সোমবার ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১
Online Edition

ভারতের রোহিঙ্গা লজ্জা

৩০ ডিসেম্বর, ইন্টারনেট : চলতি মাসের শুরুতে ভারত ৫টি রোহিঙ্গা পরিবারকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে দুর্দশায় জর্জরিত রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে। নিজ বাসভূমি মিয়ানমারে গিয়ে তারা নিশ্চিতভাবেই মানবাধিকার লঙ্ঘন ও কারাবন্দিত্বের মুখে পড়বে বলেই এই আতঙ্ক। গত অক্টোবরে ৭ জন রোহিঙ্গা পুরুষকে বিতর্কিত বলপূবর্ক বহিষ্কার করার গ্রেক্ষাপটে এবারের গ্রত্যাবর্তন ঘটল।

ভারতীয় কর্তৃপক্ষ বলছে, তাদের দেশে বসবাসরত রোহিঙ্গা উদ্বাস্তেুর বর্তমান সংখ্যা গ্রায় ৪০ হাজার। এখন বহিষ্কারের যে গ্রক্রিয়া চলছে, তা আসলে রোহিঙ্গাদের তাড়িয়ে দিতে উগ্র ডানপন্থী সরকার আগে যে ঘোষণা দিয়েছিল, তারই বাস্তবায়ন। আন্তর্জাতিক আইনে আশ্রয়গ্রার্থীদের বহিষ্কার করার কোনো বিধান না থাকলেও ক্ষমতাসীন দলের কর্মকর্তারা তাদেরকে দেশে থাকতে না দেয়ার কথা বলে আসছিল। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো মনে করছে, দেশে ফিরলেই এসব রোহিঙ্গা নির্যাতনের মুখে পড়বে। তাদের নির্যাতনের শিকার হওয়াটা নিশ্চিত বিষয়। এক বছর আগে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর শুদ্ধি অভিযানের পর সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে।

জাতিসংঘ কর্মকর্তারা মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর পদক্ষেপকে গণহত্যা হিসেবে অভিহিত করে দায়ীদের বিচার করার আহ্বান জানিয়েছে। জাতিসংঘ ও অন্য অনেক অধিকারক গ্রুপ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা মনে করে, গ্রত্যাবাসনের জন্য মিয়ানমার নিরাপদ নয়।

সর্বশেষ বহিষ্কারের কারণে রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুরা এখন ভারতে না থেকে বাংলাদেশে চলে যেতে শুরু করেছে। বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ হিসাব করে দেখেছে, ভারত থেকে ১,৩০০ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে চলে এসে আশ্রয় গ্রার্থনা করছে।

অতি সম্প্রতি ৩১ জন উদ্বাস্তু এসেছে বাংলাদেশে। এদের মধ্যে ১৬ জন শিশু ও ছয়জন নারী। তারা ভারত-বাংলাদেশের মধ্যকার ‘নো ম্যান্স ল্যান্ডে’ চার দিন অবরুদ্ধ অবস্থায় ছিল। তাদেরকে বাংলাদেশেও আসতে দেয়া হচ্ছিল না। দুই দেশের কেউ একমত হতে পারছিল না তাদের নিয়ে কী করা যেতে পারে। শেষ পর্যন্ত ভারত ২২ জানুয়ারি তাদেরকে গ্রেফতার করে। সম্ভবত ‘অবৈধ অভিবাসী’ হিসেবে আখ্যায়িত করে তাদেরকে দীর্ঘ মেয়াদে কারাগারে রাখা হবে। এ ধরনের কারারুদ্ধকরণ কেবল ভারতের নিজস্ব আইনেরই লঙ্ঘন নয়, সেইসাথে আন্তর্জাতিক আইনেরও বরখেলাপ। তবে ভারত সরকার রোহিঙ্গাদের গ্রতি যে ধরনের আচরণ গ্রদর্শন করছে, তাতে বিস্ময়ের অবকাশ আছে কমই। কারণ ভারতের অনেক কর্মকর্তা গ্রায়ই গ্রথাগত নিয়ম লঙ্ঘন করে থাকে।

বিজেপির রোহিঙ্গাবিরোধী নীতি :

ভারতে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের বেশির ভাগই দেশটিতে গ্রবেশ করেছে ২০১২ সালের আগে। ওই সময় বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের তেমনভাবে স্বাগত জানানো হতো না। এক রোহিঙ্গা উদ্বাস্তু জানান, আমাদের গ্রায় সবাই গ্রথমে বাংলাদেশে যেতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সেখানে কাজের সুযোগ না থাকায় এবং সরকার সহায়তা না করায় এখানে এসেছিলাম।

৫ বছরের বেশি সময় ধরে ভারতে বসবাসরত ওই রোহিঙ্গা জানান, অনেকেই বলেছিল, ভারতে কাজ করার অনেক সুযোগ রয়েছে। কিন্তু ভারতে আসার পর তারা মোহভঙ্গের শিকার হয়। তবে শুরুতে অনেকে বাংলাদেশের চেয়ে ভারতে কিছু সুবিধা বেশি পেয়েছে। অনেক উদ্বাস্তুর সন্তান স্কুলে ভর্তি হওয়ার সুযোগও পেয়েছে।

তবে ২০১৪ সালে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর তাদের অবস্থা আরো নাজুক হতে থাকে। বিজেপি সরকার রোহিঙ্গা মুসলিমদের ভারতের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি বিবেচনা করতে থাকে। তাদেরকে কড়া নজরদারির মধ্যে রাখা হয়, নিয়মিতভাবে হয়রানির শিকার করা হয়। এমনকি ঘিঞ্চি বস্তির বাইরে তাদের বসবাসও নিষিদ্ধ করা হয়।

এমন অসহায় পরিস্থিতিতে বসবাস করে রোহিঙ্গারা স্বাস্থ্য ঝুঁকিসহ নানা সঙ্কটে পড়ে যায়। তারা সবসময় ভীতিকর অবস্থায় থাকে। নানা হুমকির মুখে থাকে তারা।

ভারত সরকার এখন তাদেরকে মিয়ানমারে বহিষ্কার করে তাদেরকে বিপদের মুখে ফেলে দিচ্ছে। সরকারের এই নীতির গ্রতিবাদ করা না হলে রোহিঙ্গারা আগ্রাসী জাতীয়তাবাদ ও ইসলামফোবিয়ার শিকার হতে থাকবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ