শনিবার ৩১ অক্টোবর ২০২০
Online Edition

ফেসবুকে গুজব ছড়ানো না’গঞ্জের আনিস সিআইডির জালে

নারায়ণগঞ্জ সংবাদদাতা : সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একাধিক মন্ত্রীসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অভিযোগে ৩৭টি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি অ্যাকাউন্ট নারায়ণগঞ্জের মঈনুল হাসান আনিসের। এ অভিযোগে গত ১২ ডিসেম্বর তাকে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলাও করা হয়েছে। মঈনুল হাসান আনিস জামতলার মৃত গিয়াস উদ্দিনের ছেলে।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, আনিস চরম পর্যায়ের মাদকাসক্ত। বেশ কয়েকবার মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছিল তাকে। কিন্তু কোন ফল পাওয়া যায়নি। শেষে হাল ছেড়ে দেয় পরিবারের লোকজন। মাদকাসক্তির কারণে কোন বিষয়ে নিষেধ করলেও মানতো না সে। এ কারণে স্ত্রী ও পরিবারের অন্যান্যদের সাথে আনিসের সম্পর্কে এক ধরণের দূরত্ব তৈরি হয়। বেশির ভাগ সময়ই ইন্টারনেটে ডুবে থাকতো সে। তবে রাজনৈতিক কোন দলের সাথে আনিসের সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি তার পরিবারের।
আনিস বেশির ভাগ সময় একাই থাকতো তার ঘরে। সে বেশ কয়েকটি ফেসবুক একাউন্ট ব্যবহার করতো বলেও জানা যায়। তবে একটি একাউন্ট দিয়েই সে বিভিন্ন অপপ্রচার চালাতো বলে অভিযোগ করা হয়েছে। বর্তমানে আনিসের ওই ফেসবুক অ্যাকাউন্টটি বন্ধ। ওই অ্যাকাউন্ট দিয়ে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাতো বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সিআইডি কড়া নজরে রেখেছিল আনিসের একাউন্টটি। গত ১২ ডিসেম্বর তাকে ট্রাকিংয়ের মাধ্যমে গ্রেফতার করে সিআইডি। তবে এ খবর পরিবারের লোকজন জানতে পারে গ্রেফতার হবারও দুই দিন পর। বর্তমানে আনিসের বিরুদ্ধে করা নিরাপত্তা আইনে মামলাটি আদালতে বিচারাধীন আছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার ঠেকাতে সিআইডি সাইবার সেন্টার প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। গুজব ও অপপ্রচার ছড়ানোর অভিযোগে ইতিমধ্যে ২২৬টি আইডি, পেজ এবং ওয়েবসাইট শনাক্ত করেছে সাইবার ইউনিট।
এর মধ্যে ৩৭ ফেসবুক আইডি শনাক্তের পাশাপাশি ৬৫টি ফেসবুক পেজ, ৬৩টি ভুঁইফোঁড় নিউজ ওয়েবসাইট, ৫টি ইউটিউব চ্যানেল, একটি ব্লগ ও ২টি ওয়েবসাইট শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৫টি ফেসবুক আইডি ও ১১টি পেজ বন্ধ করে দিতে ফেসবুক কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছে সিআইডি।
জানা যায়, এসব ফেসবুক আইডি থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আকম মোজাম্মেল হক, সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, সাবেক নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম সম্পর্কে মানহানিকর স্ট্যাটাস দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
সিআইডি বলছে, গুজব ছড়ানোর ঘটনায় এ পর্যন্ত আটজনকে তারা গ্রেফতার করেছে। অন্যদের গ্রেফতার করতে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চলছে। এছাড়া সাইবার টহল জোরদার করা হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ