শনিবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১
Online Edition

ভেনিজুয়েলায় সামরিক আগ্রাসনের পাঁয়তারা করছে যুক্তরাষ্ট্র -----রাষ্ট্রদূত

৩০ জানুয়ারি, আনাদুলো, আল জাজিরা : যুক্তরাষ্ট্র ভেনিজুয়েলায় সামরিক আগ্রাসনের গ্রস্তুতি নিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘে নিযুক্ত ভেনিজুয়েলার রাষ্ট্রদূত জোরগে ভ্যালেরো। রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার জের ধরে যুক্তরাষ্ট্র ভেনিজুয়েলার রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার পর দক্ষিণ আমেরিকার এ দেশটির পক্ষ থেকে এ বক্তব্য পাওয়া গেল।

 ভেনিজুয়েলা সরকারের ওপর অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করার লক্ষ্যে ওই নিষেধাজ্ঞাকে এ যাবতকালের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।

জাতিসংঘের উদ্যোগে নিউইয়র্কে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণবিষয়ক এক সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ভ্যালেরো এ মন্তব্য করেন। মার্কিন গ্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভেনিজুয়েলা সরকারের করণীয় ঠিক করে দেয়ার অধিকার আছে কিনা তা জানতে চান তিনি।

এ ছাড়া মার্কিন রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম রোববার এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ভেনিজুয়েলার গ্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর বিরুদ্ধে ‘সামরিক ব্যবস্থা’ নেয়ার ইচ্ছা গ্রকাশ করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। গ্রাহাম অবশ্য বলেন, তিনি এ কাজ থেকে ট্রাম্পকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

গত বছরের মে মাসে ভেনিজুয়েলায় অনুষ্ঠিত গ্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়লাভের মাধ্যমে দ্বিতীয় মেয়াদে গ্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন মাদুরো। চলতি মাসের শুরুতে শপথ নেন বামপন্থী এ রাজনীতিক।

তবে বিরোধীরা গ্রথম থেকেই কারচুপির অভিযোগ তুলে নতুন নির্বাচনের দাবি জানিয়ে আসছে। তেলসমৃদ্ধ দেশটির নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয়ার জন্য বিরোধীদের এ দাবির গ্রতি সমর্থন জানিয়েছে আমেরিকাসহ বেশ কিছু পশ্চিমা দেশ।

এদিকে, ভেনিজুয়েলা স্বঘোষিত অন্তর্বর্তী গ্রেসিডেন্ট হুয়ান গুইদোর বিরুদ্ধে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করে তার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দের নির্দেশ দিয়েছে দেশটির সুগ্রিম কোর্ট। এমন কোনো কিছু করা হলে ‘গুরুতর পরিণতি হবে’ বলে যুক্তরাষ্ট্র সতর্ক করার পরও গত মঙ্গলবার এসব পদক্ষেপ নেয় ভেনেজুয়েলার কর্তৃপক্ষগুলো।

সরকারি কৌঁসুলিরা গুইদোর বিষয়ে তদন্ত করতে পারবে বলেও জানিয়েছে সর্বোচ্চ আদালত। সোমবার ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি পিডিভিএসএ-র ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র।

এই নিষেধাজ্ঞার কারণে পিডিভিএসএ উত্তর আমেরিকার ক্রেতাদের সঙ্গে করা চুক্তি পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে পারবে না বলে ভেনেজুয়েলার গ্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর সরকার জানিয়েছে।

মাদুরোকে ক্ষমতা থেকে সরাতে ৫৬ বছর বয়সী এই শ্রমিক নেতার বিরুদ্ধে নেওয়া সবচেয়ে কঠোর পদক্ষেপ এ নিষেধাজ্ঞা। এ পদক্ষেপের পর বিশ্বব্যাপী তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ক্ষুব্ধ গ্রতিক্রিয়া জানিয়েছে চীন ও রাশিয়া।  

এরপরই গত সপ্তাহে নিজেকে ‘অন্তর্বরতী গ্রেসিডেন্ট’ হিসেবে ঘোষণা করার পর গ্রথমবারের মতো গুইদোর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিল ভেনেজুয়েলা সরকার। গত সপ্তাহে তিনি গ্রেসিডেন্ট মাদুরোর কর্তৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করে ওই ঘোষণা দিয়েছিলেন। ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশি রাষ্ট্রগুলোকে হস্তক্ষেপ করতে সাহায্য করেছেন গুইদো, এ অভিযোগে গুইদোর বিরুদ্ধে তদন্তের অনুমতি দিতে সুগ্রিম কোর্টের কাছে আবেদন করেন অ্যাটর্নি জেনারেল তারেক সাব। একজন আইনগ্রণেতা ও জাতীয় পরিষদের গ্রধান হিসেবে বিশেষ ছাড় থাকায় সর্বোচ্চ আদালতের অনুমতি ছাড়া গুইদোর বিরুদ্ধে কোনো তদন্ত করা যায় না।

আবেদন অনুমোদন করে সুগ্রিম কোর্ট গুইদোর বিরুদ্ধে গ্রাথমকি তদন্তের অনুমতি দেয়।

এর পাশাপাশি ৩৫ বছর বয়সী বিরোধীদলীয় নেতা গুইদোর বিরুদ্ধে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করে তার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দেরও নির্দেশ দেয় সুগ্রিম কোর্ট। ভেনেজুয়েলার ৩২ সদস্যের সুগ্রিম কোর্ট দ্রুততার সঙ্গে গুইদোর বিরুদ্ধে তদন্তের আবেদনে সায় দিয়েছে; ‘মাদুরোর গ্রতি শীর্ষ আদালতের আনুগত্যের’ কারণেই এমনটি হয়েছে বলে মন্তব্য রয়টার্সের।

যুক্তরাষ্ট্র ও এর মিত্র দেশগুলো গুইদোকে ভেনেজুয়েলার বৈধ রাষ্ট্রগ্রধান হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে এবং মাদুরোকে ‘ক্ষমতা দখলকারী’ আখ্যা দিয়ে তার নিন্দা করেছে। অপরদিকে চীন, রাশিয়াসহ বেশ কয়েকটি দেশ খোলাখুলি মাদুরোর গ্রতি সমর্থন জানিয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ