শনিবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১
Online Edition

নীরবতা ভাঙলেন সু চি ডাক দিলেন সত্য উন্মোচনের

৩০ জানুয়ারি, রয়টার্স : মিয়ামনারের রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা অং সান সু চি’র ঘনিষ্ঠ সহযোগী আইনজীবী উ কো নি’র হত্যাকাণ্ডে সেনা-সংশ্লিষ্টতার আলামত মিললেও তা নিয়ে এতোদিন নীরব ছিলেন সু চি। মিয়ানমারের রাজনীতিতে সেনা-গ্রভাবের বিরুদ্ধে সোচ্চার এবং সু চির দলের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করা কো নি’র  দ্বিতীয় মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে গ্রচারিত এক ভিডিও বার্তায় এই আহ্বান জানান তিনি। ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে খুন হওয়া কো নি রাজনীতিতে সংস্কারের ডাক দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দেশটির সংখ্যালঘুদের সুরক্ষায়, গণতন্ত্র গ্রতিষ্ঠায় এবং সামরিক গ্রভাব থেকে রাষ্ট্রযন্ত্রকে মুক্ত করার জন্য অং সান সু চির রাজনৈতিক দলের সঙ্গে কাজ করে আসছিলেন।

২০১৭ সালের জানুয়ারি মাসে ইন্দোনেশিয়া থেকে ফেরার পথে ইয়াঙ্গুন বিমান বন্দরেতাকে হত্যার শিকার হন কো নি। বিমানবন্দরের পার্কিং এলাকায় গাড়িতে ওঠার আগ মুহূর্তে ভিড়ের ভেতর থেকে গোলাপি শার্ট পরা এক লোক এসে কো নির মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে গুলি করে। রাস্তায় রক্তে লেপ্টে পড়ে থাকে কো নির নিথর দেহ। হত্যাকারীকে গ্রতিহত করতে গিয়ে গ্রাণ হারান তার ট্যাক্সি ড্রাইভারও। গত বছরের ডিসেম্বরে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক অনুসন্ধানে বলা হয় কো নি হত্যার ঘটনায় আদেশদাতা হওয়ার ও অর্থায়ন করার অভিযোগে অভিযুক্ত তিন ব্যক্তিই দেশটির সেনাবাহিনীতে কাজ করেছেন। আনুষ্ঠানিকভাবে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সঙ্গে তাদের সম্পর্ককে অস্বীকার করা হলেও গ্রাসঙ্গিক নথি থেকে উঠে আসে, সেনা নেতৃত্বের অত্যন্ত উচ্চ পর্যায়ের সঙ্গে তারা যুক্ত।

গত বছর ডিসেম্বরে রয়টার্স গ্রকাশিত এক বিশেষ গ্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, হত্যার মাসখানেক সময়ের মধ্যেও কোনও এ বিষয়ে কোনও গ্রতিবাদ করেননি সুচি। কো নির সৎকার অনুষ্ঠানেও যাননি তিনি। তাকে সমবেদনা গ্রকাশ করতে দেখা যায় হত্যাকা-ের মাসখানেক পর সু চির এনএলডি'র এক স্মরণসভায়। গ্রকাশ্য জনসভায় তিনি কো নিকে তার পরামর্শদাতা ও সহযোগী হিসেবে স্মরণ করলেও হত্যাকা-ের তদন্ত ও ন্যায়বিচার গ্রশ্নে নীরবতা পালন করেন। সে সময় সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র দাবি করে, সু চি একান্ত আলাপচারিতায় বলেছেন, ‘ওরা কো নিকে আমাদের কাছ থেকে কেড়ে নিলো,’ যার ক্ষতি পূরণ হওয়ার নয়।কিন্তু তার গ্রকাশ্য নীরবতা এটাই দেখিয়ে দেয়, দেশটির সামরিকতন্ত্র আদতে কতটা গ্রভাবশালী। কো নির ছেলে থান্ট জিন উ সু চির এই নীরবতা গ্রসঙ্গে মন্তব্য করেছেন, ‘সৎকারের দিনে তার অনুপস্থিত থাকা এবং এ বিষয়ে গ্রায় কিছুই না বলার গ্রেক্ষিতে মানুষ অনেক অসন্তুষ্ট।’ এতোদিন নীরব থাকলেও ২৯ জানুয়ারি (মঙ্গলবার) সু চি বলেছেন, কো নি হত্যাকাণ্ডের সত্য উন্মোচিত হতে হবে।

কো নি’র এই হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে সু চি সোচ্চার হলেন সেইদিন, যেদিন সামরিক গ্রাধান্যের সংবিধানকে সংশোধন গ্রশ্নে পার্লামেন্টে আলোচনার গ্রস্তাব পাস হয়েছে। এদিন কো নি’র  দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকীর স্মরণসভার জন্য পাঠানো এক ভিডিও বার্তায় সু চি বলেন, ‘সেটা ছিল এক অপূরণীয় ক্ষতি। জনসাধারণের হৃদয়ে তারা (কো নি ও তার ট্যাক্সি ড্রাইভার) বেঁচে থাকবেন বিনম্র শ্রদ্ধায়’। গত বছর কো নি’র স্মরণসভায় উপস্থিত থাকলেও এবছর ব্যক্তিগতভাবে সেখানে ছিলেন না সু চি।

কো নি হত্যার পর চারজনকে আটক করা হয়েছিল। এরমধ্যে কো নি’র ওপর গুলি চালানো বন্দুকধারী কিয়াই লিন রয়েছে বলে দাবি করে পুলিশ। আটককৃত চারজনের বিরুদ্ধে আগামী ১ ফেব্রুয়ারি ইয়াঙ্গুনের উত্তরাঞ্চলীয় জেলা আদালতে চুড়ান্ত যুক্তিতর্কের শুনানি অনুষ্ঠানের কথা রয়েছে। তবে মিয়ানমারের পুলিশ বাহিনী এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারীকে গ্রেফতার করতে না পারায় সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে। 

পূর্বপরিকল্পনাকারী হিসেবে ৪৭ বছর বয়সী উইন খিনকে অভিযুক্ত করে তাকে পলাতক ঘোষণা করেছে মিয়ানমারের আদালত। দেশটির পুলিশের আবেদনের গ্রেক্ষিতে তার বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করেছে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোল।

সামরিক আমলে গ্রণীত নাগরিকত্ব আইন অনুযায়ী অং সান সু চি গ্রেসিডেন্ট হতে না পারায় তার জন্য রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টার পদ সৃষ্টির গ্রস্তাব করেছিলেন কো নি। মঙ্গলবার তার স্মরণসভায় যোগ দেন রাষ্ট্রদূত, আইন বিশেষজ্ঞসহ তার পরিবারের সদস্যরা। নিহত ট্যাক্সিচালক নাই উইনের পরিবারের সদস্যরাও ওই আয়োজনে অংশ নেন। বিভিন্ন ধর্মের মানুষ কো নি ও নাই উইনের স্মরণ করে বক্তব্য রাখেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ