শুক্রবার ১৪ আগস্ট ২০২০
Online Edition

লরি ইভান্সের সেঞ্চুরিতে রাজশাহীর চতুর্থ জয়

 

 

স্পোর্টস রিপোর্টার : বিপিএলে চতুর্থ জয় পেয়েছে রাজশাহী কিংস। গতকাল মিরপুরে রাজশাহী কিংস ৩৮ রানে হারিয়েছে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সকে। এদিন প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৩ উইকেটে ১৭৬ রান করে রাজশাহী। জবাবে ১৮.২ ওভারে ১৩৮ রান করতেই গুটিয়ে যায় কুমিল্লা। লরি ইভান্স করেছেন বিপিএলে প্রথম সেঞ্চুরি। ৬২ বলে ১০৪ রানে অপরাজিত ছিলেন তিনি। তার ইনিংসে ছিলো ৯টি চার ও ৬টি ছয়। এই জয়ের ফলে কুমিল্লার সমান সাত ম্যাচে ৪ জয় নিয়ে নেট রানরেটের পিছিয়ে থাকার কারণে টেবিলের চার নম্বরে অবস্থান করছে মেহেদি মিরাজের রাজশাহী কিংস। ফলে ঢাকায় ফিরে জয়ের ধারাতেই রইলো রাজশাহী কিংস। তাদের বড় সংগ্রহে চাপা পড়ে ৩৮ রানে হেরেছে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স।

রাজশাহীর ছুঁড়ে দেয়া ১৭৭ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে শেষ পর্যন্ত ১০ বল বাকি থাকতেই ১৩৮ রানে অলআউট হয়ে যায় ইমরুল কায়েসের দল। রাজশাহীর নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে জ্বলে উঠতে পারেনি কুমিল্লা। ব্যাটসম্যানদের লম্বা ইনিংস না খেলার ব্যর্থতায় কুমিল্লা ভুগেছে শেষ দিকে। বিশেষ করে শেষ দিকে মোস্তাফিজুর রহমানের ওভারে চাহিদা মিটিয়ে রান তুলতে পারেনি কুমিল্লার ব্যাটসম্যানরা। ১১০ রানে ৬ উইকেট পড়ে যাওয়ার পর শহীদ আফ্রিদি দৃষ্টি নন্দন শট খেলে ম্যাচ বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করেছিলেন। এরপর মোস্তাফিজ নিজের ওভারে আফ্রিদিকে রুখে দিলে ১৮তম ওভারে রাব্বির বলে মেরে  খেলতে গিয়ে সর্বনাশ হয় কুমিল্লার। একে একে ফিরে যান আফ্রিদি ১৯ রান, লিয়াম ডসন ১৭ রান ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। ১৮.২তম ওভারে মোস্তাফিজ  মেহেদী হাসানকে বিদায় দিলে ১৩৮ রানে অলআউট হয় ইমরুল কায়েসের দল। ৩  ওভারে ১০ রানে ৪ উইকেট নিয়ে সেরা বোলার কামরুল ইসলাম রাব্বি। দুটি করে উইকেট নেন রায়ান টেন  ডসকাট ও কায়েস আহমেদ। কায়েস দুটি উইকেট নিলেও ছিলেন সবচেয়ে ব্যয়বহুল। ৪ ওভারে দেন ৪৬ রান। এরআগে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের বিপক্ষে ৩ উইকেটে ১৭৬ রানের বড় সংগ্রহ দাঁড় করায় রাজশাহী কিংস।  তারা লরি ইভান্স আর ডেসকাটের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে। শুরুতে ২৮ রানে তিন উইকেট তুলে নিয়ে প্রথম ১০ ওভারে তাদের  বেঁধে রাখার চেষ্টায় সফল ছিলো কুমিল্লা। ওপেনার শাহরিয়ার নাফীস, মেহেদী মিরাজ ও মার্শাল আইয়্যুবরা বিদায় নিলে শ্লথ ছিলো রানের গতি। তবে অপর প্রান্ত আগলে ছিলেন লরি ইভান্স। রায়ান টেন ডেসকাটকে সঙ্গে নিয়ে ধীরে ধীরে হাত খুলে মেরেছেন। ৮৩ বলে ১৪৮ রানের জুটিতে ১৭৬ রান তুলে তারা স্কোর  বোর্ডে। এই ঝড় তুলে এবারের মৌসুমের প্রথম সেঞ্চুরিও তুলে নিয়েছেন ইভান্স। ৬২ বলে ১০৪ রানে অপরাজিত ছিলেন তিনি। তার ইনিংসে ছিলো ৯টি চার ও ৬টি ছয়। অপর দিকে সঙ্গী ডেসকাটও ছিলেন আগ্রাসী। ৪১ বলে ৫৯ রানের ইনিংস খেলেন ডেসকাট। তার ইনিংসে ছিলে ২টি চার ও ৩ ছয়। কুমিল্লার পক্ষে দুটি উইকেট নেন লিয়াম ডসন। ঝড়ো গতির সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে ম্যাচসেরা ইভান্স। কুমিল্লার ১০ ব্যাটসম্যানই হয়েছেন ক্যাচ আউট। এক ম্যাচে ১০ ব্যাটসম্যানেরই ক্যাচ আউট হওয়ার রেকর্ড খুব একটা নেই। সেই কীর্তি গড়েই শক্তিশালী কুমিল্লাকে ৩৮ রানের ব্যবধানে হারিয়ে ম্যাচের ফল নিজেদের পক্ষে এনেছে মেহেদি হাসান মিরাজের রাজশাহী কিংস। শুরুতে তামিম ইকবালকে আউট করতে মোস্তাফিজ-রাব্বির যে যুগলবন্দী তা আরও একবার দেখা গিয়েছে শহিদ আফ্রিদিকে আউট করার ক্ষেত্রেও। ইনিংসের ১৫ ও ১৭তম ওভারে মোস্তাফিজের রহমানের বিপক্ষে ৭টি ডট খেলেন আফ্রিদি। ফলে অনেকটা মরিয়া হয়েই ১৮তম ওভার করতে আসা কামরুল ইসলাম রাব্বিকে বিশাল ছক্কা হাঁকানোর চেষ্টা করেন আফ্রিদি। ব্যাটে-বলে ঠিকঠাক হয়েও ছিলো আফ্রিদির। কিন্তু ডিপ মিড উইকেটে অসাধারণ সচেতনতার পরিচয় দিয়ে দুর্দান্ত এক ক্যাচ ধরেন ক্রিশ্চিয়ান জঙ্কার। আউট হয়ে যান আফ্রিদি। তখনই মূলত নিশ্চিত হয়ে যায় রাজশাহীর জয়। পুরো ইনিংসজুড়ে জঙ্কারের মতোই অসাধারণ সব ক্যাচ ধরেন রাজশাহীর অন্যান্য ফিল্ডাররাই। একাই তিন ক্যাচ ধরে ফিল্ডারদের মধ্যে  সেরা ছিলেন জঙ্কারই।

কুমিল্লার ব্যাটিংয়ের পুরো ইনিংসে একটি ক্যাচও  ফেলেনি রাজশাহীর ফিল্ডাররা। ম্যাচ শেষে দলের ফিল্ডারদের এমন পারফরম্যান্সের প্রশংসা করেন অধিনায়ক মিরাজ। প্রাপ্য কৃতিত্ব দেন ব্যাট হাতে ঝড় তোলা দুই ব্যাটসম্যান রায়ান টেন ডেসকাট এবং এবারের আসরে প্রথম  সেঞ্চুরি করা লরি ইভান্সকে। 

পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে মিরাজ বলেন, ‘আমাদের বোলাররা দুর্দান্ত বোলিং করেছে। (লরি) ইভানস এবং (রায়ান) টেন  ডেসকাটকে কৃতিত্ব না দিলেই নয়। মাঝের ওভারে দারুণ এক জুটি গড়েছে তারা। যা আমাদের জন্য অনেক ভালো হয়েছে। আমরা শুরুতেই উইকেট হারিয়ে ফেলেছিলাম, তবে তাদের জুটি আমাদেরকে ম্যাচে টিকিয়ে রেখেছিল।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের বোলিং ডিপার্টমেন্ট শুরু থেকেই শক্তিশালী। আমরা দারুণভাবে ঘুরে দাড়িয়েছি এবং ফিল্ডিংয়ের সময় সবগুলো ক্যাচও ঠিকঠাক ধরতে পেরেছি। সত্যিই খুব খুশি আমি।’

সংক্ষিপ্ত  স্কোর:রাজশাহী কিংস: ২০ ওভারে ১৭৬/৩ (শাহরিয়ার ৫, ইভান্স ১০৪*, মিরাজ ০, মার্শাল ২,  ডেসকাট ৫৯*; সাইফ ৪-০-৩১-০, মেহেদি ১-০-৪-১, ডসন ৪-০-২০-২, ওয়াহাব ৪-০-৪৪-০, আফ্রিদি ৪-০-৩২-০, থিসারা ৩-০-৪৩-০)।

কুমিল্ল ভিক্টোরিয়ান্স: ১৮.২ ওভারে ১৩৮ (তামিম ২৫, এনামুল ২৩, শামসুর ১৫, জিয়াউর ১২, ইমরুল ১৫, ডসন ১৭, থিসারা ০, আফ্রিদি ১৯, সাইফ ০, ওয়াহাব ১*, মেহেদি ১; কামরুল ৩-০-১০-৪, মিরাজ ৩-০-২৭-০, কাইস ৪-০-৪৬-২,  মোস্তাফিজ ৩.২-০-৮-১, সানি ৩-০-২৮-১, ডেসকাট ২-০-১৫-২)।

ফল: রাজশাহী কিংস ৩৮ রানে জয়ী

ম্যান অব দা ম্যাচ : লরি ইভান্স

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ