বৃহস্পতিবার ০১ অক্টোবর ২০২০
Online Edition

তালায় প্রাচীন স্থাপত্যের সন্ধানে খনন কাজ অস্থিত্ব মিলেছে আদি-মধ্য যুগের

পাটকেলঘাটা (সাতক্ষীরা) সংবাদদাতা : পূরাকীর্তির সন্ধানে সাতক্ষীরার তালা উপজেলায় খনন কার্যক্রম শুরু করেছে প্রত্মতত্ত্ব বিভাগ। উপজেলার আগোলঝাড়া ও ডাঙ্গা নলতার মধ্যবর্তী স্থান ঝুড়ি-ঝাড়ার মাঠের উচু মাটির ঢিবিতে গত ৭ নবেম্বর ক্যাম্প স্থাপন ও ১১ নবেম্বর থেকে করা হয় এই খনন কাজ। এর আগে ২০১২ সালে প্রত্মতত্ত্ব বিভাগ নিজেদের আওতায় নিয়ে স্থানটি সংরক্ষণ করে। জেলার প্রথম শুরু হওয়া খননে ইতি মধ্যে প্রত্মতত্ত্ব বিভাগ ধারনা করছে আদি ও মধ্যযুগের মাঝামাঝি সময়ের স্থাপনা এটি। গত ১২ দিনের খননে তারা ঐ সময়ের মৃৎ শিল্পের কিছু নমুনা বা নিদর্শন ও ব্রিটিশ শাসনামলের ১টি কয়েন (মুদ্রার) সন্ধান পেয়েছে। তবে সেখানে প্রাপ্ত বাড়ির নকশা ও ইটের গাঁথুনি দেখে ধারনা করা হচ্ছে এর আগে ১০০ বছর বা তার কিছু সময় আগে-পরে গুপ্ত ধন কিংবা অন্য যে কোন কারনে সেখানে খনন বা তছরুপ করা হয়েছিল। প্রত্মতত্ত্ব বিভাগ খুলনার পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) এ.কে.এম সাইফুর রহমান জানান, কেশবপুরের ভরত-ভায়নার পর এ পর্যন্ত এ জনপদে বিশেষ কোন খনন কাজ কিংবা কোন পুরাকীর্তির সন্ধান পায়নি। তবে তালার এ খননে তাদের কাছে আশা সঞ্চারিত হয়েছে। অভিজ্ঞতার আলোকে নমুনা দেখে তারা ধারনা করছেন, এটা আদি ও মধ্যযুগের মাঝামাঝি সময়ের কোন স্থাপনা হতে পারে। তিনি জানান, ২০১২ সালে সেখানকার ৫০ শতক জমি করায়ত্ত করে তারা সংরক্ষন করে আসছে। তবে জনবল থেকে শুরু করে নানা সংকটে প্রায় ৬ বছর পর তারা খনন কাজ শুরু করল। এলাকাবাসী প্রত্মতত্ত্ব অধিদপ্তরের পুরাকীর্তির অনুসন্ধান বিষয়টিকে সাধুবাদ জানিয়েছেন, সহযোগিতা করছেন অধিদপ্তরকে। স্থানীয় থানা পুলিশও নিরাপত্তা দিচ্ছেন তাদেরকে, জানিয়েছেন অধিদপ্তরের এ কর্মকর্তা। সাইফুর রহমান বলেন, তাদের খনন কাজ দেখতে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ভিড় করছে। তরুনদের অনেকে এসে তাদের কাছে জানতে চাইছেন এ পর্যন্ত তার কোন পুরাকীর্তির নিদর্শন উদ্ধার করতে পেরেছেন কিনা কিংবা কোন সময়ে বা আমলে তাদের জনপদে মানব সভ্যতা গড়ে উঠেছিল? ইত্যাদি সব কৌতূহলী প্রশ্ন তাদেরকেও প্রতি মুহূর্তে মূল কাজে অনুপ্রাণিত করছে। তিনি বলেন, মোট ৯ জন সদস্য প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত নিরলস পরিশ্রম করছেন খনন কাজে। তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাজিয়া আফরিন বলেন, সরকারের অনুমতি ক্রমেই প্রত্মতত্ত্ব বিভাগ এ কাজ করছেন। খনন কাজ শেষ হলেই বিস্তারিত জানা যাবে।প্রত্বতত্ত্ব অধিদপ্তরের খুলনা আঞ্চলিক কার্যালয়ের সহকারী কাষ্টরিয়াম মোঃ শাহিন আলম জানান, বহু বছরের পুরানো এ মাটির ঢিবিটি ঝুড়িঝাড়ার মাঠ নামে পরিচিত। এলাকা বাসী অবশ্য এলাকাটির নামকরণ নিয়ে নানা প্রচালিত উপাখ্যানের কথা বলেন, অনেকের দাবী তাদের (পূর্ব পুরুষদের ভাষ্য মতে) প্রাচীন কালে সঙ্গবদ্ধ একটি জ্বিন চক্র এক রাতে পাশের একটি পুকুর কেটে সেখানকার মাটি ঝুড়ি-ঝাড়েন সেখানে, তাই ঝুড়ি-ঝাড়ার মাঠ নামে পরিচিত এই স্থানটি। অনেকে আবার বাগেরহাটের খাঁজা খান জাহান আলির শীর্ষ বা অনুসারীদের ধর্ম প্রচারে জনপদে আসলে বিভিন্ন সময় তাদের অলৌকিক ক্ষমতা বলের নিদর্শন সরুপ বাড়িটি নির্মিত থাকতে পারে বলেও মনে করেন। তবে বাস্তবাতা প্রত্মতত্ত্ব অধিদপ্তরের আশঙ্খাকেই মূল্যায়ন করছে অন্যভাবে। ইতিমধ্যে খনন কৃত ধ্বংসাবসের মধ্যে ব্রিটিশ আমলের একটি কয়েন পাওয়ায় এবং ভবনটির বিভিন্ন ওয়াল এলোপাতাড়ি ভাবে আগেই অস্তিত্বহীণ থাকায় ধারনা করা হচ্ছে ১০০ বছর কিংবা তার ও আগে পরে সেখানে রত্ন ভান্ডার বা অন্য কোন উদ্দেশ্যে ধ্বংস যঞ্জ চালানো হতে পারে। তবে সেখানে যাই ঘটুক না কেন আদি কিংবা মধ্যযুগের মাঝামাঝি সভ্য মানুষের বসবাস ছিল এই স্থানটিতে তারই বার্তা বহন করে। তবে সেটি কোন সময় বা কোন বংশের শাসনামলে? এমন প্রশ্নের উত্তর খুজতে অপেক্ষা করতে হবে আরও বেশ কিছুদিন। খনন কাজ শেষ হলেই বিস্তারিত জানা যাবে প্রকৃত রহস্য।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ