মঙ্গলবার ২৬ মে ২০২০
Online Edition

বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি নিয়ে আবার ষড়যন্ত্র

নেপথ্যে রয়েছে বদলীকৃত আমলারা

মোঃ আফজাল হোসেন ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) থেকে, ৩১ জানুয়ারি: দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লা খনিটিকে অচল করার জন্য আবারও কতিপয় কর্মকর্তা ও আমলারা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লা খনিতে ২০১৭ সালের শেষের দিকে কয়লা নিয়ে যখন নানা রকম অনিয়ম দুর্নীতির কথা শোনা যাচ্ছিল, সেই সময় সরকারের উচ্চমহল থেকে তদন্ত করে বেশ কিছু দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদেরকে বদলী করলেও, বদলীকৃত ঐ আমলারা দুর থেকে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনিটিকে আবারও অচল করার জন্য কলকাঠি নাড়ছে। অপরদিকে সরকারের খনি সম্পদ মন্ত্রনালয় থেকে ২০১৭ সালের আগস্ট মাসে নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ফজলুর রহমান কে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনিতে যোগদান করান। ২০১৭ সালের আগস্ট মাসে যোগদান করার পর ৫ মাস যেতে না যেতেই এই দক্ষ, সৎ ও নিষ্ঠাবান ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বিরুদ্ধে বদলীকৃত দূর্নীতিবাজ কয়েকজন কর্মকর্তা ও আমলার প্রফিট বোনাস বিতরণকে কেন্দ্র করে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে এবং তাদেরকে আন্দোলন করতে সহযোগিতা করছে। বড়পুকুরিয়া কয়লা খনিতে ১৪৭ জন কর্মকর্তা কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন এবং তাদেরকে প্রফিট বোনাসও দেওয়াকে কেন্দ্র করে, তাদের কাছ থেকে ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ফজলুর রহমান কর্মকর্তা কর্মচারীদের নিকট থেকে বাধ্যতামূলক ৪০ হাজার টাকা অগ্রীম দিয়ে প্রফিট বোনাস নিতে হচ্ছে এ ধরনের কোন ঘটনা সেখানে ঘটেনি। বড়পুকুরিয়া কয়লা খনিতে পূর্বে যারা কর্মরত ছিলেন শ্রমিকদের আন্দোলনের মুখে অনিয়মের কারণে তাদেরকে উর্দ্ধতন কর্তপক্ষ বদলী করে দেন। বদলী হলেও তারা এই বড়পুকুরিয়া কয়লা খনিতে সোনার হরিণ পাওয়ার জন্য আবারও ফিরে আসার ষড়যন্ত্র শুরু করেছেন। বর্তমান বড়পুকুরিয়া কয়লা খনিতে সকল শ্রমিক, কর্মকর্তা, কর্মচারীরা যখন খনিটিকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে নিয়ে যাওয়ার জন্য অগ্রসর হচ্ছেন ঠিক তখনেই আবার মিথ্যা ইস্যু সৃষ্টি করে খনিটিকে অচল করার জন্য বাহির থেকে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে বদলী করা হয়েছে তাদের বাড়ি গাড়ি ও গাদি গাদি টাকার মালিক হয়েছে। তাদের সম্পদের হিসাব নেওয়ার প্রয়োজন সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তপক্ষের। 

বর্তমান বড়পুকুরিয়া কয়লা খনিটির উত্তর ও দক্ষিণ দিক সম্প্রসারণের কাজ চলছে। শ্রমিকরাও দিন রাত খনিটির উন্নয়ন কাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। সব মিলিয়ে সকলেই খনিটিকে উন্নয়নে দিকে ধাবিত করছে। ঠিক সেই সময়ে খনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে করে তাদেরকে সরিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করছে। এই অবস্থা চলতে থাকলে খনিটি অচল হয়ে পড়তে পারে। এ বিষয়ে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির কয়েকজন কর্মকর্তার সাথে কথা বললে তারা জানান, সবে মাত্র নতুন এমডি যোগদান করেছেন। তিনি যোগদান করার পর খনিতে কোন অসন্তোষ নাই, শ্রমিক, কর্মকর্তা, কর্মচারীদের সাথে সৌহাদ্যপূর্ণ সম্পর্ক রেখে খনিটিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। তার মধ্যে বদলীকৃত কতিপয় কর্মকর্তা আমলারা খনির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। এদের বিরুদ্ধে কঠোর হস্তে ব্যবস্থা না নিলে দিনের পর দিন বড়পুকুরিয়া কয়লা খনিতে কোন ব্যবস্থাপনা পরিচালক, কর্মকর্তা, কর্মচারী চাকুরি করতে পারবে না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ