শনিবার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

হাসপাতালে ডাক্তারকে পাওয়া না গেলে সঙ্গে সঙ্গে ওএসডি -প্রধানমন্ত্রী

গতকাল রোববার বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় পরিদর্শনে এসে মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা -ছবি : বাসস

স্টাফ রিপোর্টার : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিন বলেছেন, চিকিৎসা সেবা দিতে ব্যর্থ হলে চিকিৎসক ও নার্সদের চাকরি ছেড়ে দিতে হবে। তিনি বলেন, হাসপাতালে ডাক্তারদের উপস্থিতি শতভাগ নিশ্চিত করুন। কর্মক্ষেত্রে ডাক্তারকে পাওয়া না গেলে সঙ্গে সঙ্গে ওএসডি করতে হবে। আমার নির্দেশ, আজ থেকে যে হাসপাতালে যে ডাক্তারকে পাওয়া যাবে না সঙ্গে সঙ্গে তাকে ওএসডি করতে হবে। পরেরটা পরে দেখা যাবে।
গতকাল রোববার সকাল ১০টায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। এ সময় তিনি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। সভায় উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক, মন্ত্রণালয়ের সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, সরকারি হাসপাতালগুলোতে বায়োমেট্রিক পদ্ধতি চালু করে চিকিৎসকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে।
চিকিৎসকদের উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে এক বছর থাকতে হবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসকদের দুই বছর ইন্টার্নশিপের ব্যবস্থা করতে হবে, এক বছর থাকতে হবে উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে।
 সেবামূলক মনোভাব না থাকা চিকিৎসক-নার্সদের সতর্ক করে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোগীদের যথাযথ সেবা দিতে হবে। নতুবা আপনাদেরও ওএসডি করা হবে, চাকরি থাকবে না।
সরকারি হাসপাতালগুলোর ঠিকমত চিকিৎসক না থাকার বিষয়ে সতর্ক কর দিয়ে সরকার প্রধান বলেন, জেলায় জেলায় সার্ভে করতে হবে, হাসপাতালে ডাক্তার থাকে না কেন? যারা সেবা দেবেন না তাদের ওএসডি করে রাখার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, চিকিৎসকদের রাষ্ট্রীয় সম্মান দেয়া হয়েছে, তাদের অবশ্যই চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে হবে । তা না হলে চাকরি থেকে চলে যেতে হবে তাদের।
নার্সদের সরকারি নানান সুবিধা দেয়ার কথা মনে করিয়ে দিয়ে সরকার প্রধান বলেন, দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরির মর্যাদা পেয়ে নার্সরা রোগীর সেবা করবেন না সেটা হবে না। শুধু ওষুধ খাওয়ানোর জন্য তাদের নার্স করা হয়নি। যারা রোগীর সেবা করবেন না তাদের এই পেশায় আসার দরকার নাই।
তিনি বলেন, এখন নার্সদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ আছে। নার্সরা সেবা দেবে না- এটা ঠিক নয়। নার্সদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে হবে। শিগগিরই নার্সদের কর্মপরিধি আবারও মন্ত্রণালয়কে সুনির্দিষ্টকরণের তাগিদ দেন তিনি।
বেসরকারি মেডিকেল কলেজের শিক্ষার মান বাড়ানোর তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, বেসরকারি মেডিকেল কলেজের প্রতি আরও নজর দেয়া প্রয়োজন। মান ও সেবা দুটোরই উন্নয়ন প্রয়োজন। আগামীতে প্রতিটি বিভাগীয় শহরে আরও বড় মাপের হাসপাতাল গড়ে তোলা হবে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, আগামীতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ আরো স¤প্রসারণ করা হবে। আটটি বিভাগীয় শহরে ১০০ শয্যা বিশিষ্ট ক্যান্সার হাসপাতাল স্থাপন করা হবে। ১০ হাজার চিকিৎসক নিয়োগের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে৷
মন্ত্রণালয়কে উদ্দেশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মেডিকেল কলেজগুলোতে চিকিৎসা বিদ্যায় পর্যাপ্ত শিক্ষকের অভাব রয়েছে৷ তাদের উৎসাহিত করতে প্রণোদনার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। রোগীদের নিবিড় সেবা দিতে নার্সদের কর্মপরিধি সুনির্দিষ্ট করা প্রয়োজন।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিভাগীয় শহরগুলোতে বড় হাসপাতাল নির্মাণ করতে হবে, যাতে রাজধানীতে রোগীর চাপ কম পড়ে। রাজধানীর সেবা যেন তারা ওইসব হাসপাতালে পায় তেমন করে গড়ে তুলতে হবে। শুধু ওষুধ খাওয়ানো নার্সদের কাজ নয়, রোগীকে প্রকৃত সেবা দিতে হবে। সঠিক দায়িত্ব পালন না করলে নার্সদেরও সঙ্গে সঙ্গে অব্যাহতি দিন। রোগীর সেবা করাই ডাক্তার ও নার্সদের মূল কাজ। এটি করতে না পারলে এই পেশায় থাকার দরকার নেই।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ