শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

একটি অবাস্তব স্বপ্ন

আহমেদ উল্লাহ্  : মাঝ রাতে হঠাৎ ঘুম ভেঙে গেল ললিতার, শোয়া থেকে উঠে বসে ঘুম জড়ানো চোখে এদিকওদিক তাকায়! চেহারায় বিষণœতার ছাপ! আচমকা ভূমিকম্পের পর মুষড়ে পড়া ছন্দহারা পৃথিবীর মতো নির্বাক ঝিম ধরে তাকিয়ে আছে ললিতা। হলুদ ডিমলাইটটি জ্বলছে নির্ঘুম। খাটের পাশে টি-টেবিলে মুখঢাকা কাঁচের জগ এবং পাশেই নিচের দিকে মুখ করে উল্টো হয়ে দাঁড়িয়ে আছে কাঁচের গ্লাসটি। গ্লাসের ভেতরটা পরিস্কার রাখার জন্য সবসময় গ্লাসটিকে উল্টে রাখে ও। ঘুমানোর পর একাধিকবার ঘুম থেকে উঠে পানি পান করতে হয় ললিতাকে, এই অভ্যাস ওর শৈশব থেকে। তাই ঘুমোবার আগে যতœ করে প্রতিরাতে জগভর্তি পানি ও গ্লাস হাতের কাছে রেখে দেয়।

ফ্যাকাশে চেহারায় এদিক ওদিক তাকানোর মাঝে জগের ওপর দৃষ্টি পড়াতেই কম্বল ছেড়ে উঠে এসে একগ্লাস পানি ঢেলে অনমনাভাবে অর্ধেক পানি পান করে বাকি পানিভর্তি গ্লাসটি যথাস্থানে রেখে বিড়বিড় করতে থাকল...

এ কী স্বপ্ন দেখলাম আমি! মুসাফিরকে তো অনেক আগেই ভুলে গেছি, ইদানিং ভুল করেও ওকে আর মনে পড়ে না। তো ওকে নিয়ে এ কী ভয়ংকর স্বপ্ন দেখলাম আমি, যা কখনো বাস্তবে সম্ভব নয়! 

স্বপ্নের ঘোরে ললিতার মস্তিষ্কের সেরিব্রাল কর্টেক্স আন্দোলিত হতে থাকল, মনে হচ্ছে ঘুমের ঘোরে ওই স্বপ্নটি বিদ্যুৎ প্রবাহের মতো সেরিব্রাল কর্টেক্সে অপসৃত হওয়া মুসাফিরের স্মৃতিগুলো জীবন্ত করে তুলেছে।

কিন্তু আমি তো মুসাফিরের কথা একেবারেই ভুলে গেছি, ভুল করেও ওর কথা আর মনে পড়ে না। ওর কথা ভাবা কি চিন্তার কোনো কারণই নেই আমার অথচ ওকে নিয়ে কেন এমন বিপদজনক একটা স্বপ্ন এখন দেখলাম? আমিইবা কেন দেখলাম? না-জানি কেমন আছে ও? কোথায় আছেইবা কে জানে? ওর সঙ্গে যোগাযোগের যবনিকা প্রায় পাঁচ বছর আগে। 

মুসাফির আমার আত্মীয় কেউ না। ওর সংগীত চর্চার প্রতিভাটা তখন এলাকা ছাড়িয়ে জাতীয় পর্যায়ে কড়া নাড়ছিল। ওই সময়ে উপজেলা সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ওর একক গানের সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার আয়োজন করেছিল, শিল্পকলা একাডেমির অডিটোরিয়ামে। ওই অনুষ্ঠানের দাওয়াতপত্র ফারিয়া নামের এক ছাত্রী যখন আমার হাতে দিয়ে বলেছিল, ম্যাডাম, আমার মামার একক সাংস্কৃতিক সন্ধ্যায় আপনি থাকবেন শিল্পকলা একাডেমিতে।

আমি রীতিমতো পিলে চমকে গেছিলাম; অজো পাড়াগাঁয়ে এমন একজন গুণী মানুষ রয়েছে অথচ আমি জানি না। মুসাফিরের সাথে কথা বলা, একনজর দেখার কৌতূহলটা ক্রমেই যখন বাড়তে থাকে, ফারিয়ার মাধ্যমে ওর মুঠোফোনের নম্বরটা সংগ্রহ করে ওর সাথে আমার প্রথম পরিচয় ও কথা হয়।

ফোন দিয়েছিলাম সন্ধ্যার কিছুটা পর। জানি এসময়টায় সে অবসর থাকে। এছাড়া দিনের বেলায় বেশি সময় নিয়ে কথা বলার সুযোগ নেই ওর সাথে। প্রথম ডায়ালেই রিসিভ করে ও বলল, শুভসন্ধ্যা ! কে বলছেন প্লিজ?

পরিচয়টা না হয় পরেই দিই, আপনার লেখা ওই আধুনিক গানের কথাগুলো দারুণ হয়েছে!                

ধন্যবাদ! কোন গানটির কথা বলছেন আপনি?

ওই যে, স্থায়ীটা ছিল এরকমÑ ‘আমি পথের ধুলায় ঝরেপড়া বনফুল, কেউ দেখে না কান্না আমার বেদনা অকূল’। দারুণ গানটির ভাবের ¯্রােত! তবে, আপনার একক অনুষ্ঠানে যেভাবে উপস্থাপনের কথা সেভাবে গানটি গাইতে পারেনি শিল্পী। আমাকে কি আপনি চিনতে পেরেছেন? 

আপনাকে না-দেখে কীভাবে বলব?

কল্পনায় ডুব দিয়ে দেখুন তো! 

আমতা আমতা স্বরে মুসাফির বলে, না, চেনা মনে হচ্ছে না।

আপনার কণ্ঠও কি আপনার চেনা মনে হচ্ছে না?

তবে, আপনার কণ্ঠটা মনে হচ্ছে চেনা চেনা!  

 এরপর থেকে প্রায়ই ওর সঙ্গে কথা হয়। শুনেছি- বেচারা শৈশব থেকেই ছন্নছাড়া স্বভাবের। পারিবারিক চাপে পড়ে বিয়ে করেছিল। ছয়-সাত বছর সংসারে তখনো সন্তান হয়নি বলে ওর এতটুকুও দুঃখ ছিল না। সব শ্রেণির মানুষের স্বতঃস্ফুর্ত অংশগ্রহণে উপচেপড়া মানুষের ভিড় হয়েছিল মুসাফিরের একক সাংস্কৃতিক সন্ধ্যায়। বাস ভাড়া করে ওর গ্রাম থেকেও ওর অগণিত শুভাকাক্সক্ষীরা এসেছিল, কিন্তু ওর স্ত্রী আসেনি। ওর স্ত্রীর অনুপস্থিতি ওর মনে এতটুকুও শূন্যতার ছাপ না ফেললেও অনেকের মনেই নেতিবাচক গুঞ্জন ধ্বনিত হয়েছিল।

পরে জানতে পেরেছি, কয়েক বছর ধরে স্ত্রী ওর কাছ থেকে দূরে, ছাড়াছাড়ির পথ অনেকটা এগিয়ে আছে। একদিন মোবাইলে কথোপকথনের সময় বেশ সাহস করে ওর ব্যক্তিগত প্রসঙ্গে কথা বলতে কৌতূহলি হলাম। কথা বলে জানতে পেরেছি, প্রচ- অভিমানী, রাগী ও একরোখা স্বভাবের মানুষ মুসাফির। ব্যক্তিগত মতামত কিংবা আনন্দ উদ্দীপনায় কেউ মতবিরোধ করলেই ও তিরিক্ষি হয়ে ওঠে। 

আমার বায়বীয় সম্পর্কটা ওর কাছাকাছি নিতে চেষ্টা করলাম এজন্য যে, ওর সংসারটা যেন অন্তত না-ভাঙ্গে! ছাড়াছাড়ির অদেখা যন্ত্রণায় যেন ওর প্রতিভাটা নেতিয়ে না-পড়ে। 

আমি এর ভুক্তভোগী। স্বামীহারা যন্ত্রণার নেমির তলে আমিও পিষ্ট হয়ে মরছি। অবশ্য না-বোঝে রাগের বশবর্তী হয়ে আমিই তালাকনামা পাঠিয়ে দিয়েছিলাম মুকুলকে। মুকুল ছিল একটা বড্ড উম্মাদ, কুলাঙ্গার আর নেশাগ্রস্ত বখাটে ছেলে। বিয়ের আগে ও যখন আমাকে দেখতে আসে, তখনই ওকে দেখে একদম পছন্দ হয়নি আমার। বিয়েতে অমত করেছি বরাবর। কিন্তু সমাজে বাঙালি নারীর নিজস্ব মতামতের মূল্যায়ন সব পরিবারে হয় না, নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারে হয় না বলেই চলে। ভাইদের ঘাড়ের বোঝাটা কাঁধ থেকে নামাতে গিয়েই বাধ্য হয়ে বিয়ের কবুল টুকু পড়তে হয়ছিল আমাকে। বাবা-মায়ের অবাধ্য সন্তান মুকুল, সবসময় নিজের খেয়াল-খুশি মতো চলতো। ওর চলাফেরাটাই ছিল যত আজেবাজে নেশাখোর ও বখাটেদের সাথে। সকালে বাড়ি থেকে বেরুত, রাত এগারো বারোটার আগে ফেরা হতো কম। কখনো কখনো ভোর হয়ে যেতো। এতরাত অবধি সে কোথায় থাকে, কী করে? জিজ্ঞেস করলেই ভীষণ রেগে ওঠতো মুকুল, অশ্লীল গালাগাল করতেও ছাড়েনি, খানকি, মাগী, ছিনাল, বৈতাল এধরনের অকথ্য শব্দ উচ্চারণ করতো! কিন্তু অভাগীর কপালে সৌভাগ্যের তীলক লাগবে কোত্থেকে? জন্মই যার দুখীর বীজ দিয়ে।

বাবাও ছিলেন দুখী মানুষ। অভাবের সংসারে বড় হতে গিয়ে একাডেমিক শিক্ষার দৌড় বিশ্ববিদ্যালয়ে পা রাখার আগেই উপার্জনে মনোনিবেশ করতে হয়েছিল। ভূমি অধিদপ্তরে কেরানির চাকুরিটা আঁকড়ে ধরে কায়ক্লেশে জীবন যাপন। টানাপোড়েনের সংসারটা বেখেয়ালিভাবে ধীরে ধীরে বড় হয়ে ওঠে। চার ছেলে চার মেয়ের সংসার, ওদের লালন পালন পড়াশোনার খরচ যোগাতে গিয়ে তিনি হাঁপিয়ে ওঠতেন। ভেবেছিলেন, ছেলেরা বড় হলে স্বচ্ছলতার মুখ দেখবেন। কিন্তু বিধিবাম। ছেলেরা একে একে বড় হতে থাকে, পড়ালেখা শেষ করে উপার্জনের পথ ধরতে দেরি হয়েছে, কিন্তু বিয়ে করে সংসার নিয়ে আলাদা হতে দেরি হয়নি। এর মধ্যে মেয়েদের বিয়ের বোঝাটা নিজেকেই সামলাতে হয়েছে। ছেলেরা উপস্থিত হয়ে সুস্বাদু খাদ্যের ভাগীদার হয়েছে অথচ আর্থিক সহযোগিতার ভাগীদার কেউ হয়নি। মেয়েদের বিয়ের বোঝাটা নামাতে গিয়ে শেষসম্বল মহেশপুরের পিতৃসম্পত্তিটুকুও হাতছাড়া করতে হয়েছে তাকে। বাবা পেনশনের টাকা পেয়ে চারদিকের ঋণ পরিশোধ করে উপজেলার উপকণ্ঠে তিন শতক ভূমি কিনে টিনশেডের ছোট বাড়িটি ছাড়া ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের কথা ভাবতেই পারেননি।    

বাধ্য হয়ে সামান্য বেতনে আমি মাধ্যমিক স্কুলে জয়েন করি, খ-কালীন শিক্ষক হিসেবে। স্কুলের নিজস্ব ফান্ড থেকে যৎ সামান্য বেতন আমাকে দেওয়া হতো, পাশাপাশি টিউশনি করে যা উপার্জন হতো, তা দিয়ে আমার নিজস্ব খরচের পাশাপাশি বাবাকে কিছু দিতে পারতাম। এভাবেই অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ধাবিত আমার জীবন। আমার মতো অন্যান্য মেয়েদের সুন্দর সাজানো সংসার দেখে আমার হিংসা হতো না, কিন্তু নিজেকে খুবই ছোট মনে হতো! হতাশার প্লাবনে হাবুডুবু খেয়ে গতিময় জীবন ছুটছে অলক্ষ্যে। 

মুসাফিরকে বুঝিয়ে সুঝিয়ে সংসারের ভাঙনটা রোধ করতে সক্ষম হয়েছি ঠিকই, কিন্তু এর বদৌলতে একটা তিক্ত স্বাদ আমাকে গ্রহণ করতে হয়েছিল। পরে বদলি হয়ে ও ঢাকায় চলে যাবার পর আমার সাথে ওর যোগাযোগটা ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে আসে। একবার একটা উড়োখবর শুনেছিলাম, ও নাকি আরেকটা বিয়েও করেছিল, একজন তরুণ বাচিক শিল্পীকে। মেয়েটি হিন্দু ছিল বলে, পরিবারের সকলে ওর সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়, এমনকি ওর প্রথম স্ত্রী ওকে ছেড়ে গিয়ে মামলা দায়ের করে। মামলার রায় কী হয়েছিল, তা জানার কৌতূহল আমার মাঝে আর ছিল না। এখন তো ও একজন বিখ্যাত ব্যক্তি।  

এত অল্প বয়সে মুসাফির তো মরার কথা না, কিন্তু আমি কেন স্বপ্নে দেখলাম ও মৃত্যুমুখে? এমনকি স্বাভাবিক ও অত্যন্ত দৃঢ়স্থিরে সংসার থেকে বিদায় নিচ্ছে ও। চারদিকে স্বজন ও ভক্তদের আহাজারি। এরমধ্যে একটি নাকটীয় ঘটনা ঘটছে। অর্থাৎ ওর স্থাবর অস্থাবর সম্পত্তি, ক্যাশ ও যাবতীয় ব্যাংক ব্যালেন্স ভাগ-বাটোয়ারা চলছে। উইলের যাবতীয় কাগজ-পত্রাদি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে উকিল। একদিকে মৃত্যুর শাশ্বত আর্তনাদ, অন্যদিকে ভাগ-বাটোয়ার অতৃপ্ত দ্বন্দ্বে অন্ধ হয়ে আছে মুসাফিরের উত্তরসূরীগণ।                                       

অত্যন্ত আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে আমি ওই সম্পদ ও যাবতীয় টাকার একজন ভাগীদার। সমস্ত সম্পত্তি ও জমানো টাকা তিনভাগে ভাগ হওয়ার কথাবর্তা চলছে। একভাগ ওর স্ত্রী, একভাগ ওর ভাই-বোন এবং অপর একভাগ মুসাফিরের শেষ ইচ্ছানুযায়ী একটি বৃদ্ধ ও অনাথ আশ্রমের জন্য যখন সিদ্ধান্ত হচ্ছে ঠিক এমন সময় কে একজন পেছন থেকে বলল, ললিতার জন্য একটা অংশ যদি না রাখা হয় তবে, এটা বড়ই অবিচার হয়ে যাবে।  

সমাগত লোকজন প্রশ্নবিদ্ধ চাহনিতে একে অপরের মুখের দিকে হতবাক চাহনিতে তাকাচ্ছে Ñ কে ওই ললিতা?

পেছন থেকে কে একজন আমাকে ধাক্কা মেরে বলল, এই ললিতা, কথা কস না কেন? লজ্জায় মুখ লুকাইয়া রাখলে, বাকি কপালটাও পুড়ব তর।

মাথা উঁচু করে আমাকে দাঁড়াতে দেখেই বিস্ময়ের আবেশ জড়ানো হইচই শুরু হয়ে গেল সকলের মাঝে...

উকিল সাহেব সকলের সামনে দাঁড় করিয়ে বললেন, আপনিই ললিতা? কিন্তু কে আপনি? কোন সূত্রে আপনি মুসাফিরের সম্পত্তির ভাগীদার?

লজ্জার আবেশ জড়ানো গলাভাঙা স্বরে বলতে বাধ্য হলাম, আমি সম্পত্তির ভাগ নিতে আসিনি, এসেছি কেবল মুসাফিরের জীবন সন্ধ্যায় শেষবারের মতো ওকে একবার দেখতে! কিন্তু যেকথাটা সকলের জানা জরুরি, তা আর কতক্ষণ মুখথুবড়ে রাখব, আমার গর্ভে মুসাফিরের সন্তান।

হোয়াট, হাউ ইটস পসিবল? চেঁচিয়ে ওঠলেন উকিল সাহেব। এডভোকেট মোশারফ হোসেন মুসাফিরের বাল্যবন্ধু এবং ব্যক্তিগত উকিল। মুসাফিরের অতীত জীবনের এমন কোনো বিষয় নেই যা মোশারফ সাহেবের অজানা। সুতরাং মুসাফিরের শেষ জীবনে এমন একটি কলঙ্কময় ঘটনা তিনি কিছুতেই মেনে নিতে না পেরে চেঁচিয়ে ওঠলেন, ওসব কী আবোলতাবোল বকছেন আপনি, যান, বের হয়ে যান এখান থেকে। 

অন্যান্য ভাগীদারগণও গর্জন করে ওঠে, আরে এসব কী আজেবাজে কথা বলছে রে, কোত্থেকে এসেছে এই অসভ্য মেয়ে। খানকি, বেশ্যা নয় তো? ওরে কিছুটা উত্তম-মাধ্যম দিয়ে বিদায় করো আগে।

আমার কাছে এসে উকিল সাহেব বললেন, আপনার গর্ভে মুসাফিরের সন্তান? এটা কীভাবে সম্ভব?

নারী যেভাবে সন্তানসম্ভবা হয়, এর ব্যতিক্রম কিছু নয়। 

আপনাকে কি গোপনে বিয়ে করেছিল মুসাফির? বিয়ের কাবিননামা কি দেখাতে পারবেন? 

বাধ্য হয়ে আমি চুপ মেরে থাকলাম।

কিন্তু অনেকের মাঝে বিষয়টা অস্বাভাবিক মনে হচ্ছে না। কিছুক্ষণ তর্ক-বিতর্কের পর বিষয়টি কিছুটা স্বাভাবিক হয়ে আসার আগেই নিঃশব্দ মুসাফির হালকা চোখ মেলে তাকিয়ে ইশারা ইঙ্গিতে কী যেন বলতে চাচ্ছেন দেখে, সকলে চুপ করে রইল। পিনপতন শব্দ নেই ঘরের ভেতর! 

সমাগত লোকদের ঠেলে মুসাফিরের সামনে এসে দাঁড়ালেন উকিল সাহেব। ও কী বলতে চায়, তা শোনা কিংবা বোঝার জন্য আগ্রহের দৃষ্টিতে তাকিয়ে মনোযোগী হয়ে থাকলেন। ওনার সঙ্গে দাঁড়িয়ে থাকা অনেকেই বিস্ময়ের চাহনিতে তাকিয়ে আছে মুসাফিরের মুখের দিকে...

সাময়িক নিশ্চুপ থাকার পর ফিসফিস গলাভাঙা স্বরসহ ইশারায় মুসাফির বোঝাতে চেষ্টা করছেন যে, আমার একটা ভুল হয়ে গেছে, ওর জন্য একটা ভাগ যেন রেখে দেয়া হয়। 

সমবেত লোকের গুঞ্জন ক্রমেই বেড়ে যাচ্ছে! যে যার মতো একে অপরের সাথে ব্যক্তিগত মতামত বলে বেড়াচ্ছে! 

মুসাফিরের স্ত্রীসহ ভাই-বোনদের ডেকে কাছে নিয়ে উকিল কিছুটা চিন্তিত মনে কত কী বলে যাচ্ছেন! গম্ভির স্তব্ধতার আবেশে যখন চারদিক নিমজ্জিত, তখন উকিল সাহেব ডেকে আমাকে নিয়ে সকলের সামনে দাঁড় করালেন। আচমকা ঘুম ভেঙে গেল।

দু-তিন মিনিট সময়ের একটা স্বপ্ন এতটা আবেগময় ও রহস্যঘন হতে পারে, এটা আগে বুঝতাম না। 

পানিভর্তি গ্লাসটি পুনরায় হাতে নিয়ে ঢকঢক শব্দে গিলে ও ভাবছে মুসাফিরের সাথে একটু কথা বলে দেখি। ওর মোবাইল নম্বরটা এখনো আমার কাছে আছে। চার্জে লাগানো মোবাইলটি হাতে নিয়ে ফোনবুকে ঢুকে মুসাফিরের নম্বরটি খুঁজতে থাকে ললিতা... 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ