শনিবার ৩১ অক্টোবর ২০২০
Online Edition

সোনারগাঁয়ে একটি স্কুল সরকারি হওয়ায় ভর্তি হওয়ার হিড়িক

রুহুল আমিন, সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) : নারয়ণগঞ্জ জেলার অন্যতম বিদ্যাপীট সোনারগাঁয়ের মোগরাপাড়া এইচ জি. জি. এস. স্মৃতি বিদ্যায়তন। ১৯৩৪ সাল থেকে শুরু করে আজও এই স্কুলটি দাড়িয়ে আছে সুনামের সহিতে। এই স্কুলের অনেক শিক্ষার্থী শিক্ষা গ্রহন করে বর্তমান সরকারের উচ্চপদস্থ পদে কর্মরত আছেন। যেমন জ্বালানি মন্ত্রণালয়, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, টি আইবির ইফতেখারুজ্জামান সহ আরও অনেকেই আছেন উচ্চ পদস্থ চাকরীজীবী হিসেবে। আজ ৮৫ বছর পর এই স্কুলটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতায় চলে গেছে। বলা চলে সরকারি এই স্কুলে দীর্ঘদিন শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৪৫০০ শত শিক্ষার্থী। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী প্রতি সেশনের জন্য নিয়ম বেধে দেওয়া হয়েছে প্রতি ক্লাসের সেশনে শিক্ষার্থী ভর্তি হতে পারবে ১৮০ জন শিক্ষার্থী, ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে। ফলে ৪৫০০ শত শিক্ষার্থীর মধ্যে ১৫০০ শত অথবা ১৮০০ শত শিক্ষার্থী ভর্তি হতে পারবে আর বাকি সব ৩০০০ হাজার শিক্ষার্থী শিক্ষা গ্রহন থেকে বঞ্চিত হবেন। হুট করে শ্রেনি শিক্ষকদের বেতন ব্যবস্থা সরকারি করার জন্য আত্নীয় করন করে সরকারের শিক্ষা মন্ত্রনালয়ে গিয়ে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি কে সরকারি করা হয়। অথচ দীর্ঘদিন এই স্কুলে কোন ম্যানেজিং কমিটিই ছিল না, যারা আছেন তারাই ৫০ বছর ধরে ম্যানেজিং কমিটি করে থাকেন, অন্য কাউকে প্রাধান্য দেওয়া হয় না মোগরাপাড়া স্কুলে। এই স্কুলটি সরকারি হওয়ায় ৪/৫ কিঃ মিঃ এলাকার কোন ভাল স্কুল না থাকায় প্রায় ৩০০০ শিক্ষার্থী শিক্ষা গ্রহন থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। মোগরাপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের আশে পাশে ব্যক্তি মালিকানা ২/৩ টা স্কুল থাকলে ও সেখানে গরিব ও মধ্যবিত্তদের এত টাকা খরচ করে লেখাপড়া করা সম্ভব নয়। অনেক শিক্ষার্থীর মা-বাবা বিভিন্ন মাধ্যমেও এই স্কুলে তাদের আদরের সন্তানদের ভর্তি করাতে পারছেন না। ফলে ভারাক্রান্ত মন নিয়ে ফিরে যাচ্ছেন সন্তান ও শিক্ষার্থীদের নিয়ে, কি হবে বাকি সব শিক্ষার্থীদের ? কি করবে এই সব শিক্ষার্থীরা, কোথায় গিয়ে লেখাপড়া করবে বুঝে উঠতে পারছে না অভিভাবক মা-বাবারা। মোগরাপাড়া চৌরাস্তা এলাকার পিঠা বিক্রেতা সাহাবউদ্দিন জানান- আমার ছেলে পি.এস.সি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে, কিন্তু এই স্কুলের ভর্তি পরীক্ষায় কিছু নাম্বার কম পাওয়ায় আমার ছেলেকে ভর্তি করাতে পারিনি। এখন আশে পাশে ৪/৫ কিঃ মিঃ এলাকায় কোন স্কুল না থাকায় আমি ছেলে নিয়ে খুবই চিন্তায় পড়ে গেছি, যে কোথায় ভর্তি করাব, কি করব? সর জমিনে মোগরাপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে গিয়ে জানা যায় শত শত অভিবাবকরা একই কথা বলছে, আমাদের ছেলে মেয়েদের নিয়ে কোথায় যাব। তাদের কে কোন স্কুলে ভর্তি করাব তারা সকলেই জানান বর্তমান প্রধান মন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা শিক্ষার উপর খুব নজরদারি এবং তিনিই বর্তমানে ডাঃ দিপু মনিকে শিক্ষামন্ত্রী দায়িত্ব দিয়েছেন। মাননীয় প্রধান মন্ত্রী জন বান্ধব জননেত্রী শেখ হাসিনার মাধ্যমে ও শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দিপু মনিকে দিয়ে যেন সোনারগাঁয়ের, মোগরাপাড়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ৩০০০  ছাত্র/ছাত্রীর শিক্ষা ব্যবস্থা গ্রহন করার উদ্যোগ নেয়া হয়া। না হয় এই সমস্ত ছাত্র/ছাত্রীরা শিক্ষা থেকে বহু দুরে চলে যাবে। ৪৫টি গ্রামবাসি মা-বাবার দাবি তাদের সন্তানদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মাধ্যমে কোটা বাড়িয়ে তাদের সন্তানদের লেখাপড়ার সুযোগ করিয়ে দেওয়ার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ ও দাবি জানায়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ