বৃহস্পতিবার ০১ অক্টোবর ২০২০
Online Edition

লোমহর্ষক ঘটনা ঘটছেই

মোহাম্মদ জাফর ইকবাল : একের পর এক লোমহর্ষক ও কুৎসিক কর্মকাণ্ড চলছেই। থেমে নেই হত্যা, গুম, অপহরণের মতো নৃশংসতাও। বিশেষ করে গণধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষে ভোট দেয়ার অপরাধে নোয়াখালীর সুবর্ণচরে তিন সন্তানের জননীকে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মী কর্তৃক গণধর্ষণের ঘটনায় যখন দেশে বিদেশে সমালোচনার ঝড় বইছে তখন ফের নোয়াখালীর কবিরহাটে এক গৃহবধূকে দলবেঁধে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া রাজধানীতে চলন্ত বাসে ধর্ষণের চেষ্টাও করা হয়েছে। স্ত্রীর সামনে স্বামীকে বেঁধে নৃশংস নির্যাতনের ঘটনাও ব্যাপক আলোচিত। এসব কর্মকাণ্ডের অধিকাংশের সাথে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় বাংলাদেশের নারীদের ওপর পৈশাচিক নির্যাতনের ঘটনায় সমগ্রবিশ্ব ধিক্কার দিয়েছে বর্বর পাকসেনাদের। কিন্তু গত ৩০ ডিসেম্বর সুবর্ণচরে পারুল আখতার ও তার পরিবারের ওপর বিজয়ী দলের সন্ত্রাসীরা যা করলো তা ৭১ এর পাকসেনাদের চাইতে কি কম? এ লজ্জা আমরা কীভাবে ঢাকবো? এ ছাড়া তৃতীয়বারের মতো আবারো ক্ষমতায় আসার পর যেভাবে লোমহর্ষক ও কুৎসিক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রয়েছে তার দায়ভারও সরকার এড়াতে পারেনা বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। তারা বলছেন, এই সব ঘটনায় জাতি হিসাবে আমাদেরকে অত্যন্ত হেয় প্রতিপন্ন করেছে। কোনো গণতান্ত্রিক দেশে এমন ঘটনা কল্পনাও করা কঠিন। গণতান্ত্রিক অধিকার, মৌলিক মানবাধিকার ও মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে হুমকির সম্মুখীন করেছে। এরূপ ঘটনার যেন আর পুনরাবৃত্তি না ঘটে তার জন্য এখনই উদ্যোগী হবার পরামর্শ নেন তারা।
লোমহর্ষক ধর্ষণের ঘটনা: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকে দেশে বিদেশে ব্যাপক আলোচিত ও সমালোচিত ছিল নোয়াখালীর সুবর্ণচরে তিন সন্তানের জননীকে গণধর্ষণের ঘটনা। এতে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার। অভিযোগে প্রকাশ, গত ৩০ ডিসেম্বর ভোটের পর রাতে স্বামী-সন্তানদের বেঁধে রেখে সুবর্ণচরে এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে আওয়ামী লীগের এক নেতার সাঙ্গোপাঙ্গোদের বিরুদ্ধে। নোয়াখালী সুবর্ণচরে আওয়ামী লীগের ১০-১২ জন কর্মী একজন সিএনজি চালকের স্ত্রীকে তুলে নিয়ে গিয়ে গণধর্ষণ করেন। কারণ তারা তাকে নৌকায় ভোট দিতে বললে তিনি ধানের শীষে ভোট দেবে বলে তাদের সঙ্গে কথা কাটাকাটি করেন। এজন্য প্রতিশোধ নিতে সেই নারীকে রাত ১০ টায় তুলে নিয়ে গিয়ে তারা নির্যাতন করে শ্লীলতাহানি করেন। ওই গৃহবধূ নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। এ ঘটনা দেশে বিদেশে ভয়ানক নাড়া দিয়েছে, সবাইকে ব্যথিত করেছে। শুধু ভোট দেয়ার অপরাধে এভাবে গণধর্ষণের ঘটনাকে পাক বাহিনীর বর্বরতার সাথেও তুলনা করা হচ্ছে।
ভুক্তভোগী ওই নারীর অভিযোগ, নির্বাচনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ায় তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে। চর জুবিলী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য রুহুল আমীনের নেতৃত্বে এই কাজ করা হয়েছে বলে জানান ওই নারী। তিনি বলেন, তারা আমাকে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকে ভোট দেওয়ার জন্য জোর করেছিল, কিন্তু আমি তাদের কথা না শুনে ধানের শীষে ভোট দিয়েছি। ডাক্তারি পরীক্ষায় ধর্ষণের আলামত মিলেছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ধর্ষক রুহুলসহ আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। সুবর্ণচরে গণধর্ষণের শিকার এই নারীকে আর্থিক সহযোগিতা দিয়েছে বিএনপি। তাকে দেখতে নোয়াখালী সফর করেছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতারা।
সুবর্ণচরের ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল বলেন, মিথ্যা জয়ের অহংকারে আওয়ামী ক্যাডাররা মানবতার শত্রুতে পরিণত হয়েছে। নৌকায় ভোট না দেয়ায় নোয়াখালীর সুবর্ণচরে স্বামী-সন্তানদের বেঁধে পিটিয়ে আহত করে তাদের সামনে গৃহবধূকে গণধর্ষণের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ধিক্কার জানাই। তিনি বলেন, এই ধরনের ঘটনা কেবলমাত্র পিশাচরাই ঘটাতে পারে। মহাজালিয়াতির ভোটের পর উদ্ধত উল্লাসে ক্ষমতাসীন দলের কর্মীরা পশুপ্রবৃত্তির প্রকাশ ঘটিয়ে অনাচারে লিপ্ত হয়েছে। মির্জা ফখরুল বলেন, ভোট জালিয়াতির পর অবৈধ ক্ষমতার সঙ্গে যোগ হয়েছে বিকৃত রুচির স্ফুরণ। তাই তাদের দ্বারা সংঘটিত অসংখ্য দুর্বিনীত হিংস্রতা ধেয়ে এসেছে শহর গ্রামে। তাতে শুধু বিএনপির পুরুষ কর্মীরাই রক্তাক্ত আক্রমণের শিকার হচ্ছে না, ধানের শীষের নারী ভোটাররাও ভয়ানক নির্যাতনের শিকার ও মান-সম্মান ইজ্জত হারাচ্ছেন। ফখরুল বলেন, সিএনজি চালকের স্ত্রীকে নির্যাতনের মাধ্যমে শ্লীলতাহানির ঘটনা সরকারের টনক না নড়লেও বিশ্ববাসীর কাছে বাংলাদেশের ভাবমর্যাদা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। মনে হয় সরকার নির্বাচনের নামে এক মহাপ্রতারণার পর দলের ক্যাডারদেরকে বেপরোয়া হওয়ার জন্য ফ্রি লাইসেন্স দিয়েছে। তারা এ ছাড়পত্র পেয়ে বিরোধী দলের নেতাকর্মী ও ভোটারদের সর্বস্ব কেড়ে নেয়ার জন্য আদিম উম্মাদনায় মেতে উঠেছে। নোয়াখালী সুবর্ণচরের নারী ভোটারের ওপর আওয়ামী ক্যাডারদের পৈশাচিক নির্যাতন এই সরকারের কলঙ্ক তিলক। সরকারের আশকারাতেই দেশের সর্বত্র নিজ দলীয় ক্যাডাররা এখন বিবেকশুন্য, মানবতাশুন্য এক হানাদার বাহিনীতে পরিণত হয়েছে বলে বিএনপি মহাসচিব মন্তব্য করেন। মির্জা ফখরুল বলেন, নোয়াখালীর সুবর্ণচরে যে ঘটনা ঘটেছে, এটা যারা ঘটিয়েছে এবং এর পেছনে যারা রয়েছে তাদের প্রত্যেকের বিচার করতে হবে। আওয়ামী লীগকে জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।
অব্যাহত ধর্ষণে নারী সমাজ বিপদগ্রস্ত ও আতঙ্কিত হয়ে উঠছে বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট নারী নেত্রী বেগম সেলিমা রহমান। তিনি বলেন, সারাদেশে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা একের পর এক নারী নির্যাতন করে রেহাই পাচ্ছে। সেলিমা রহমান বলেন, অপরাধীদের বিচার চাওয়ার কিছু নেই। কারণ, যারা অপরাধ করে তারা অপরাধীদের বিচার করে না। ধর্ষণ, যৌন নির্যাতন ও শিশু নির্যাতন থেকে শুরু করে বিভিন্ন ঘটনায় বাংলাদেশের নারী সমাজ বিপদগ্রস্ত ও আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। কিন্তু ক্ষমতাসীনদের উল্লাস থামেনি। সরকারের ভেতর অপরাধবোধ বলতে কিছু নেই।
নোয়াখালীর সুবর্ণচরের গণধর্ষণের শিকার পারুলের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা প্রকাশ করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেন, পারুলের ওপর মধ্যযুগীয় কায়দায় বর্বরোচিত লোমহর্ষক কা- ঘটেছে। এই লজ্জা ধর্ষিতা পারুলের নয় বরং এ লজ্জা সমগ্র জাতির। পারুল নির্যাতিত নয়, বরং নির্যাতিত হয়েছে আমাদের গণতন্ত্র ও মৌলিক মানবাধিকার। এখন থেকে পারুলের সকল দায়িত্ব আমাদের সকলের। কামাল হোসেন বলেন, এই ঘটনা জাতি হিসাবে আমাদেরকে অত্যন্ত হেয় প্রতিপন্ন করেছে। কোনো গণতান্ত্রিক দেশে এমন ঘটনা কল্পনাও করা কঠিন। সরকার এ ঘটনাকে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করেছে অভিযোগ করে ড. কামাল বলেন, সন্ত্রাসী ধর্ষকদের পালিয়ে যেতে সাহায্য করেছে। পুলিশ বাদীর কথিত মতে হুকুমের আসামীসহ অনেকের নাম বাদ দেওয়াতে আমি ক্ষোভ প্রকাশ করছি।এবং অনতিবিলম্বে তাদের আইনের আওতায় আনার দাবি করছি।
মানবাধিকার আইনজীবী সালমা আলী বলেন, যে বাচ্চাদের সামনে মাকে অত্যাচার করা হয়েছে, সে বাচ্চারা কি কোনওদিন ট্রমা থেকে বের হয়ে আসতে পারবে? আমি এমন পরিস্থিতির অপমান থেকে নারীসমাজের মুক্তি দেখে যেতে চাই।
কেয়ারটেকার সরকারের সাবেক উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, নতুন বছরে নতুন সরকার বিশাল মেন্ডেট নিয়ে এসেছে। তাদের কাছে প্রত্যাশা থাকবে নারী নির্যাতনকারীর রাজনৈতিক পরিচয়ে পার পেয়ে যাওয়া রোধ করতে হবে। অপরাধী অপরাধীই। এটি কথায় নয় কাজে প্রমাণ করবেন।
নারীপক্ষের আন্দোলন সম্পাদক ফরিদা ইয়াছমিন বলেন, ধানের শীষে ভোট দেয়ায় নোয়াখালির সুবর্ণচরে গৃহবঁধূকে ধর্ষণঘটনায় নারীপক্ষ ভীষণভাবে ক্ষুব্ধ ও উদ্বিগ্ন।
এদিকে নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় গণধর্ষণের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ফের জেলার কবিরহাট উপজেলায় বিএনপি সমর্থিত তিন সন্তানের জননীকে গণধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সিঁধ কেটে গৃহবধূর ঘরে ঢুকে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তিন সন্তানসহ তাকে জিম্মি করে ধর্ষণ করে তিন ব্যক্তি। এরপর পালিয়ে যায় তারা। কবিরহাট উপজেলার ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের নবগ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এই ধর্ষণের ঘটনার সাথেও ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মী জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে, ভুক্তভোগী গৃহবধূর স্বামী একটি মামলায় গ্রেফতার হয়ে নোয়াখালী কারাগারে আছেন। বাড়িতে স্বামী না থাকার সুযোগে ওই ব্যক্তিরা ঘরে ঢুকে তাকে ধর্ষণ করে। এর মধ্যে জাকের হোসেনকে চিনতে পেরেছেন গৃহবধূ। জানা গেছে, ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের নবগ্রামে তিন সন্তানের জননীকে ধর্ষণের ঘটনায় কয়েকজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃত উল্লেখযোগ্যরা হলেন- নকগ্রামের অজিলউল্যার ছেলে আবদুর রব ওরপে মান্না (২১), ইসমাইল হোসেন ছেলে সেলিম (২৫) ও মফিজুর রহমানের ছেলে হারুন অর রশিদ ৩০)।
এ বিষয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ধানের শীষের ভোট দেওয়ার অপরাধে সুবর্ণচরের নির্যাতিতা পারুল বেগমের আহজারি ও গোঙানি থামতে না থামতেই নোয়াখালীর কবিরহাটে ঘরে ঢুকে অস্ত্রের মুখে মা ও ছেলে-মেয়েদের জিম্মি করে তিন সন্তানের মাকে স্থানীয় যুবলীগের কর্মীরা গণধর্ষণ করেছে। ভোটের পর ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা পৈশাচিক উল্লাসে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। ওই গৃহবধূর স্বামীকে স্থানীয় যুবদলের নেতা হিসেবে উল্লেখ করে রিজভী বলেন, ধর্ষিতার স্বামী ধানসিঁড়ি ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, যিনি মিথ্যা মামলায় কারাগারে বন্দী। এই গণধর্ষণ শুধু হৃদয়বিদারকই নয়, মনুষ্যত্বহীনতার এক ভয়ংকর দৃষ্টান্ত। তিনি বলেন, ভুয়া ভোটের মিথ্যা জয়ে আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা পৈশাচিক উল্লাসে মেতে উঠেছে। কুৎসিত অপকর্ম করতে তারা এখন বেপরোয়া।
নারী নির্যাতনের বিষয়ে মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস বলেন, নারীদের উপর লোমহর্ষক নির্যাতনের প্রতিবাদও করা যায়না। বিচার চাওয়া তো দূরের কথা। কারণ যারা এসব ঘটনা ঘটাচ্ছে তারা সরকার দলীয় নেতাকর্মী। তিনি বলেন, সুবর্ণচরের ঘটনায় আমরা প্রেস ক্লাবেব সামনে শুধু প্রতিবাদ করার জন্য এসেছিলাম। কিন্তু এই সরকারের প্রশাসন দাঁড়ানোর সুযোগও দিতে চায়নি। সুবর্ণচরের নির্যাতিত নারীর পক্ষে এখানে দাঁড়িয়েছিলাম। ওই নারী পছন্দের প্রতীকে ভোট দিয়ে মহাপাপ করেছে বলে তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে। সেই ঘটনায় সাতজন গ্রেফতার হয়েছে। এবার তাদের ফাঁসি চাই। তিনি বলেন, একটি ঘটনা ঘটলে সরকার আরেকটি ঘটনা ঘটিয়ে সেটাকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে। সেটা যেন এবার না হয়। এবার যদি ধর্ষকের দৃষ্টান্তমূলক বিচার না হয়, তাহলে যারা ধর্ষিতা তারা নিরাপদে থাকবে না। ধর্ষকরা মহা উৎসবে আরও ধর্ষণের লীলাখেলায় মেতে উঠবে।
জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রব বলেন, হায়েনাদের আঘাতে এক বোনের শরীর ক্ষত-বিক্ষত হয়েছে। তার শরীরে সিগারেটের ছ্যাঁকা দেওয়া হয়েছে। দেশে আরও অনাচার হচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে এখনই রুখে দাঁড়াতে হবে। তা না হলে হায়েনাদের আঘাতে পুরো দেশ সুবর্ণচর হয়ে যাবে। তিনি বলেন, ৭১ সালে পাকবাহিনী এদেশের মানুষের ওপর হায়েনার মতো ঝাঁপিয়ে পড়েছিল, ঠিক একই কায়দায় ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ঝাঁপিয়ে পড়ে কেড়ে নিয়েছে এদেশের মানুষের অধিকার। সেদিন আমরা তাদের রুখে দিতে পারিনি।
স্ত্রীর সামনে স্বামীকে নির্যাতন: সাতক্ষীরায় সদ্য বিয়ে করা স্ত্রীর সামনে স্বামীকে বেঁধে নির্যাতন করার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। এই ঘটনায় শনিবার রাতে নির্যাতনকারী শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আকবর হোসেন পাড় (৪২)কে আটক করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। নির্যাতনের স্বীকার যুবক আব্দুর রাজ্জাক (৩২) মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের মথুরাপুর গ্রামের শিক্ষক দলিল সানার ছেলে। মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কাশেম মোড়ল জানান, শ্যামনগর সদরের একটি মেয়ের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল আব্দুর রাজ্জাকের। এক সময় পার্শ্ববর্তী ভুরুলিয়া ইউনিয়নের তার প্রেমিকাকে বিয়ে দেয় পরিবার। তিনি জানান, কিন্তু ওই মেয়ের সঙ্গে আব্দুর রাজ্জাকের সম্পর্ক চলতে থাকে। রাজ্জাকও বিয়ে করেনি। বর্তমানে তার প্রেমিকা চার সন্তানের জননী।
চেয়ারম্যান আবুল কাশেম জানান, কিছুদিন আগে ওই নারী তার স্বামীকে তালাক দিয়ে সন্তানদের ফেলে আব্দুর রাজ্জাককে বিয়ে করেন। তিনি জানান, এ ঘটনায় গত ১২ জানুয়ারি দুপুরে ইউনিয়ন পরিষদে সালিশী বৈঠক ডাকা হয়। তখন তিনি উপস্থিত ছিলেন না। তবে তার ইউপি সদস্য আকবর হোসেন সদ্য বিয়ে করা আব্দুর রাজ্জাককে মারপিট করেন।
নির্যাতনের শিকার আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আমাদের মধ্যে ২৫ বছরের প্রেম। ২২ দিন আগে কোর্ট থেকে রেজিস্ট্রি বিয়ে করে বসবাস করছি। তিনি বলেন, ১২ জানুয়ারি দুপুরের দিকে ইউপি সদস্য আকবর আলী আমাকে ও স্ত্রীকে জোর পূর্বক তুলে নিয়ে মারপিট করেছে। আমাকে মারপিট করে তালাক দিতে বলেছে, কিন্তু আমি দিবো না। আর স্ত্রীও আমাকে ছেড়ে যাবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে।
এ বিষয়ে জেলা ডিবি পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আলী আহম্মেদ হাসেমী বলেন, সালিশী বৈঠকের নামে যুবককে নির্যাতনের ঘটনায় ইউপি সদস্য আকবর আলী পাড়কে আটক করা হয়েছে।
কাউন্সিলরকে কুপিয়ে হত্যা: নাটোরের লালপুরের গোপালপুর পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর জামিরুল ইসলামকে (৩৭) কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। ঘটনার পর এলাকায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। রোববার দুপুরে এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, দুপুরে কাউন্সিলর জামিরুল মোটরসাইকেল যোগে যাওয়ার সময় বিরোপাড়া এলাকায় তার বাড়ির অদূরে গতিরোধ করে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে দুর্বৃত্তরা। পরে আহত অবস্থায় লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। জামিরুল বিরোপাড়া গ্রামের আলহাজ্ব কামরুজ্জামানের ছেলে ও নাটোর নর্থ বেঙ্গল চিনিকলের সম্প্রতি যোগদান করা কর্মচারী।  এ ঘটনার একটু আগে নাটোরের লালপুর উপজেলা পরিষদের সামনে জামিরুলের প্রতিপক্ষ যুবলীগ নেতা জাহারুল ইসলামের হত্যার বিচারের দাবিতে মানববন্ধন হয়। এরপরেই জামিরুলের ওপর হামলা করে সন্ত্রাসীরা। জাহারুল হত্যার জেরে এই হত্যাকান্ড কি না খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
হত্যার পরও মুক্তিপণ দাবি: নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন পর রোববার সকালে জুবায়ের নামে সাত বছরের ওই শিশুটির বিকৃত লাশ উদ্ধার করা হয়। শিশু হত্যার অভিযোগে রোববার দুজন গ্রেপ্তার হয়েছে, যারা শিশুটিকে খুন করার পরও তার স্বজনদের কাছে মুক্তিপণ চেয়ে আসছিলেন বলে র‌্যাব জানিয়েছে। জুবায়ের মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া থানা এলাকার জালশুকা গ্রামের এক ফেরিওয়ালার ছেলে। গ্রেফতার দুই যুবক হলেন ওই এলাকার পাহালি মল্লিকের ছেলে মইদুর রহমান (২১) এবং মৃত কুরবান আলীর ছেলে উজ্জ্বল হোসেন (২৪)।
স্থানীয় একটি স্কুলের প্রথম শ্রেণির ছাত্র জুবায়ের গত ১৭ জানুয়ারি বাসার সামনে থেকে নিখোঁজ হয়। এরপর থানা পুলিশে পাশাপাশি র‌্যাব-৪কেও জানায় শিশুটির পরিবার। র‌্যাব-৪ এর কর্মকর্তা মেজর আব্দুল হালিম সাংবাদিকদের বলেন, শিশুটিকে অপহরণের পর তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ চাওয়া হচ্ছিল। মুক্তিপণ চাওয়ার সূত্র ধরে তদন্ত চালিয়ে গত শনিবার রাতে মইদুরকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাাব। তাকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যে রোববার সকালে গাজীপুরের কালিয়াকৈর থেকে গ্রেপ্তার করা হয় উজ্জ্বলকে।
পাবনায় যুবক হত্যা: পাবনার আটঘরিয়া উপজেলা ও আতাইকুলা থানার শ্রীপুর বাজারে হাফিজ মিয়া (৪২) নামের এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। নিহত হাফিজ আতাইকুলা থানার লক্ষিপুর ইউনিয়নের রঘুরামপুর গ্রামের আবু তাহের মিয়ার ছেলে। শনিবার রাত ৯টার দিকে এই ঘটনাটি ঘটে। আতাইকুলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান মিয়া ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, শ্রীপুরের চতরা বিলের আধিপত্য নিয়ে স্থানীয় সাব্বির নামের এক যুবকের সাথে হাফিজের বিরোধ চলছিল। শনিবার বিকেলে এনিয়ে হাফিজের সাথে সাব্বিরের কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে হাফিজ সাব্বিরকে চড় থাপ্পড় মারে। এরই জের ধরে রাতে সাব্বির ও তার লোকজন শ্রীপুর বাজারে হাফিজকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করে। স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
হত্যার পর লাশে আগুন: নারায়ণগঞ্জে দিনদুপুরে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যার পর লাশ আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে দুবৃত্তরা। গৃহবধূর নাম নাহিদা রহমান (৩৫)। শনিবার দুপুর দেড়টায় বন্দরের সোনাকান্দা সরদার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এ ব্যাপারে বন্দর থানার ওসি রফিকুল ইসলাম জানান, বন্দরের সোনাকান্দা সরদার বাড়ির সিঙ্গাপুর প্রবাসী আনিসুর রহমানে স্ত্রী নাহিদা রহমানকে কুপিয়ে হত্যা করে লাশে আগুন দিয়ে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। প্রতিবেশীরা ঘরের রুমে আগুন জ্বলতে দেখে এগিয়ে এসে দেখেন আগুনে পুড়ছেন নাহিদা। এরপর তারা আগুন নিভিয়ে পুলিশকে খবর দেন।
দিনাজপুরে গণধর্ষণ: দিনাজপুরের বিরামপুরে এক তরুণীকে (২২) গণধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এই মামলায় ফিরোজ হোসেন নামের একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. তৌহিদুর রহমান বলেন, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ওই তরুণীকে আর্থিক সহযোগিতা করা হয়। এ ছাড়াও আইনিসহ সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। মহিলা পরিষদ দিনাজপুর শাখার সভাপতি কানিজ রহমান জানান, মহিলা পরিষদের একটি দল ভুক্তভোগী ওই তরুণীর সার্বিক খোঁজ খবর নিচ্ছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে উপযুক্ত শাস্তির দাবিতে রোববার দিনাজপুর পুলিশ সুপারকে স্মারকলিপি দিয়েছে। ভুক্তভোগী তরুণী বাদী হয়ে পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। বাকি চার আসামীকে গ্রেপ্তারের অভিযান চলছে। বিরামপুর থানায় শনিবার বেলা ১১টার দিকে ভুক্তভোগী ওই তরুণী বলেন, জ্ঞান ফেরার পর দেখি আমার হাত বাঁধা। পরে আমি কোনো রকমে বাঁধন খুলে নানা বাড়িতে যাই। তিনি জানান, বিকেলে নিজ বাড়ি থেকে হেঁটে নানির বাড়িতে যাচ্ছিলেন। পথে সন্ধ্যার দিকে অভিযুক্ত পাঁচজন তাকে তুলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। ভুক্তভোগী তরুণী আরও জানান, তিনি ঢাকায় একটি পোশাক কারখানায় শ্রমিকের কাজ করেন।
চলন্ত বাসে গণধর্ষণ চেষ্টা: রাজধানীতে আসমানী পরিবহনের একটি চলন্ত বাসে এক তরুণীকে শ্লীলতাহানি ও গণধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে। এ সময় আত্মরক্ষার জন্য ওই তরুণী বাসের জানালা দিয়ে লাফিয়ে পড়ে গুরুতর আহত হয়েছেন। জানা গেছে, পরে আহত ওই তরুণীকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে উত্তরা আধুনিক মেডিকেল কলেজে ভর্তি করেন এবং তার আত্মীয়স্বজনকে খবর দেন। চিকিৎসকের পরামর্শে মুমূর্ষু অবস্থায় তরুণীকে পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। উত্তরা পশ্চিম থানার ঢাকা-আশুলিয়া মহাসড়কের স্লুইসগেট পাইকারি কাঁচাবাজারসংলগ্ন পাকা রাস্তায় ২৮ ডিসেম্বর ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় ৩ জানুয়ারি উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন তরুণীর চাচা। মামলার আসামি বাসটির চালক রাসেল ভুইয়াকে (২০) গ্রেফতার করে রিমান্ডে নিয়েছে উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ। এজাহারে তরুণীর চাচা উল্লেখ করেছেন, তরুণী খালার বাসা থেকে সন্ধ্যা ৬টার দিকে আবদুল্লাহপুরের উদ্দেশে আসমানী পরিবহনের (ঢাকা মেট্রো-ব-১১-৮৩২৮) বাসে ওঠেন। গাড়ির মধ্যে হালকা ঘুমের ভাব আসায় তরুণী বুঝতে পারেননি বাসটি কোথায় যাচ্ছে। সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে কারও হাতের স্পর্শে তার চেতনা ফিরলে দেখতে পান বাসের মধ্যে তিনি ছাড়া আর কোনো যাত্রী নেই। এ সময় গাড়ির চালক, হেলপার, কন্ডাক্টরসহ অজ্ঞাত আরও দু-তিন জন তাকে ঘিরে ধরে এবং তার কাছে থাকা একটি মোবাইল ফোন ও গলায় থাকা একটি সোনার চেইন নিয়ে নেয়। এরপর তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়। এ অবস্থায় তরুণী বাসের জানালা দিয়ে লাফ দেন। তখন পাকা রাস্তায় পড়ে গিয়ে তার মাথায় জখম এবং হাত-পাসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গা থেঁতলে যায়।
ডেমরায় দুই শিশু হত্যা : ডেমরার কোনাপাড়ায় শিশু ফারিয়া আক্তার দোলা ও নুসরাত জাহানকে লিপস্টিক দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বাসায় ডেকে নিয়েছিল প্রতিবেশী গোলাম মোস্তফা। ওই বাসাতে আগেই অবস্থান করে তার মামাতো ভাই আজিজুল বাওয়ানী। শিশু দুটিকে লিপস্টিক দিয়ে সাজিয়ে দেয় তারা। এর পর চেষ্টা চালায় পাশবিকতার। এতে চিৎকার শুরু করে শিশু দুটি। সেই শব্দ যাতে বাইরে না যায় সে জন্য বাসায় থাকা সাউন্ডবক্সে গান ছেড়ে দেয় উচ্চ শব্দে। এর পরও থামে না শিশু দুটির চিৎকার। ধরা পড়ার ভয়ে শেষ পর্যন্ত শিশু দুটিকে দুনিয়া থেকেই সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় দুই ঘাতক। অল্প সময়ের মধ্যেই দোলা আর নুসরাতকে গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে তারা। মাত্র ২০ থেকে ২৫ মিনিটের মধ্যেই ঘটে এ হত্যাকাণ্ড। ওই ঘটনায় জড়িত মোস্তফা ও আজিজুলকে গ্রেফতারের পর শিশু দুটিকে হত্যার লোমহর্ষক বিবরণ পাওয়া যায়। গত বুধবার ওই দুই ঘাতক স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছে আদালতে।
নিষ্পাপ দুই শিশুর লাশ উদ্ধারের পর ঘাতকদের গ্রেফতার দাবিতে ডেমরার কোনাপাড়া এলাকার মানুষ ফুঁসে ওঠেন। তারা জড়িতদের গ্রেফতার করে ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেন। এর মধ্যেই বুধবার সকালে পুলিশ সংবাদ সম্মেলন করে দুই শিশু হত্যায় জড়িত দুই ঘাতককে গ্রেফতারের তথ্য দেয়। পুলিশ বলছে, শিশু দুটিকে ঘরে এনে মোস্তফা তার স্ত্রীর লিপস্টিক দিয়ে সাজিয়ে দেয়। এর পর সে ও আজিজুল মিলে ইয়াবা সেবন করে। এক পর্যায়ে শিশু দুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা চালায় তারা। তখন দুই শিশু চিৎকার করলে বাসায় থাকা সাউন্ডবক্সে গান ছেড়ে দেওয়া হয়। এতেও চিৎকারের শব্দ শোনা গেলে গানের শব্দ আরও বাড়িয়ে দেয় তারা। কিন্তু ওদের কান্না না থামায় নিজেরা ধরে পড়ে যাবে এবং শিশু দুটিকে ছেড়ে দিলে অপকর্ম ফাঁস করে দেবে- এমন শঙ্কায় শেষ পর্যন্ত শিশু দুটিকে শ্বাসরোধে হত্যা করে।
নিখোঁজ ৪ ছাত্রের সন্ধান দাবি: রাজধানীতে পুলিশ কর্তৃক আটকের পর নিখোঁজ ৪ ছাত্রের সন্ধান দাবি করে সাংবাদিক সম্মেলন করেছে পরিবারের সদস্যরা। আটকের পর এখনও আদালতে হাজির বা মুক্তি না দেয়ায় তারা দেশের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় তাদের জীবন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন। আটককৃত ছাত্ররা হলেন, এশিয়ান ইউনির্ভাসিটির বাংলা বিভাগের ৩য় বর্ষের ছাত্র আবু খালেদ মোহাম্মদ জাবেদ (২৫), স্টাম্পফোর্ড ইউনিভার্সিটির ইংরেজি বিভাগের ছাত্র বোরহান উদ্দিন (২৬), মানারাত ইউনিভার্সিটির ফার্মেসির শেষ বর্ষের ছাত্র রেজাউল খালেক (২৪) ও ঢাকা ইউনানি আয়ুর্বেদিক মেডিকেল কলেজের সাবেক ছাত্র ডাঃ সৈয়দ মমিনুল হাসান(২৭)। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, গত ২৯ ডিসেম্বর শনিবার শাহবাগের আজীজ সুপার মার্কেটে শপিং শেষে বাড়ি ফেরার পথে ফার্মগেট এ বাস থামিয়ে আমাদের সন্তান আবু খালেদ মোহাম্মদ জাবেদ, বোরহান উদ্দিন, রেজাউল খালেক ও ডাঃ সৈয়দ মমিনুল হাসানকে গ্রেপ্তার করে সাদা পোষাকধারী পুলিশ। কিন্তু সবাই গ্রেপ্তারের বিষয় অস্বীকার করছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ