শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

সংস্কৃতি ও তার উপাদান   

আহমদ মনসুর : সংস্কৃতির ব্যাপারে আলোচনার শুরুতেই প্রশ্ন জাগে ‘সংস্কৃতি কী?’এ ব্যাপারে বহু গুণিজন বহু কথা বলেছেন। সংস্কৃতির কাছাকাছি সমার্থক শব্দ ইংরেজীতে Culture, আরবীতে ‘তমদ্দুন ও ছাকাফাত’। বাংলা ‘সংস্কৃতি’ আলোচনা করতে ইংরেজী Culture, নিয়ে শুরুতে আলোচনা করা যাক। 

Culture, এর সংজ্ঞা দিতে গিয়ে Oxford Dictionary †Z †jLv n‡q‡Q, Trained and refined state of the understanding and manner and tastes, phase of this prevalent at a time or place, instilling of it by training; artificial rearing of bees, fish, bacteria etc. অর্থাৎ  উপলব্ধি, আচরণ, ও বিচার শক্তি ও আস্বাদনের মার্জিত ও নিয়ন্ত্রিত অবস্থাকেই Culture বলা হয়। কোন কাল বা স্থানে এর ক্রমোন্নতির ধাপ অতি সাধারণ ভাবে প্রচলিত থাকা অবস্থা থেকে অতি ধীরে ধীরে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে উন্নতির শিখরে পৌঁছে দেয়া হয়। যেমন মধু পোকা, মাছ ও ব্যাকটেরিয়া কে কৃত্রিম লালন পালনের মাধ্যমে দিয়ে উপযোগী করে তোলা হয়। 

তবে সব চাইতে ও বোয়া Boas  ও টেইলরের (Tylor) সংজ্ঞাই ব্যাপক ও সুষ্ঠু। বোয়া তার জেনারেল অ্যানথ্রোপোলজী (General Anthropology-p.p.4-s)তে কালচার বা তমদ্দুনের সংজ্ঞার ভিতরে উল্লেখ করেছেন -

১) প্রাকৃতিক পরিবেশের উপর মানুষের নিয়ন্ত্রণ,  

২) অনুভূতিশীল মানুষের সামাজিক সম্পর্ক ও বিভিন্ন সমাজের পারস্পরিক সম্পর্ক,

৩) মানসিক হাব ভাব- ধর্মনীতি, সৌন্দর্য জ্ঞান।

 তমদ্দুন বলতে আমরা বুঝি সামাজিক প্রতিষ্ঠান, যন্ত্রাদি, প্রত্যয়, ধর্ম (পাশ্চাত্য অর্থে), নীতি, আইন, আচার -ব্যবহার-এ সবের সমষ্টি। টেইলর তাঁর “প্রিমিটিভ কালচারে” তমদ্দুনের এই ধরনের সংজ্ঞা দিয়েছেন: culture is that complex whole which includes knowledge.  Belief, Art, Moral. Custom and other capabilities and habits acquired by man as a member of society- (সমাজ সংস্কৃতি  সাহিত্যÑডঃ হাসান জামান) 

অর্থাৎ কালচার হল মনের একটি অস্বাভাবিক অবস্থা বিশেষ  যা ধারণ করে জ্ঞান বিশ^াস, শিল্প, নৈতিকতা, আইন, প্রথা এবং অন্যান্য যোগ্যতা ও অভ্যাস যা মানুষ সমাজের সদস্য হিসেবে নিজের মধ্যে অর্জন করে। 

এ সব সংজ্ঞা হতে যে কথাটি সহজে বেরিয়ে আসে তা হল জীবনের মূল্যবোধ ও তার বহিঃপ্রকাশই হল ‘কালচার’ বা সংস্কৃতি। আর এ কথাটিকে টি. এস. ইলিয়ট বলেছেন way of life: এই way of life বা কালচারই হল ইসলামী পরিভাষায় দীন। সুতরাং যে মানুষটি দীনের যত বেশি অনুসারী ও অনুরাগী তিনি তত বড় ‘কালচার্ড’। 

হয়ত অনেকে এটাকে মানতে চাবেন না। তাদেরকে স্মরণ রাখা দরকার যে, সংস্কৃতি শব্দটি এসছে সংস্কার থেকে। যার অর্থ উৎকর্ষ সাধন, উন্নতি বিধান, ত্রুটি বা অপূর্ণতা সংশোধন। সমাজের রীতি নীতি ও চিন্তার উন্নতি ও পরিশুদ্ধি এবং নৈতিকতা ও সভ্যতার পরিপূর্ণতা বিধান করেছে দীন। আল্লাহ ইরশাদ করেন, “আল্লাহ ঈমানদারদের উপর অনুগ্রহ করেছেন যে, তাদের মাঝে তাদের মধ্য থেকে নবী পাঠিয়েছেন। তিনি তাদের জন্য তাঁর আয়াতসমূহ পাঠ করেন। তাদেরকে পরিশোধন করেন এবং তাদেরকে কিতাব ও কাজের কথা শিক্ষা দেন। বস্তুতঃ তারা ছিল পূর্ব থেকেই পথভ্রষ্ট। - আলে ইমরান- ১৬৪। 

রসুলের কাজ ছিল  সংশোধন, কিতাব ও কাজের মধ্য দিয়ে একটি উন্নত জাতি সৃষ্টি আর তাঁর এ  সব কিছুকে বলা হয় ‘আদ্ দীন’। তাই দীন পালনের কারণে মানুষের মধ্যে যে উন্নত চরিত্র সৃষ্টি হয় এবং ঐ চরিত্রের বহিঃপ্রকাশ ঘটে যে আচার আচরণ ব্যসন -ভূষণের মাধ্যমে  তাই ‘কালচার’ বা সংস্কৃতি। 

মানব ইতিহাসের প্রতিটি মহান অধ্যায়ই নিয়ন্ত্রিত হয়েছে ইসলামী সংস্কৃতি দিয়ে।  তাই বলা চলে আল্লাহর একত্ববাদ  (তৌহিদ)ও তার পক্ষ থেকে আসা বিধানের প্রতি দৃঢ় বিশ^াসের উপরে গড়ে উঠেছে যে জীবন মান ও মূল্যবোধ তাই ইসলামী সংস্কৃতির মৌলিক উপাদান। 

 ইতিহাসের প্রতিটি ধাপে  মানব চিত্ত ও চেতনার জগতে যখনই আবিলতা মিশ্রিত হয়ে হারিয়ে ফেলেছে মানবিক মূল্যবোধ, খিলাফতের দায়িত্বানুভূতি এবং ¯্রষ্টার কাছ থেকে পাওয়া ধ্যান ধারণা দর্শন, আচার আচরণের জালে জড়িত হয়ে পড়েছে, তখনই সমগ্র জগতের ¯্রষ্টা ও নিয়ন্তা পাঠিয়েছেন সংস্কারক হিসেবে নবী রসুলদেরকে তাঁর পক্ষ থেকে হেদায়েত ও আলোকবর্তিকা নিয়ে। এই হেদায়েত আলোকবর্তিকার আলোকে যে জীবনবোধ ও বিভিন্ন কার্যকরণের মধ্য দিয়ে যে সভ্যতা সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে তাই হল ইসলামী সংস্কৃতি। ইসলামী সংস্কৃতি নতুন কিছু নয়। মানব ইতিহাস যেমন পুরাতন ইসলামী সংস্কৃতি তত আদিম। ইসলাম মানবগোষ্ঠীর সূক্ষ্ম স্থুল সবগুলি বৃত্তিরই সুসামঞ্জস্য ও কল্যাণ মুখী পরিচর্যা করে উন্নতির (কামালিয়াত) শিখরে তুলতে চায়। তাই মানুষ ব্যবহারিক জীবন ও বাস্তব পরিবেশে উন্নত  জীবন বোধের প্রয়োগও প্রকাশ ঘটিয়ে যে সংস্কৃতি তুলে ধরে তাকে ইসলামী সংস্কৃতি বলা যেতে পারে। 

সংস্কৃতি যার ইংরেজী শব্দ Culture কথাটা এসছে জার্মান kulture থেকে, যার অর্থ Refinement, কিন্তু ইসলামী কালচার শুধু মাত্র Refinement ev Purification এর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং এক ধাপ এগিয়ে Purification বা perfection উভয়কেই নিজের মধ্যে বিলীন করে দিয়েছে। ইসলামী সংস্কৃতি শুধুমাত্র অঞ্চল বিশেষ, ব্যক্তি বিশেষ বা গোষ্ঠির মানবিক বিকাশ ও উবুদিয়তের উৎকর্ষ সাধনই তার লক্ষ্য। চাঁদেও স্নিদ্ধ আলো, সূর্যের তেজ দীপ্ত রশ্মি ও মহাশূন্যের ভাসমান নক্ষত্রপুঞ্জ যেমন গোটা জাতির সম্পদ, তেমনি ইসলামী সংস্কৃতি শুধুমাত্র প্রাচ্য -প্রতীচ্যের সম্পদ নয়, এটা মানব গোষ্ঠীর অমূল্য সম্পদ। 

ইসলামী সংস্কৃতির বুনিয়াদ আল্লাহর পাঠান ঐশী গ্রন্থ। ঐ ঐশী গ্রন্থের ভিত্তিতে বিভিন্ন কালের নবী রসুলগণ মানুষকে সভ্যতার শীর্ষে পৌঁছিয়েছেন। এ ব্যাপারে কোরআন সাক্ষ্য দিচ্ছে “আমি তাদের কাছে কিতাব পৌঁছিয়েছি, যা আমি স্বীয় জ্ঞানে বিস্তারিত বর্ণনা করেছি। যা পথ প্রদর্শন ও মুমিনের জন্য রহমত।”  

এই কিতাব নিয়ে এলেন বিভিন্ন কালে বিভিন্ন রসুল। কিন্তু তাঁদের  সকলের দাবি ছিল এক সত্যের প্রতি।  এই দাবির অনুসরণই ইসলামী সংস্কৃতির মূল বুনিয়াদ। তাঁদের দাবি ছিল “হে আমার সম্প্রদায়, তোমরা আল্লাহর এবাদত কর, তিনি ব্যতীত  তোমাদের কোন ইলাহ নেই।”

 আল্লাহর উপরে বিশ^াস ও তাঁর প্রদত্ত বিধানের প্রতি বিশ^াস ও অনুসরণের মধ্য দিয়ে গড়ে উঠেছে ইসলামী সংস্কৃতি। এই সংস্কৃতিকে বিকৃতির হাত থেকে মুক্ত করার জন্য নির্দেশ এসেছে, “পৃথিবীকে কুসংস্কার মুক্ত করার পর তাতে অনর্থ সৃষ্টি করো না। - লা তুফসিদু ফিল আরদে বায়্দা ইসলাহিহা”।  

এখানে ইসলাহা শব্দের অর্থ সংস্কার করা। আল্লাহ সংস্কার সাধনের কাজটি  করেছেন হেদায়েত ও নবী রসুল পাঠিয়ে, গড়ে তুলেছেন শির্ক, কুফরী ও পাপাচার মুক্ত এক সংস্কৃতিÑ ইসলামী সংস্কৃতি।   এই সংস্কৃতির অনুসরণ না করার পরিণাম সুনিশ্চিত অশান্তি ও ধ্বংস। এই অশান্তি ও ধ্বংস থেকে মুক্তি পেতে সংস্কৃতির উপাদান সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা অর্জন করা প্রয়োজন। 

সংস্কৃতির উপাদান কী? এর জবাব পেতে গেলেই মনে জাগে সাধারণ ভাবে মানুষ সংস্কৃতি বলতে কী বুঝে। “ লোকেরা মনে করন যে, সংস্কৃতি বলতে বুঝায় কোন জাতির জ্ঞান Ñ বিজ্ঞান, সাহিত্য- দর্শন, শিল্প -কারিগরী, ললিত কলা, সামাজিক রীতি, জীবন পদ্ধতি ও  রাষ্ট্রনীতি ইত্যাদি। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এগুলি সংস্কৃতির আসল প্রাণবস্তু নয়। তার ফলাফল ও বহিঃপ্রকাশ মাত্র। ”-( ইসলামী সংস্কৃতির মর্ম কথা।) 

আমরা অনেকেই সংস্কৃতিকে খুব হালকা করে দেখি। কারণ আমাদের ছেলে বেলা থেকেই এমন একটি ধারণার মধ্যেই লালিত হয়েছি। কোন একটা সামাজিক, সাহিত্য বা রাজনৈতিক অনুষ্ঠান হল, তার শেষে লাগিয়ে দেয়া হল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সেখানে থাকে নাচ, গান, নাটক ইত্যাদি। তা হলে এতটুকুই কি সংস্কৃতির চৌহদ্দি। সংস্কৃতির চৌহদ্দি গোটা মানব জীবনকে বেষ্টন করে আছে। “কাজেই দেখা যায় সাহিত্য, সংস্কৃতি,  নৃত্য, কারুকার্য, স্থাপত্য, ভাস্কর্য ইত্যাদি শিল্পকলা, পেনিসিলিন, রকেট হাইড্রোজেন বোমা ইত্যাদি বিজ্ঞান কলা যাকে বলা হয় সংস্কৃতির বাহন। এ সবই মানুষের দৈহিক ও মানসিক বৃত্তি সমূহের উৎকর্ষ সাধনে এবং তার ব্যবহারিক জীবনে ও প্রত্যেক জড় পরিবেশে সেগুলির ফলিত রূপ।” (ইসলামী সংস্কৃতি- ড. কাজী দীন মুহাম্মদ)  

এ কথাগুলি থেকে আমরা বুঝতে পারি যে, সংস্কৃতির বাহন এক জিনিস  কিন্তু এর উপাদান ভিন্নতর। সংস্কৃতির উপাদান জীবন, জীবনাভূতি ও জীবনদর্শন। আরও একটু খোলাসা করে বলতে গেলে বলা যায় যে, যে বস্তুটিকে সংস্কৃতি বলে অভিহিত করা হয় তা গঠিত হয় পাঁচটি মৌলিক উপাদান দ্বরা।  যথা- 

 ১) পার্থিব জীবন সম্পর্কে ধারণা 

২) জীবনের চরম লক্ষ্য 

৩) বুনিয়াদী শিক্ষা ও চিন্তাধারা 

৪) ব্যক্তি প্রশিক্ষণ ও

 ৫) সমাজব্যবস্থা।

 দুনিয়ার প্রত্যেক সংস্কৃতি এই পাঁচটি মৌলিক উপাদান দিয়েই গঠিত হয়েছে। বলা বাহুল্য ইসলামী সংস্কৃতিও সৃষ্টি হয়েছে এই উপাদানগুলির সাহায্যেই। (ইসলামী সংস্কৃতির মর্ম কথা - (সাইয়েদ আবুল আ’লা মওদূদী রহঃ)।

উপরোক্ত পাঁচটি উপাদান বিভিন্ন ধর্মানুসারী ও মতবাদীদের কাছে বিভিন্ন বিধায় তাদের সংস্কৃতিও ভিন্ন। কাজেই একই ভৌগলিক সীমা ও এক ভাষাভাষী হওয়া সত্ত্বেও দুই জীবনদর্শনের অনুসারীদের সংস্কৃতি আলাদা হতে বাধ্য। যদিও সংস্কৃতি বিবর্তনের প্রত্যয় (ইভল্যুশনিস্ট থিওরী) ও সংস্কৃতির সঞ্চারশীল প্রত্যয়( ডিফিউশন থিওরী) বলে কথা চালু আছে তা ইসলামী সংস্কৃতি অগ্রাহ্য করেনি।  বরং দেখা যায় যে, কালের প্রবাহে রিসালতের মাধ্যমে সংস্কৃতির সঞ্চারণ ও বিবর্তনকে ইসলামী সংস্কৃতি একাকার করে দিয়েছে। কিন্তু মৌলিক উপাদানগুলিতে বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য নিয়ে ইসলামী সংস্কৃতি অন্য সংস্কৃতিতে মিশে যায়নি। স্যার জন মার্শাল বলেন: মানবেতিহাসের আর কখনও দেখা যায়নি যে, দুটি বিপরীত ধর্মী সংস্কৃতি এ রূপ বিরাট পার্থক্য ও বলিষ্ঠতা সত্ত্বেও পাশাপাশি অবস্থান করছে। অথচ একটি আর একটিকে গ্রাস করতে পারেনি। এ দু’টি হিন্দু সংস্কৃতি ও মুসলমান সংস্কৃতি।  তাদের মধ্যে বিপরীত মেরুর ব্যবধান, ধর্ম ও সংস্কৃতিতে বিরাট পার্থক্য সত্ত্বেও পারস্পরিক ঘাত প্রতিঘাতে ক্ষত বিক্ষত হয়েছে Ñ ইতিহাসের এ এক মহাশিক্ষা। (An advanced History of India p-403) 

 অতএব যদি সংস্কৃতির মৌলিক উপাদান গুলি অক্ষত থাকে তবে সংস্কৃতির বাহ্যিক রূপটি যতই বদলি করার চেষ্টা করা হোক না কেন তা তার অন্তরের গুণের কারণে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে। আজ তাই বেশি প্রয়োজন বাইরের দিকটা নয় অন্তরের দিকটা নিয়ে বেশি লেগে থাকা।

সংস্কৃতির মৌলিক উপাদান সম্পর্কে স্বচ্ছ ও গভীর জ্ঞান সমাজে সুষ্ঠু নৈতিক পদ্ধতি ও উন্নত মূল্যবোধ  জন্ম দেয়। ফলে মানব চরিত্র এক উন্নততর অবস্থায় উপনীত হয় এবং ঐ সমাজের সভ্যদের মাধ্যমে যে সুন্দর ও মার্জিত আচরণের প্রকাশ ঘটে তারই নাম ছাকাফাত বা সংস্কৃতি।  

আমরা দেখি যে, সংস্কৃতির উপাদান পাঁচটি। সুতরাং সংস্কৃতির ক্ষেত্রে এই পাঁচটি উপাদানকে সঠিক উপলব্ধি ও  উন্নতি বিধানের মাধ্যমে  লাভ করা সম্ভব একটি সুস্থ ও জীবন্ত সংস্কৃতি। দুনিয়ার জীবন সম্পর্কে ইসলাম মানব সভ্যতাকে  এমন তথ্য ও তত্ত্ব প্রদান করেছে  যা মেনে চলার মাধ্যমেই দুনিয়ার অশান্তি দূরীভূত হয়ে এখানে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে শান্তির আবাস। দুনিয়ার জীবন সম্পর্কে সঠিক ধারণা না থাকায় কেউ হয়েছে সংসার ত্যাগী, আবার কেউ ভোগী আর কেউবা অত্যাচারী শোষক।  এই যে জীবন ধারা তথা জীবন সংস্কৃতির ক্ষেত্রে বিভিন্নতা তার পিছনে কারণ দুনিয়ার জীবন সম্পর্কে বিভিন্ন ধারণা। ইসলাম বলে যে, মানব জীবন উদ্দেশ্য বিহীন নয়, এবং জীবনের শেষ পরিণতিও এখানে নয়। তাই তার অন্তরে একটি জাগ্রত বিবেক সদা তৎপর তাকে সুন্দরভাবে সৎভাবে পরিচালিত করে। ফলে মানুষের সমাজ গড়ে ওঠে সুন্দরভাবে। ইসলাম মানব জীবনের চরম লক্ষ্য সম্পর্কে ঘোষণা দেয় যে, মানুষ এই জগতে আল্লাহর প্রতিনিধি। রবুবিয়াতের সমস্ত কার্যাবলী মানুষের মাধ্যমেই এই জগতে সম্পন্ন হয়। এ কারণেই সমস্ত জগত মানুষের কাজে নিয়োজিত। এ ধারণার ফলে মানুষের  মনে গড়ে ওঠে একটি উন্নত ভাবধারা যার কারণে সে কোন কিছুর কাছে মাথা নত করে না। 

সংস্কৃতির উপাদানগুলি প্রকৃতপক্ষে একটি বিশ্বাসের ব্যাখা মাত্র, যে টি হল আল্লাহর প্রতি বিশ^াস। আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস ব্যতীত মানবতা উন্নতির সর্বোচ্চ শিখরে  আরোহনে ব্যর্থ হয়। মানব সভ্যতার ভিত্তিও চূর্ণ বিচূর্ণ হয়ে পড়ে।  নিউইয়ার্ক বিজ্ঞান একাডেমির চেয়ারম্যান CRASY MORRISON তাঁর বিখ্যাত Man does notstand alone বইতে লিখেছেন - “আধুনিক বিজ্ঞান এটি সুস্পষ্টভাবে প্রমাণ করেছে আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন ব্যতীত  মানব সভ্যতার গাড়ি অগ্রসর হতে পারে না।” তাই বলা চলে আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস অনুয়ায়ী গড়ে ওঠে সুস্থ সমাজ সভ্যতা ও সংস্কৃতি। আমরা যাকে আট, ফাইন আর্ট বলি যা সংস্কৃতির বাহন মাত্র; তা দেশে দেশে যুগে যুগে গড়ে ওঠে আল্লাহর প্রতি  বিশ্বাস তথা মানবিক জীবনবোধ অনুযায়ী। পি.কে. হিট্টি বলেন o the Muslims the Dome of the Rock is a mere  than a place of archaeological intrest and artistic value. It is a leaving symbol iof the faith, 

তাই বলা চলে বিশ^াস তথা আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসই সংস্কৃতির মূল উপাদান। আল্লাহর প্রতি বিশ^াসহীন তথা নাস্তিক্যবাদের সৃষ্ট জীবন করে তোলে মানব সমাজ জীবনকে পাপাচারে ক্ষত বিক্ষত। বিশ^ মানবতার উন্নতি ও শক্তির জন্য প্রয়োজন যে বিশ^াস ভিত্তিক সভ্যতা সংস্কৃতির, তা বিশ^কে উপহার দিতে সক্ষম একমাত্র ইসলামী সংস্কৃতি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ