মঙ্গলবার ২৬ মে ২০২০
Online Edition

সোনারগাঁয়ে লোককারুশিল্প মেলায় মহিলাদের ওপর বখাটেদের হামলা

 

নারায়ণগঞ্জ সংবাদাদাতা: নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনে মাসব্যাপী লোককারুশিল্প মেলা ও লোকজ উৎসবে দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা দিতে না পারা, নিরাপত্তারক্ষী ও ট্যুরিষ্ট পুলিশের দায়িত্বে অবহেলা এবং কোন অভিযোগের গুরুত্ব না দেয়ার অভিযোগ উঠেছে ফাউন্ডেশন কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। শনিবার রাতে মেলা চত্বরে মহিলা দর্শনার্থীদের উপর বখাটেদের হামলার ঘটনার পর এমন অভিযোগ উঠে। গত শনিবার (২৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় মেলা প্রাঙ্গণে হামলার শিকার দর্শনার্থী ভূক্তভোগী আলেয়া বেগম জানান, উপজেলার মোগরাপাড়া এলাকায় তাদের বাড়ি। শনিবার বিকেলে পরিবার পরিজন নিয়ে বেড়াতে যান সোনারগাঁ জাদুঘরের মাসব্যাপী লোককারুশিল্প মেলা ও লোকজ উৎসবে। বেড়ানোর এক ফাঁকে সন্ধ্যায় তারা বায়োস্কোপ প্রদর্শনী সংলগ্ন মাঠে বসে গল্প করছিলেন। এমন সময় নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম মুকুলের ভাতিজা আলমগীর মিয়ার ছেলে বাপ্পীসহ ১৪/১৫ জন উচ্ছৃঙ্খল যুবক বল নিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে কয়েকবার আমাদের গায়ে মারে। আমার স্বামী সেলিম মিয়া তাদেরকে এমন আচরণ করতে নিষেধ করলে বাপ্পী আমার স্বামীর শার্টের কলার চেঁপে ধরে। এসময় আমি, আমার ভাগ্নি আলো ও আরো কয়েকজন তাদের বাঁধা দিতে গেলে ঐ যুবকরা আমাদের (মহিলা) গায়ে হাত তুলে বেধড়ক মারধর করে। এসময় প্রায় ১’শ গজ দূরে থাকা ট্যুরিষ্ট পুলিশ ও সর্বস্থানে নিয়োজিত জাদুঘরের নিজস্ব নিরাপত্তা রক্ষীরা তাদের বাঁচাতে এগিয়ে আসেনি। পরে আগত দর্শনার্থীরা আমাদের বাঁচানোর চেষ্টা করলে জসিম নামের একজনসহ কয়েকজন আহত হয়। পরে আমরা পুলিশ ও নিরাপত্তারক্ষীদের কাছে এর প্রতিকার চাইলেও তারা আমাদের বাইরে বের হয়ে যেতে বলে। হামলার সময় জাদুুঘরের এক কর্মকর্তা সামনেই ছিল তবুও তিনি কিছু বলেননি, তবে তার নাম মিজান বলে জানা থাকলেও তার পদবী জানা নেই। এ ঘটনার পরপরই হামলাকারীরা মোটরসাইকেলে করে পুলিশের সামনে দিয়েই চলে যায়। এদিকে মেলা প্রাঙ্গণে প্রকাশ্যে মহিলাদের উপর হামলার ঘটনা ঘটলেও হামলাকারীদের প্রতিহত না করা ও মেলার মাঠে মোটরসাইকেল নিয়ে প্রবেশের বিষয়ে ঘটনাস্থলে থাকা জাদুঘরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মোঃ শাখাওয়াত হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি দায়সাড়া ভাব নিয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দোহাই দিয়ে এড়িয়ে যান। ট্যুরিষ্ট পুলিশের (ওসি) মোঃ কাউসার জানান, শনিবার মেলায় আমাদের ৬ জন পুলিশ দায়িত্বে ছিল। ঘটনার সময় আমি ছিলাম না, তবে শুনেছি ছোট একটি ঘটনা ঘটেছে। 

এ বিষয়ে জানতে শনিবার রাতেই জাদুঘর কর্তৃপক্ষের সাথে অফিস কক্ষে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। পরে গিয়ে দেখা যায় লোকজ মঞ্চে সংগীত শিল্পীদের সাথে দাঁড়িয়ে বাদ্যযন্ত্র বাজাচ্ছেন লোককারুশিল্প ফাউন্ডেশনের পরিচালক রবীন্দ্র গোপ। আর দর্শক সারিতে বসে গান শুনছেন ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তাবৃন্দ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ