাইন। ৬টি চার ও ১টি ছক্কায় ১৬ বলে ৩১ রান তুলে খালেদ আহমেদের শিকার হন তিনি। অপর প্রান্তে ধীর গতিতে ছিলেন আরেক ওপেনার শ্রীলংকার উপুল থারাঙ্গা। তবে সময় গড়ানোর সাথে সাথে রানের চাকা দ্রুতই ঘুড়িয়েছেন থারাঙ্গা। তাই ১০ ওভার শেষে ৮৮ রানে পৌঁছে যায় ঢাকার ইনিংস। তবে ১১তম ওভারের প্রথম দু’বলে তিন নম্বরে নামা রনি তালুকদার ও অধিনায়ক সাকিব আল হাসানকে বিদায় দিয়ে চিটাগং’কে খেলায় ফেরার পথ দেখান খালেদ। রনি ১৩ বলে ২০ ও সাকিব শুন্য রানে ফিরে যান। এরপরও থারাঙ্গার ব্যাটে চড়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলো ঢাকা। আগের ম্যাচে ৪২ রান করে সেরা খেলোয়াড় হওয়া থারাঙ্গা এবার হাফ-সেঞ্চুরি তুলে আউট হন। ৭টি চারে ৪৩ বলে ৫১ রান করা থারাঙ্গা শিকার হন নাঈম হাসানের। দলীয় ১১২ রানে থারাঙ্গা যখন ফিরেন, তখন জয়ের জন্য ঢাকার ২৪ রান প্রয়োজন ছিলো। দলের বাকী প্রয়োজনটুকু পরবর্তীতে জুটি বেঁেধ মিটিয়েছেন উইকেটরক্ষক নুরুল হাসান ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাইরন পোলার্ড। নুরুল ২০ ও পোলার্ড ৭ রানে অপরাজিত ছিলেন। তখনো ম্যাচের ২০ বল বাকী ছিলো। চিটাগং’এর খালেদ ২০ রানে ৩ উইকেট নেন। 

সংক্ষিপ্ত স্কোর :

চিটাগং ভাইকিংস : ১৩৫/৮, ২০ ওভার ( মোসাদ্দেক ৪০, ডেলপোর্ট ৩৬, নারাইন ৪/১৫)।

ঢাকা ডায়নামাইটস : ১৩৬/৪, ১৬.৪ ওভার (থারাঙ্গা ৫১, নারাইন ৩১, খালেদ ৩/২০)।

ফল : ঢাকা ডায়নামাইটস ৬ উইকেটে জয়ী।

ম্যাচ সেরা : সুনিল নারাইন (ঢাকা ডায়নামাইটস)।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ