বৃহস্পতিবার ০১ অক্টোবর ২০২০
Online Edition

ভোলাহাটে নিয়মনীতি ছাড়াই চলছে নোংরা পরিবেশে বেকারী কারখানা

ভোলাহাট (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) সংবাদদাতা : ভোলাহাটে গড়ে উঠা বেকারী কারখানাগুলো কার নিয়ন্ত্রণে? সরকারের নিয়ন্ত্রণ বিভাগ আর বেকারী কারখানা মালিকের যোগসাজশে অবৈধ্য ভাবে নিয়মনীতি ছাড়াই নোংরা পরিবেশে দেদারছে চলছে বেকারী কারখানায় খাবার উৎপাদন কাজ এমন অভিযোগ ভোক্তাদের। দেশে ভোক্তা অধিকার আইন থাকলেও এ সব বেকারী মালিকেরা কোন অদৃশ্য শক্তিতে ভোক্তাদের খাবারের নামে বিষ খাওয়াচ্ছে তা যেন স্থানীয় প্রশাসন দেখেও না দেখার ভান করছেন। ভোক্তাদের অভিযোগের ভিত্তিতে সরজমিন ভোলাহাট উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন ওবাইদুর বেকারী সৈয়দ রকি আলীর মালিকানাধী কারখানায় গিয়ে দেখা যায়  কেমিষ্ট ছাড়াই নোংরা পরিবেশে তৈরী হচ্ছে বিস্কুট, টোস্ট, পপ,রুল, কেক, থাই রুটি। কারখার ভিতর এলোমেল ভাবে খাবার তৈরিতে ব্যবহার করা বিভিন্ন প্রকার উপাদান, রং, কেমিক্যাল, সোডা, ময়দা ও খাবার তৈরি আসবাবপত্র নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে পড়ে থাকতে দেখা গেছে। রকিকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, বিএসটিআই অনুমোদন ছাড়াই কোন কেমিষ্ট না রেখে ইচ্ছে মত দীর্ঘ ১০ বছরের বেশি সময় ধরে বেকারীরর ব্যবসা পরিচালনা করে যাচ্ছেন। তাকে উৎপাদিত খাদ্যের স্টিকারে উৎপাদিত খাদ্যের তৈরির মেয়াদকাল, উর্ত্তীণ তারিখ ও খাদ্যের উপাদানের পার্সেন না দিয়ে উৎপাদিত খাদ্য ভোক্তাদের ক্ষতির কারণ হবে কি না এ প্রশ্নের কোনো সদুত্তর দিতে পারেনি। কিসের ভিত্তিতে বেকারীর কারখানা দেদারসে চালিয়ে ব্যবসা করছেন এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের ট্রেড লাইসেন্স দিয়ে। এদিকে ভাই-বোন চানাচুর কারখানার মোঃ ইয়াশিন আলীর মালিকানাধীন বাজার থেকে পাওয়া চানাচুরের গায়ে লেখা আছে মেয়াদ উত্তীর্ণ তারিখ হতে ৬০দিন তার উৎপাদিত চানাচুর খাওয়া যাবে।
এমন আনাড়ি অদক্ষ লোকজন নিজেদের লাভবান করতে ভোক্তা অধিকার আইন চরম ভাবে লংঘন করছে যা আইন থাকলে ও বাস্তবায়ন হচ্ছে না।
এদিকে জাহিদ বেকারীর মালিক সৈয়দ জিন্নাত আলীর সাথে কথা বলেন, তিনি তার বেকারী কারখানার অনিয়মের কথা অকপটে স্বীকার করেন। এমন আইন লংঘনকারী ভোলাহাট উপজেলার ভোলাহাট ইউনিয়নের আওতায় জাহিদ বেকারী, ওবাইদুর বেকারীসহ বেশ কিছু বেকারীর কারখানা দীর্ঘদিন ধরে ভোক্তা অধিকার আইনকে তোয়াক্কা না করে ব্যবসা চালিয়ে আসছে। ভোক্তাদের অভিযোগ স্থানীয় এ সব বেকারীর উৎপাদিক বিস্কুট, টোস্ট, পপ,রুল, কেক, থাই রুটি, চানাচুরে উৎপাদন তারিখ, মেয়াদ উর্ত্তীণ তারিখ ও খাবারে কি কি উপাদান ব্যবহার করছে এ সবের কিছুই না দিয়ে দেদারসে তারা তাদের ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ায় স্বাস্থ্য ঝুঁকি আশংকায় সাধারণ ভোক্তারা। তবে সচেতন ভোক্তারা উৎপাদন ও মেয়াদ উর্ত্তীণ দেখে খাবার ক্রয় করেন কিন্তু সাধারণ ভোক্তারা এ সব না দেখে না বুঝে খাবার খেলে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়বেন বলে সচেতনমহল দাবী করেছেন। স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়লে এর দায় কে নিবেন এমন প্রশ্ন সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের কাছে ভোক্তাদের। বেকারীগুলোর এমন অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে ভোক্তা ঠকানোর বিষয়ে ভোলাহাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে খাদ্য মান নিয়ন্ত্রণ তদারকী করার দায়িত্বে থাকা সেনেটারী ইন্সপেক্টর আব্দুস সবুরের সাথে অবৈধ ভাবে পরিচালিত হয়ে আসা বেকারী কারখানার বিষয়ে কি ধরণের পদক্ষে রয়েছে জানার জন্য যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এ সব বেকারী কারখানাগুলোকে ভোক্তা অধিকার আইনে বেশ ক’বার অর্থদন্ড প্রদান করা হয়েছে। তিনি বিষয়টি দেখবেন বলে দায়সারা উত্তর দেন। তবে এলাকার ভোক্তারা দ্রুত এ সব অবৈধ ভাবে গড়ে ঊঠা বেকারী কারখানাগুলোর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী করেছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ