শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

সাহিত্য সংস্কৃতি কেন্দ্রের একটি মূল্যবান সংকলন সীরাতুন্নবী (সা) সংখ্যা ২০১৮

 

তাজ ইসলাম : প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মাদ (সা)। তিনি বিশ্বনবী, শ্রেষ্ঠনবী, সর্বশেষ নবী। তাঁর নামে আল্লাহ প্রশংসা করেন। ফেরেস্তাগণ দরূদ পড়েন। আর বিশ্ববাসী মোমেনের প্রতি নির্দেশ তারাও যেন দরূদ পড়েন তাঁর নামে। তাঁর পবিত্র নাম শ্রবণকারী যদি দরূদ না পড়ে তার ধ্বংস কামনা করা হয়েছে। সারা জাহান জুড়ে প্রতিনিয়ত পঠিত হচ্ছে অসংখ দরূদ। লিখিত হচ্ছে তার জীবনের নানা দিক। তাঁকে নিয়ে যুগে যুগে, বিভিন্ন ভাষায় লিখিত হচ্ছে প্রেমময় কথাকাব্য। হাজার কবি সাহিত্যিক তাদের কলমে ফুটিয়ে তুলেছেন রাসুল প্রেমের আবেগী শব্দসম্ভার। বাংলা ভাষার কবি সাহিত্যিক শিল্পীগণও নিজ নিজ মেধায় রচনা করেছেন যুগে যুগে নবীপ্রেমের অমর পঙক্তি। গান, কবিতা, ছড়া, নাত, গল্পে তারা চিত্রিত করেছেন হৃদয়ের আঁকুতি। তারা লিখেন রাসূলের জীবন নিয়ে, লিখেন রিসালাত নিয়ে। এভাবেই রচিত হয় সীরাতে রাসুল (সা)। এবং এটি থেকে যায় পরবর্তী প্রজন্মের জন্য দলিল হয়ে। সাহিত্য সংস্কৃতি কেন্দ্র রাসুলপ্রেমীদের লেখাকে এক মলাটবদ্ধ করার প্রয়াসে সফলতার সাথে এগিয়ে চলেছেন। এই সকল লেখকদের লেখার সমন্বয়ে প্রকাশ করেন সীরাতুন্নবী সংখ্যা।

তারই ধারাবাহিক প্রচেষ্টার সফল আয়োজন সীরাতুন্নবী (সা) সংখ্যা ২০১৮।

এ সংখ্যায় স্থান পেয়েছে রাসুল প্রেমে উজ্জীবিত একদল কবি সাহিত্যিকের মূল্যবান সৃষ্টিসমূহ। সংখ্যার শুরুতেই লিখেছেন অধ্যাপক আবু জাফর। তিনি উল্লেখ করেন “মহানবী (সা) এবং মুসলিম উম্মাহ” শিরোনামে একটি প্রবন্ধ। 

এ সংখ্যায় গ্রন্থিত হয়েছে দেশের শিল্প- সাহিত্যের প্রতিনিধিত্বশীল একঝাঁক কলম  সৈনিকের মূল্যবান কিছু লেখা। লেখক তালিকায় আছেন স্বনামধন্য অধ্যাপক মুহম্মদ মতিউর রহমান। তিনি লিখেছেন “বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য রাসুলুল্লাহর (সা) আদর্শ অপরিহার্য।” তিনি তার লিখিত প্রবন্ধে বিস্তর তথ্য উপাত্ত হাজির করে রাসুল (সা)র বিষয়ে উল্লেখ করেন “আল্লাহ তায়ালা তাঁর দ্বারা সর্বোত্তম একটি সমাজ প্রতিষ্ঠা করে সর্বযুগের মানুষের জন্য তা মডেল হিসেবে পেশ করেছেন।” আরও যাদের প্রবন্ধ গ্রন্থিত হয়েছে তারা হলেন- অধ্যাপক চেমন আরা, প্রফেসর ড.আ. ছ. ম. তরীকুল ইসলাম, ড. মুহা. নজীবুর রহমান, ড. আহসান হাবিব ইমরোজ, কবি নাসির হেলাল, ড. মুহা রফিকুল ইসলাম, ড. শাহ মুহাম্মদ আবদুর রহীম সহ অনেক বিশিষ্টজন।

“বর্তমান বিশ্বে উগ্রপন্থা, সহিংসতা ও সন্ত্রাসের প্রাবল্যের প্রেক্ষাপটে রাসুল (সা) এর শিক্ষা ও আদর্শের অনুসরণ অত্যন্ত ফলপ্রসূ হতে পারে, হতে পারে সেসব থেকে পরিত্রাণের প্রেরণা (হোসেন মাহমুদ।)” সীরাতুন্নবী (সা) সংখ্যা ২০১৮ পাঠে পাঠকের বোধে প্রবিষ্ট হবে এমন আশাব্যাঞ্জক বাণী।

“বিশ্বশান্তির আধার, মানবতার মহান মুক্তিদূত, আল্লাহ রাব্বুল আলামিন প্রেরিত সর্বশেষ নবী ও রাসুল হযরত মুহাম্মদ ( সা)।...... তার সুমহান ব্যক্তিত্ব ও তার রেসালাত এ দু'টোই যুগে যুগে কবি- সাহিত্যিকদের পঠন পাঠন ও গবেষণার বিষয়ে পরিগণিত।” ড. কামরুল হাসান আধুনিক আরবি সাহিত্যের প্রাণপুরুষ “মাহমুদ সামি আল - বারুদির দিওয়ানে রাসুল প্রশস্তি” বিশ্লেষণের সূচনা করেছেন এভাবেই। অতঃপর কবি ও কবিতায় রাসুল (সা) প্রশস্তির ব্যবচ্ছেদ করেছেন মুন্সিয়ানার সাথে। প্রাবন্ধিক বলেন “ইতোমধ্যে আমরা জানতে পেরেছি যে, বারুদি রাসুলের প্রশংসায় ৪৪৭ পঙক্তি সমৃদ্ধ এক বিশাল মহাকাব্য রচনা করেছেন। আমরা সে আলোচনায় প্রবৃত্ত না হয়ে আল্লামা বারুদি তার দু’খন্ডে সমাপ্ত কাব্য সংকলনে রাসুল প্রশস্তিতে নিবেদিত জিম কাফিয়া যুক্ত ছোট্ট একটি কবিতা সন্নিবেশিত করেছেন।” এরপর ক্রমান্বয়ে কবিতার উদ্ধৃতি দিয়ে কবির বক্তব্যের মর্মে পৌঁছতে চেষ্টা করেছেন ড. কামরুল হাসান।

প্রবন্ধের কলেবর সমৃদ্ধ হয়েছে আরও যাদের লেখায় তারা হলেন-

হারুন ইবনে শাহাদাত, ইকবাল কবীর মোহন, মুহাম্মদ জাফর উল্লাহ, জাফর আহমাদ, ড. মোবারক হোসাইন, মাহফুজুর রহমান, মুহাম্মদ আবদুর জববার, আখতার হামিদ খান, এ কে আজাদ, আলতাফ হোসাইন রানা, আলী আহমাদ মাবরুর, মোঃ আবু তাহের, এইচ.এম. মুশফিকুর রহমান, এস এম আখতারুজ্জামান, অধ্যাপক ডা. শাহ মোঃ বুলবুল ইসলাম, মোঃ তোফাজ্জল বিন আমীন, সৈয়দ আল জাবের প্রমুখ।

রাসুলকে নিয়ে শিল্প সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য কাজ হয়ে থাকে কবিতায়। এ সংখ্যাতেও তার উপস্থিতি দেখতে পাওয়া যায়। বিপুল সংখ্যক কবির কবিতা স্থান পেয়েছে এতে। বাংলাদেশের প্রথিতযশা কবি থেকে শুরু করে নবীনতম কবির কবিতাও লক্ষ্য করা যায় এতে। লিখেছেন কবি কে জি মোস্তফা, জয়নুল আবেদীন আজাদ, আসাদ বিন হাফিজ, আমিনুল ইসলাম, আবু তাহের বেলাল, মানসুর মুজাম্মিল, তমসুর হোসেন, শাহ আলম বাদশা, নয়ন আহমেদ, আমিন আল আসাদ, যাকিউল হক জাকী, আবুল হোসেন আজাদ, হেলাল আনওয়ার, কামাল হোসাইন, ইকবাল জুনিয়র, ফাতেমা নার্গিস, পরিকল্পনাবিদ মোঃ সিরাজুল ইসলাম।

হযরত মুহাম্মদ স (সা)কে নিয়ে চীনা সম্রাট হঙ উ- র কবিতা রাসুল প্রশস্তির অনুবাদ করেছেন সায়ীদ আবুবকর। জাকির আবু জাফরের কাব্য নিবেদন “পৃথিবীর সব মানুষের তুমি পথ/ তুমি আনন্দ চির আনন্দ তুমি/ চির সুন্দর পথের দিশারী জ্যোতি/ চির উদ্ভাসে উজ্জীবিতের প্রাণ/ তুমি প্রিয়তম।” কবিতার মিছিলের অন্যরা হলেন কবি হাসান রুহুল, ফারুক মোহাম্মদ ওমর, ওয়াহিদ জামান, মোঃ হুমায়ুন কবির, আতিফ আবু বকর, মুহাম্মদ ইব্রাহিম বাহারী, খালিদ শাহাদাৎ হোসেন, হুসনে মোবারক, মুহাম্মদ ইসমাঈল, ইসমাঈল হোসাইন মুফিজী, জয়নাব জোনাকি, মু. ওমর ফারুক রায়হান, রুমান হাফিজ, সাজিদ মাহমুদ, তোরাব আল হাবিব, জাহিদ মাহবুব, তাজ ইসলাম, সুলায়মান আল মাহমুদ।

রাসুল প্রেমের আবেগে কবি হাসান বিন সাবিতের নির্মিত হরফের পথ ধরে ঘাসফুল থেকে নক্ষত্রের অসীমতা ভেদ করে হারিয়ে যান ধ্যান ও জ্ঞানের অরণ্যে। আর রচনা করেন “তোমার স্নেহধন্য গিফারির জীবন স্মৃতিতে/ মূর্খতার বিপরীতে ধ্যান ও জ্ঞানের অরণ্যে হারিয়ে যাই আলীর জগতে/ (অনন্য সৌন্দর্যঃ ফজলুল হক তুহিন।)” এই দলের অন্য সদস্যগণ হলেন কবি শাহজাহান শাহেদ, সাবের রাহী, এবি মালেক, রেজাউল রেজা, নুরুল ইসলাম ফারুক, নুর মোহাম্মদ, নাজমুল হাসান, মুস্তাফা ইসলাহী, মোহিব্বুল্লাহ, মোহাম্মদ উল্লাহ ইমরান, রফিকুল ইসলাম, খন্দকার জাহাঙ্গীর হুসাইন, হাফেজ খালিদ হাসান, জুবায়ের বিন ইয়াছিন, ইসলাম তরিক, নাজমুস সাকিব সাকী, নাওশিন মুশতারী, ইমদাদুল হাসান সাকিব, ফরিদ সাইদ, ফাহিমা আফরোজ, ইলিয়াস হক মোকামী, ডি. হুসাইন, আব্দুল আলিম, এরফান আলী এনাফ, তুফান মাজহার খান, আহাদ আলী মোল্লা প্রমুখ।

আমাদের সামনে রাসুলের আদর্শ, আমরা ভুলে যাই, ঘোরপাক খাই বিভ্রান্তিতে। যদি আমরা সঠিক পথে থাকতাম তাহলে শুধু কল্যাণ আমাদেরই হতো তা নয় বরঞ্চ গোটা সমাজ হত আলোকিত। কবির ভাষায় 

 “তোমার কথা শুনিনি হে রাসুল/ পদে পদে তাই গুনছি যে মাশুল/.......... তোমার কথা শুনলে পরে আজ/ শান্তি সুখে ভরতো এ সমাজ/ (তোমার কথা: রেদওয়ানুল হক)।”

যাকিউল হক জাকী “সাহিত্য সংস্কৃতি কেন্দ্রের কার্যক্রমের সংক্ষিপ্ত প্রতিবেদন ২০১৮”-তে তুলে ধরেছেন তাদের কাজের সমুদয় তালিকা। যা তাদের কাজের জবাবদিহি মানসিকতার পরিচায়ক। সম্পাদক ছাড়াও উপদেষ্টা সম্পাদক ও নির্বাহী সম্পাদকসহ একটি শক্তিশালী সম্পাদনা পরিষদ আছে এসংখ্যার।

সংখ্যাটি সকলের সংগ্রহকে সমৃদ্ধ করবে অবশ্যই। পেতে হলে যোগাযোগ করতে পারেন ০১৯৪৩৯৯৪৪২৯ নাম্বারে।

 

সাহিত্য সংস্কৃতি সীরাতুন্নবী (সা) সংখ্যা ২০১৮

সম্পাদক ঃ মোশাররফ হোসেন খান

প্রচ্ছদ এম এ তাওহিদ

প্রকাশনায় সাহিত্য সংস্কৃতি কেন্দ্র

মূল্য ৩০০ টাকা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ