বৃহস্পতিবার ০১ অক্টোবর ২০২০
Online Edition

তাবলিগ ইজতেমা আয়োজনের সার্কুলারকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট

স্টাফ রিপোর্টার : দুই দফায় দাওয়াতে তাবলিগের ইজতেমা আয়োজনের সার্কুলারকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে। গতকাল সোমবার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় আইনজীবী অ্যাডভোকেট শাহ্ মো. নুরুল আমিন এ রিট আবেদন করেন। রিটে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ চারজনকে বিবাদী করা হয়। এ বিষয়ে আইনজীবী নুরুল আমিন বলেন, ধর্ম মন্ত্রণালয় দুই দফায় বিশ্ব ইজতেমা আয়োজনের জন্য যে সার্কুলার জারি করেছে সেটি চ্যালেঞ্জ করে রিট করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, তাবলিগ জামাতের ভেতর দুটি পক্ষের দ্বন্দ্ব চলছে বেশ কিছু দিন ধরে। এ দ্বন্দ্ব সংঘাতে রূপ নিচ্ছে। সংঘাত ও নির্বাচনের কারণে পূর্বনির্ধারিত সময়ে এবার অনুষ্ঠিত হয়নি বিশ্ব ইজতেমা।
প্রসঙ্গত, তাবলিগের চলমান সংকট নিরসন ও আসন্ন বিশ্ব ইজতেমা সফলের লক্ষ্যে ধর্মপ্রতিমন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহর নেতৃত্বে বাংলাদেশের একটি উচ্চতর প্রতিনিধি দল ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দ যাওয়ার কথা রয়েছে। চূড়ান্ত তালিকায় ধর্ম প্রতিমন্ত্রী নেতৃত্বাধীন সরকারের পদস্থ কর্মকর্তা, ওলামায়ে কেরাম ও তাবলিগের উভয়পক্ষের মুরব্বিদের সমন্বয়ে প্রতিনিধিরা রয়েছেন। তাবলিগ জামাতের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে অংশদারিত্বের বিষয়ে বিবাদে জড়িয়ে পড়ে তাবলিগের শীর্ষ মুরব্বীগণ। তাবলিগের বর্তমান আমির মাওলানা সাদ কান্ধলভির নেতৃত্বের বিরোধিতা করে কয়েকজন মুরব্বী নিজামুদ্দীন মারকাজ ত্যাগ করলে বিভক্তি স্পষ্ট হয়।
বিশ্বের প্রতিটি দেশেই ছড়িয়ে পড়ে বিভক্তি। তাবলিগ জামাতের বাংলাদেশের প্রধানকেন্দ্র কাকরাইল মসজিদের দায়িত্বশীলদের মধ্যেও মতানৈক্য ছড়িয়ে পড়ে। ১১ জন শুরা সদস্যের মধ্যে ৬ জন নিজামুদ্দীন মারকাজ ও মাওলানা সাদের পক্ষে অবস্থান নিলেও বাকি ৫ জন তার বিরোধিতা করেন। হেফাজতপন্থী আলেমগণ তাদের সঙ্গে যুক্ত হলে বাংলাদেশেও বিষয়টি নিয়ে উত্তাপ ছড়ায়। এ অংশের বাধায় তাবলিগের কেন্দ্রীয় আমির মাওলানা সাদ ২০১৮ সালের বিশ্ব ইজতেমায় অংশ নিতে পারেননি।
২০১৯ সালের বিশ্ব ইজতেমা নিয়েও দেখা দিয়েছে নানা সংশয়। সংকট নিরসনে আগামী ২২ জানুয়ারির মধ্যে ধর্মপ্রতিমন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহর নেতৃত্বে উচ্চতর একটি প্রতিনিধিদল ভারতের দেওবন্দ সফরের কথা রয়েছে।
ইজতেমার তারিখ ঠিক করতে বুধবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবার বৈঠক : তাবলিগের এক পক্ষ না আসায় অন্য পক্ষের মতামত নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, এবারের ইজতেমার তারিখ নির্ধারণে বুধবার দুই পক্ষকে নিয়ে বসবেন তারা। গতকাল সোমবার বিকালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বৈঠকে তাবলিগের দিল্লী মারকাজের মাওলানা মোহাম্মদ সাদ কান্ধলভির অনুসারীরা উপস্থিত হয়েছিলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান কামাল ও ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহর সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেন এই পক্ষের নেতা কাকরাইল মারকাজের শূরা সদস্য ওয়াসিফুল ইসলাম। কিন্তু দেওবন্দ অনুসারীরা এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন না।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, “আরেকটি পক্ষ সময়মতো জানতে না পেরে আসতে পারেনি। আমরা বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় উভয়পক্ষকে নিয়ে একসাথে বসব এবং তাদেরকে ( উভয় পক্ষ) ইজতেমার তারিখ ঠিক করতে বলব।” এই দুই পক্ষের দ্বন্দ্ব সংঘাতে গড়ানোর পর এবারের বিশ্ব ইজতেমা স্থগিত করা হয়েছে। বাংলাদেশের টঙ্গিতে এই ইজতেমা হয়ে আসছে।
ধর্ম প্রতিমন্ত্রী আবদুল্লাহ সাংবাদিকদের বলেন, “সরকারের পক্ষ থেকে একটি দাবি আছে, তাহল একসাথে ইজতেমা হতে হবে।”
উপমহাদেশে সুন্নী মতাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় সংঘ তাবলিগ জামাতের মূলকেন্দ্র ভারতের দিল্লীতে। মাওলানা সাদের দাদা ভারতের ইসলামী পন্ডিত ইলিয়াছ কান্ধলভি ১৯২০ এর দশকে তাবলিগ জামাত নামের এই সংস্কারবাদী আন্দোলনের সূচনা করেন। মাওলানা ইলিয়াছের মৃত্যুর পর তার ছেলে মাওলানা মোহাম্মদ ইউসুফ এবং তারপর মাওলানা ইনামুল হাসান তাবলিগ জামাতের আমিরের দায়িত্ব পালন করেন। মাওলানা ইনামুলের মৃত্যুর পর একক আমিরের বদলে সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভার দেওয়া হয় একটি শূরা কমিটির উপর।
মাওলানা জুবায়েরের মৃত্যুর পর মাওলানা সাদ আমিরের দায়িত্ব নেন এবং একক নেতৃত্বের নিয়ম ফিরিয়ে আনেন। কিন্তু মাওলানা জুবায়েরের ছেলে মাওলানা জুহাইরুল হাসান তখন নেতৃত্বের দাবি নিয়ে সামনে আসেন এবং তার সমর্থকরা নতুন করে শুরা কমিটি গঠনের দাবি জানান। কিন্তু সাদ তা প্রত্যাখ্যান করলে বিরোধ বড় আকার ধারণ করে। নেতৃত্ব নিয়ে দিল্লীর মারকাজ এবং দেওবন্দ মাদরাসার অনুসারীদের মধ্যে এই দ্বন্দ্ব প্রকট আকার ধারণ করে গত বছর জানুয়ারিতে ঢাকায় বিশ্ব ইজতেমার সময়। আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করে আসা সাদ কান্ধলভি বিরোধীদের বিক্ষোভের মুখে পড়েন। শেষ পর্যন্ত ইজতেমায় অংশ না নিয়েই তাকে ঢাকা ছাড়তে হয়। তারপর থেকে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছে।
গতকাল সোমবার বৈঠকের পর সাদের অনুসারী সৈয়দ আশরাফ আলী সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা একসাথে ইজতেমা করতে রাজি আছি। তবে আমাদের কিছু দাবি রয়েছে।” তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে, আগের মতো নিজামুদ্দিন (নিজামুদ্দিন আউলিয়া) মারকাজের তত্ত্বাবধানে ইজতেমা অনুষ্ঠিত হতে হবে। তাদেরকে প্রথম ইজতেমা করার সুযোগ দিতে হবে। পছন্দ মতো বিদেশী মেহমান আনার সুযোগ দিতে হবে।
শর্তাধীনে একসঙ্গে ইজতেমায় রাজি হওয়ার কথা জানালেও সাদের অনুসারী আশরাফ আলী বলেন, “এখন যে অবস্থা দাঁড়িয়েছে, তাতে একসাথে ইজতেমা হওয়ার সম্ভাবনা দেখছি না।”

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ