শনিবার ২২ জানুয়ারি ২০২২
Online Edition

রূপালী ব্যাংকের তিন কর্মকর্তাকে হাইকোর্টে তলব

স্টাফ রিপোর্টার: রূপালী ব্যাংকের ১৫ কোটি টাকা আত্মসাতের মামলায় অভিযোগপত্র থেকে অব্যাহতি পাওয়া তিন কর্মকর্তাকে তলব করেছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে কেন তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত।
সশরীরে তলবের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক। উপস্থিত হয়ে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দেয়ার জন্য বলা হয়েছে। ১৩ ফেব্রুয়ারি আদালতে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
ব্যাংকের তিন কর্মকর্তা হলেন- রূপালী ব্যাংক স্থানীয় কার্যালয়ের সাবেক উপ-মহাব্যবস্থাপক বর্তমানে মহাব্যবস্থাপক এস এম আতিকুর রহমান, সাবেক সহকারী মহাব্যবস্থাপক বর্তমানে উপ-মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আলী ও সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার মো. আবদুস সামাদ সরকার। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে সংশ্লিষ্টদের এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার হাইকোর্টের বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামী এভারেস্ট হোল্ডিং ও টেকনোলজিস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ এইচ এম বাহাউদ্দীন এর আপিল মামলায় জামিন শুনানির সময় বিষয়টি হাইকোর্টের নজরে আসলে এই সুয়োমুটো (স্বপ্রণোদিত হয়ে) রুল জারির নির্দেশনা দেন।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল হেলেনা বেগম চায়না। দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী হাসাম এম এস আজিম। আপিলকারী পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. রিজাউল ইসলাম রিয়াজ।
মামলার এজাহার দেখা যায়, গ্রাহকের সনদ যাচাই না করে পরস্পর যোগসাজশে বিক্রিত জমি ও ফ্ল্যাট অবিক্রীত হিসেবে প্রদর্শন করে ও বন্ধক দেখিয়ে ঋণ প্রস্তাব করার পর ১৫ কোটি টাকা গ্রাহকের নামে বিতরণ করে আত্মসাত করায় দণ্ডবিধি আইনের ৪০৯/১০৯ ও দুদক আইনের ৫(২) ধারায় দুদকের উপ-পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম ২০১২ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর ৫ জনকে আসামী করে রাজধানীর মতিঝিল থানায় মামলা করেন।
পরে তিনি তদন্ত করে গত ২০১৩ সালের ২৯ আগস্ট তিন ব্যাংক কর্মকর্তাকে অব্যাহতি দিয়ে এভারেস্ট হোল্ডিং অ্যান্ড টেকনোলজিস লিমিটেডের চেয়ারম্যান আবু বোরহান চৌধুরী, ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ এইচ এম বাহাউদ্দীন ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক উপ-পরিচালক বর্তমানে পরিদর্শক মো. আব্দুল কুদ্দুস খানকে আসামী করে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
মামলায় ২০১৩ সনের ১৯ সেপ্টেম্বর বিচারিক আদালতে অভিযোগপত্র আমলে নেয় ও ২০১৪ সালের ২৫ জুন অভিযোগ গঠন করা হয়। মামলায় সাক্ষী গ্রহণ করে বিচার শেষে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত নং ৬ গত ২০১৫ সালের ১২ এপ্রিল এভারেস্ট হোল্ডিং অ্যান্ড টেকনোলজিস লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালককে সশ্রম যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করেন। অপর আসামীকে খালাস দেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ