সোমবার ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১
Online Edition

মংলায় পশুর চ্যানেলে ডুবে যাওয়া বলগেট উদ্ধার না হওয়ায় পরিবেশে ক্ষতির আশঙ্কা

খুলনা অফিস : মংলা বন্দরের পশুর চ্যানেলে ডুবে যাওয়া বালি বোঝাই বলগেটটি উদ্ধারে ৫ দিনেও কোনো কার্যক্রম শুরু করা হয়নি। মঙ্গলবার রাতে প্রচন্ড স্রোতের টানে নোঙরের শিকল ছিঁড়ে পেছনে থাকা অপর আরেকটি নৌযানে সাথে ধাক্কা লেগে ডুবে যায় বলগেটটি। মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের বন্দরের হারবার মাস্টার কমান্ডার দুরুল হুদা বলেন, নৌযানটি ডোবায় মূল চ্যানেলে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে না। বন্দর চ্যানেল ঝুঁকিমুক্ত রয়েছে। এদিকে দুর্ঘটনাকবলিত বলগেটের ইঞ্জিন ও ট্যাংক থেকে তেল ছড়িয়ে পড়ায় পরিবেশের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। বাংলাদেশ লাইটারেজ শ্রমিক ইউনিয়নের মংলা শাখার সহ-সভাপতি মো. মাইনুল হোসেন মিন্টু জানান, সুনামগঞ্জ থেকে ১৪ হাজার ফুট লাল বালি বোঝাই করে এমভি জুবায়ের নামক বলগেটটি খুলনা যাওয়ার পথিমধ্যে মঙ্গলবার রাতে মংলা বন্দরের পশুর নদীর বানীশান্তা এলাকায় নোঙর করে অবস্থান নেয়। গভীর রাতে প্রচন্ড স্রোতের টানে বলগেটের নোঙরের শিকল ছিঁড়ে পেছনে থাকা একটি টাগ বোটের সাথে ধাক্কা লাগে। এতে ঘটনাস্থলেই বালি বোঝাই বলগেটটি ডুবে যায়। বলগেটে থাকা ৯ জন স্টাফ সাঁতরিয়ে পাশের নৌযানে উঠে যাওয়ায় কারো কোনো ক্ষতি হয়নি। বলগেট ডুবির ৪ দিন অতিবাহিত হলেও শনিবার দিন নাগাদ মালিক পক্ষ এটি উদ্ধারে কোনো তৎপরতাও শুরু করেনি। বন্দর সূত্র জানায়, এর আগে ২০১৮ সালের ১৫ এপ্রিল চ্যানেলের হাড়বাড়িয়ায় কয়লা নিয়ে এমভি বিলাস, ২০১৭ সালের ৫ জানুয়ারি ক্লিংকার নিয়ে এমভি শোভা, ১২ জানুয়ারি কয়লা নিয়ে এমভি আইচগাতী, ২০১৫ সালের ২৭ অক্টোবর কয়লা নিয়ে এমভি জিয়া-রাজ, ২০১৪ সালের ৯ ডিসেম্বর ফার্নেস অয়েল নিয়ে ওটি সাউদার্ন স্টার-৭, ১২ সেপ্টেম্বর ক্লিংকার নিয়ে এমভি হাজেরা-২ ও ৩০ সেপ্টেম্বর ক্লিংকার নিয়ে এমভি নয়ন শ্রী-৩ পশুর নদে ডুবে যায়। পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মো. শাহিন কবির বলেন, বিগত নৌযানডুবির ঘটনায় গঠিত বন বিভাগের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে উঠে আসে ফিটনেসবিহীন নৌযান ব্যবহার এবং মাস্টার ও চালকদের অদক্ষতার বিষয়টি। এদিকে দুর্ঘটনাকবলিত বলগেটের ইঞ্জিন ও ট্যাংক থেকে তেল ছড়িয়ে পড়ায় পরিবেশের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। এ ব্যাপারে সুন্দরবন নিয়ে গবেষণাকারী বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সেভ দ্যা সুন্দরবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, ডুবন্ত নৌযানের জ্বালানি ছড়িয়ে পড়ায় পানি দূষণের পাশাপাশি জলজ ও প্রাণিসম্পদের ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। সুন্দরবন সংলগ্ন পশুর নদে একের পর এক নৌযানডুবির ঘটনার পেছনে রয়েছে নৌযানের ফিটনেস ঘাটতি, মাস্টার-চালকদের অদক্ষতা। বিগত দুর্ঘটনাগুলোর তদন্ত প্রতিবেদনে এ চিত্র উঠে এলেও সচেতন হননি মালিকরা। ঘন ঘন দুর্ঘটনার কারণে উঠে আসছে বন্দর কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনার চিত্রও। এতে জীববৈচিত্র্য ক্ষতির হুমকিতে পড়েছে বিশ্বের সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ বনের।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ