বুধবার ১২ আগস্ট ২০২০
Online Edition

খুলনার সরকারি বিএল কলেজ সড়কে বালিভর্তি খোলা ট্রাকসহ অবৈধ দখলদাররা বেপরোয়া

খুলনা অফিস : খুলনার দৌলতপুরস্থ সরকারি বিএল বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ। সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যার আগ পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের পদচারণায় থাকে মুখর। বিএল কলেজ সড়ক নামে খ্যাত সড়কটি আজ ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। সড়কের পাশের ফুটপাত ব্যবসায়ীদের দখলে। কিন্তু ওই সড়কে সবচেয়ে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে বালিভর্তি খোলা ট্রাক চলাচল। লাইন দিয়ে ওই সড়ক দিয়ে ট্রাক চলছে আর বালি উড়ে শিক্ষার্থীসহ পথচারিদের চোখে মুখে ভরে যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে এ ট্রাক সড়ক দিয়ে দাপিয়ে চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তেমন মাথাব্যথা আছে বলে মনে হয় না। পুরো সড়কটি দিয়েই চলছে ট্রাক।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, খানজাহান আলী ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী তুহিন পারভেজও বালির ব্যবসা করছেন। ৫/৬ জন ব্যবসায়ী একইভাবে নগরীতে খোলা ট্রাকযোগে নগরীতে বালি সরবরাহ করে থাকেন। এমন কি তারা লঞ্চঘাটের দিকে যাওয়ার সড়কটি বালি রেখে পুরো দখল করে রেখেছে। বিএল কলেজ সড়ক থেকে দৌলতপুর পুরাতন লঞ্চঘাট পর্যন্ত এ সড়কটি বালি ব্যবসায়ীরা বালি রেখে প্রায় দখল করে রেখেছে। তাছাড়া বিএল কলেজ সড়কটি কলা-তেল ব্যবসায়ীরা সড়ক দখল করেই তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এমন কি বিএল কলেজের দ্বিতীয় গেট রেখে কিছু দূরে বালি ব্যবসায়ীরা ফুটপাত দখল করে রেখেছে। ওই বালি খোলা অবস্থায় পড়ে থেকে বাতাসে উড়ে শিক্ষার্থীদের চোখে মুখে আসছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চলাচলের পথে ও কলেজের ওয়ালের সাথে সড়কের ফুটপাতে বালি রেখে প্রভাবশালীরা ব্যবসা করে যাচ্ছে। ওই সড়কে খোলা বালিভর্তি ট্রাক শুধু স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। এতে শিক্ষার্থীদের জীবনের ঝুঁকি রয়েছে। বেপরোয়া বালিভর্তি খোলা ট্রাকে ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা বলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের অভিযোগ। বিএল কলেজ মন্দির ঘাটে (শ্মশান ঘাট) জনৈক বালি ব্যবসায়ী বিভিন্ন স্থান থেকে বালি ক্রয় করে জাহাজ-ট্রলারযোগে এনে ওই ঘাটে মজুদ করে রাখেন। পরে চাহিদা অনুযায়ী ভবন-সড়ক নির্মাণকারীদের মাঝে ট্রাকে করে সরবরাহ করে থাকেন। একইভাবে বালি এনে মজুদ করেন স্থানীয় প্রভাবশালী আরেক ব্যবসায়ী। তার রয়েছে সবচেয়ে বেশি বালি মজুদ। তার ঘাট থেকে তিনি বালি ট্রাকযোগে বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করে থাকেন। পাশে অন্য ব্যবসায়ীরাও ঘাটে বালি রেখে অবাধে ব্যবসা করে।

বালি ব্যবসায়ী তুহিন পারভেজ বলেন, এভাবে তারাও বালি পরিবহণের পক্ষে নয়। তবে সবাই করছে তাই তিনিও করছেন। বিষয়টি যে শিক্ষার্থীদের জন্য ক্ষতিকর এটা তিনি স্বীকার করে বলেন, বিষয়টি থেকে পরিত্রাণ পেতে সকলকে একসাথে কাজ করতে হবে।

এ ব্যাপারে কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল প্রফেসর শরীফ আতিকুজ্জামান জানান, এ কলেজে প্রায় ৩০ হাজার শিক্ষার্থীসহ শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছে। বিষয়গুলো নিয়ে বিগত দিনে মেয়রসহ সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে। কিন্তু সমস্যার সমাধান হয়নি। উল্টো অনিয়মকারীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। বর্তমান মেয়রের নিকট বিষয়টি এখনও বলা হয়নি। শিগগিরই বলা হবে বলে তিনি জানান।

ছাত্রলীগ বিএল কলেজ শাখার সভাপতি মো. রাকিব মোড়ল বলেন, স্থানীয় প্রভাবশালী মহল রাজনৈতিক দলের নাম ব্যবহার করে উল্লেখিত অনিয়মগুলো করে যাচ্ছে। বিগত দিনে বিষয়গুলো নিয়ে নানা আন্দোলন হলেও সমস্যা সমাধান হয়নি। তবে বিষয়গুলো নিয়ে আবারও আন্দোলন করতে হবে বলে তিনি মনে করছেন।

কলেজের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী হেলেনা আক্তার রোকসী বলেন, বিএল কলেজ সড়ক দিয়ে হাঁটা যায় না। বালিভর্তি ট্রাক চলে বেপরোয়া গতিতে। খোলা ট্রাকের বালিতে পুরো সড়ক ধূলাময় হয়ে পড়েছে। সড়ক দিয়ে চলাচলরত শিক্ষার্থীরা ধূলাতে একাকার হয়ে যায়। এটা বন্ধ করার দাবি করেন তিনি।

ছাত্র শৈলেন্দ্রনাথ বৈরাগী বলেন, বালিভর্তি খোলা ট্রাকগুলো এতই বেপরোয়া গতিতে চলে যে কোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। সম্প্রতি একজন ছাত্রী ওই ট্রাকের ধাক্কায় আহত হয়। এসব ট্রাক ও চালকের কোনো বৈধ কাগজপত্র আছে বলে মনে হয় না বলে তিনি জানান।

বিএল কলেজ সড়কে কলা ব্যবসায়ী নূর আলম জানান, আগে এ সড়কে ২০/২৫টি কলার দোকান ছিল। এখন তা কমে ৩/৪টিতে নেমে এসেছে। এছাড়া বালির ট্রাকগুলো খোলা অবস্থায় চলাচলের জন্য সড়ক দিয়ে চলাফেরা করা কষ্টকর হয়ে পড়ছে। বালি উড়ে কলেজে যাতায়াতকারী শিক্ষার্থীসহ পথচারিরা কষ্ট ভোগ করে। বালি ব্যবসায়ীরা সচেতন হলে এ অবস্থা থেকে শিক্ষার্থীরা পরিত্রাণ পেত। এছাড়া পুরাতন লঞ্চঘাটের সড়কটি বালি ব্যবসায়ীরা ব্যবহার করতে পারে বলে তিনি মনে করেন।

কেসিসির মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক বলেন, বিষয়টি তার নজরে আছে। উচ্ছেদ অভিযান চলছে। শিগগিরই এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ