মঙ্গলবার ২৬ মে ২০২০
Online Edition

গত দুই যুগে খুলনা বিভাগে ৪৩৭২ জন কুষ্ঠরোগী শনাক্ত 

খুলনা অফিস : খুলনা বিভাগে গত এক বছরে ৩২ জনকে কুষ্ঠরোগী হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে খুলনা জেলায় রয়েছে ১৭ জন। ১৯৮৬ সাল থেকে ২০১৯ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত গত দুই যুগে ৪ হাজার ৩৭২ জন কুষ্ঠরোগীকে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়েছে। খুলনা সিভিল সার্জনের সহযোগিতায় খুলনা কুষ্ঠ ও যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্প খুলনা শাখা এই নামে পিমে সিস্টারস পরিচালিত ১৯৮৬ সাল থেকে কুষ্ঠ কার্যক্রম চালু রয়েছে। প্রতিষ্ঠানের কো-অর্ডিনেটর মো. আক্তার আলী বলেন, তাদের এ প্রতিষ্ঠান কুষ্ঠ ও যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্প কার্যক্রমের মাধ্যমে গত দুই বছর ধরে কুষ্ঠ ও যক্ষ্মা রোগীকে বিনামূল্যে সেবা দিয়ে আসছে। তাদের প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এ পর্যন্ত ৪ হাজার ৩৭২ জন কুষ্ঠ শনাক্তকারী ব্যক্তিকে বিনামূল্যে সেবা প্রদান করেছেন। বর্তমানে ৪১ জন কুষ্ঠরোগী চিকিৎসা সেবায় রয়েছে বাকীগুলো সুস্থ হয়ে গেছে। তিনি বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে বিকলাঙ্গতা রোধ করা সম্ভব। কিন্তু চিকিৎসায় বিলম্ব হলে বিকলাঙ্গতা বাড়তে পারে। তাই এ ক্ষেত্রে জনসচেতনতা প্রয়োজন। তিনি বলেন, ১৯৯৮ সালের পর থেকে খুলনা অঞ্চলে কুষ্ঠরোগী শনাক্তের হার কমেছে। আতঙ্কও কমেছে।

তার দেওয়া তথ্য মতে, ২০১৮ সালে খুলনা বিভাগে ৩২ জন কুষ্ঠরোগীকে শনাক্ত করা হয়েছে। যার মধ্যে পুরুষ ২১ ও মহিলা ১১ জন রয়েছে। এর মধ্যে খুলনা সিটিতে রয়েছে ১২ জন। এছাড়া ডুমুরিয়ায় ৩ জন, দিঘলিয়ায় ১ জন ও কয়রায় ১ জন। এর বাইরে খুলনা বিভাগের মধ্যে যশোরে ৫ জন, সাতক্ষীরায় ৫ জন, কুষ্টিয়ায় ৩ জন, বাগেরহাট ১ জন ও নড়াইলে ১ জন কুষ্ঠরোগী রয়েছে। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও চর্ম বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মাধ্যমে কুষ্ঠরোগীকে তাদের এ প্রতিষ্ঠানে পাঠানো হচ্ছে। এখান থেকে আক্রান্ত ব্যক্তিদের বিনামূল্যে সেবা প্রদান করা হয়। এর আগে ২০১৭ সালে ৩৩ জন কুষ্ঠরোগীকে শনাক্ত করা হয়। প্রতিষ্ঠানের কো-অর্ডিনেটর মো. আক্তার আলী বলেন, তাদের ওই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রজেক্ট এন্ড মেডিকেল ডাইরেক্টর ডা. সিস্টার রোবার্তা পিনোনের তত্ত্বাবধানে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছে। নগরীর বড় বয়রা দাসপাড়ায় অবস্থিত তাদের নিজস্ব ভবনে কুষ্ঠরোগীদের থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থাসহ নিয়মিত চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছেন। এখানে রোগীদের মোট বেড সংখ্যা ৩৩টির মধ্যে মহিলা বেড রয়েছে ১৭টি। ওই প্রতিষ্ঠানের সিনিয়র টিবি ল্যাপ্রসি কন্ট্রোল অফিসার এস কে ফারুক বলেন, কুষ্ঠরোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের শরীরে প্রতি দুই সপ্তাহে একটা করে এ রোগের জীবাণু বংশ বিস্তার করে। শরীরের মধ্যে অনেক বছর ধরে বংশ বিস্তার করতে থাকে। আক্রান্ত ব্যক্তিদের ৩-৪ বছর পর শরীরের চামড়ায় এ রোগের লক্ষণ বোঝা যায়। নিয়মিত ওষুধ সেবন করলে এ রোগ থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যায়। আক্রান্ত ব্যক্তিরা অধিকাংশই নিম্নশ্রেণির মানুষ। এছাড়া রোগটি প্রথম থেকে শনাক্ত হলে সেই রোগী তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে ওঠেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ