সোমবার ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১
Online Edition

সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের ঘোষণা ডাকসু নির্বাচনের নামে নাটক হলে প্রতিরোধ

স্টাফ রিপোর্টার : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের ভোটকেন্দ্র আবাসিক হলগুলোতে স্থাপনের বিষয়ে সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তে নিন্দা জানিয়েছে বিশ^বিদ্যালয় সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট। একইসঙ্গে এই সিদ্ধান্তকে ‘অগণতান্ত্রিক’ বলে মন্তব্য করেছে সংগঠনটি। গতকাল বুধবার বেলা ১১ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে এক সাংবাদিক সম্মেলনে সংগঠনটির নেতারা এই মন্তব্য করেন।
ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনে আয়োজনের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ক্যাম্পাসে ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনগুলোর সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠক করে। এসব বৈঠকে অধিকাংশ ছাত্র সংগঠন হলের বাইরে ভোট কেন্দ্রস্থাপনের দাবি জানায়। কিন্তু অধিকাংশের সে দাবি উপেক্ষা করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মঙ্গলবার রাতে সর্বোচ্চ নির্বাহী সভা সিন্ডিকেটে হলের ভেতরে ভোট কেন্দ্র রাখার সিদ্ধান্ত নেয়।
সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ছাত্রফ্রন্টের ঢাবি শাখার সভাপতি ও প্রগতিশীল ছাত্রজোটের সমন্বয়ক সালমান সিদ্দিকী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস ও হলগুলোতে ভয়ভীতি ও দখলদারিত্বের পরিবেশ পুরো মাত্রায় বিদ্যমান। ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠন বাদে অন্য ছাত্র সংগঠনগুলোর অধিকাংশ নেতাকর্মীরা আবাসিক হলগুলোতে অবস্থান করতে পারছেন না, নিজেদের মত প্রকাশের গণতান্ত্রিক পরিবেশ সেখানে নেই। সাধারণ ছাত্রদের অবস্থা আরও শোচনীয়। সেখানে গণরুম ও গেস্টরুমের মাধ্যমে চলে ছাত্রদের ওপর নির্যাতন। এ অবস্থায় হলগুলোতে  ভোটকেন্দ্র স্থাপন করলে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। সিন্ডিকেটের এই সিদ্ধান্ত প্রমাণ করল, প্রশাসন সুষ্ঠু নির্বাচনের দিকে এগোচ্ছে না। এ সময় ‘নির্বাচনের নামে নাটকের’ বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে বলেও জানান তিনি।
প্রশাসন দখলদারিত্বের সহযোগী ভূমিকা পালন করছে অভিযোগ করে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ‘অবাধ, ভীতিহীন পরিবেশ নিশ্চিত করতে না পারলে ডাকসু নির্বাচনের উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে এবং ক্ষমতাসীনদের ক্ষমতা আরও সংহত হবে। দখলদারিত্ব প্রাতিষ্ঠানিক  বৈধতা পাবে।
সাংবাদিক সম্মেলন থেকে তিন দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হল ভোটকেন্দ্র আবাসিক হলের পরিবর্তে নিকটস্থ একাডেমিক ভবনগুলোতে স্থাপন করা, ভীতিমুক্ত পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠান করা এবং  প্রথম বর্ষ থেকেই মেধার ভিত্তিতে হলে বৈধ সিটের ব্যবস্থা করা। সাংবাদিক সম্মেলনে ছাত্রফ্রন্টের কেন্দ্রীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে ডাকসু নির্বাচনের প্রচারণায় কারা অংশ নিতে পারবেন আর কারা পারবেন না তা ঠিক করা হয়েছে। আচরণবিধির প্রচার-প্রচারণা সংক্রান্ত ৪ নম্বর ধারার গ-তে কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। সেখানে প্রচারণায় কারা অংশ নিতে পারবেন না- এমন নির্দেশনায় ‘খ্যাতিমান ব্যক্তিত্ব, রাজনীতিবিদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী’ এই শব্দগুলো বাদ দিয়ে ‘ভোটার ও প্রার্থী ছাড়া অন্য কেউ প্রচারণায় অংশ নিতে পারবে না’ এমনটি লেখা হয়েছে।
পরিবর্তন এসেছে প্রচারণার শেষ সময় রাত ১১টার পরিবর্তে ১২টা করা হয়েছে। তবে প্রচারণা শুরুর সময় সকাল ১০টা ঠিক রাখা হয়েছে।
জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. নাসরীন আহমাদের নেতৃত্বে সাত সদস্যের কমিটির খসড়া প্রস্তাবনাগুলোই চূড়ান্ত হয়েছে। এর বাইরে কেন্দ্রগুলোতে সিসিটিভি স্থাপনের বিষয়ে ছাত্র সংগঠনগুলোর দাবির বিষয়েও আলোচনা হয় সিন্ডিকেটে। এ বিষয়ে সিন্ডিকেট সদস্য হুমায়ুন কবির বলেন, ভোট দেয়ার গোপন বুথের বাইরে সিসিটিভি স্থাপন করা হবে।
ডাকসু নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন না সান্ধ্যকালীন, পেশাদারী অথবা বিশেষ মাস্টার্স, ডিপ্লোমা ও বিভিন্ন কোর্সের শিক্ষার্থীরা। ভোটার ও প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য হবেন অধিভুক্ত ও উপাদানকল্প প্রতিষ্ঠানসমূহের শিক্ষার্থী এবং সরকারি অথবা বেসরকারি চাকরিতে যোগদান করা শিক্ষার্থীরাও। যারা অন্য প্রতিষ্ঠানে অনার্স করে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে শুধু মাস্টার্স অথবা এমফিল করছেন তারা ভোটার ও প্রার্থী হতে পারবেন না। প্রার্থী ও ভোটার হবেন অনার্স, মাস্টার্স এবং এমফিল পর্যায়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা।যারা ভোটার হওয়ার যোগ্য, তারাই প্রার্থী হতে পারবেন। এক্ষেত্রে বয়স হতে হবে ৩০ এর মধ্যে (তফসিল ঘোষণার তারিখ পর্যন্ত)। বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে ১১ মার্চ বহুল আলোচিত এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ