বৃহস্পতিবার ১৩ আগস্ট ২০২০
Online Edition

তুর্কি-মার্কিন আবারও উত্তেজনা

সৈয়দ মাসুদ মোস্তফা : মার্কিন প্রেসিডেন্টের একটি টুইট বার্তাকে কেন্দ্র করে বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে মার্কিন যুুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্ক এখন রীতিমত মুখোমুখি। গত ১৩ জানুয়ারি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক টুইট বার্তায় বলেছন, ‘সিরিয়ায় কুর্দি যোদ্ধাদের ওপর হামলা চালালে তুরস্কের অর্থনীতিতে ধস নামবে’। বিষয়টি তুরস্কের প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হুমকী হিসেবেই দেখা হচ্ছে। ফলে উভয় দেশের মধ্যে নতুন  করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। তা কোন পক্ষের জন্যই কল্যাণকর হবে বলে মনে করছেন না কূটনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তুর্র্কি-মার্কিন সম্পর্কের বেশ অবনতিই হয়েছে বলতে হবে। বিশেষ করে ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর পরিস্থিতির ক্রম অবনতি শুরু হয়। মূলত দুই ন্যাটো মিত্রের মধ্যে সন্দেহ-সংশয়টা দানা বেঁধে উঠেছিল ২০১৬ সালে তুর্র্কি প্রেসিডেন্ট এরদোগানের বিরুদ্ধে ব্যর্থ সেনা অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে। আঙ্কারা এই ঘটনার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাসিত ধর্মীয় নেতা ফেতুল্লাহ গুলেনকে সন্দেহ করে থাকে। তুর্র্কি কর্তৃপক্ষ গুলেনকে বিচারের মুখোমুখি করার জন্য তাকে ফেরৎ পাঠানোর জন্য মার্কিন প্রশাসনকে অনুরোধ জানিয়ে এসেছে বরাবরই। কিন্তু ওয়াশিংটন আঙ্কারার সে অনুরোধ রক্ষা করেনি। ফলে উভয় দেশের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপড়েনটা শুরু হয় তখন থেকেই। ক্রমেই তা মনস্তাত্ত্বিক লড়াইয়ে রূপ নেয়। সর্বসাম্প্রতিক উত্তেজনা অতীত তিক্ততার ধারাবাহিকতা মাত্র।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে তুরস্কের সম্পর্কের অবনতির আরও একাধিক কারণ রয়েছে বলে মনে করেন কূটনৈতিক মহল। গত বছরও উভয় দেশের মধ্যে টানটান উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছিল তার কেন্দ্রে ছিল একটি চার্চ। সেই চার্চে কর্মরত আমেরিকান যাজক অ্যান্ড্রু ব্রনসনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে সহযোগিতা করার অভিযোগ আনে আঙ্কারা। প্রাপ্ত তথ্যমতে, ২০১০ সাল থেকে এখানে তৈরি করা ছোট্ট ধর্মসভা পরিচালনা করতেন ব্রনসন। উত্তর ক্যারোলিনা থেকে আসা ব্রনসন স্ত্রী নোরিনকে নিয়ে তুরস্কে আসেন ১৯৯৩ সালে। ২০১৬ সালের ৭ অক্টোবর স্থানীয় থানায় এই দম্পতিকে ডেকে পাঠানো হয়। তারা স্বেচ্ছায় সেখানে যান। কিন্তু তাদের আর ফেরার সুযোগ দেয়া হয়নি বরং সরকারি হেফাজতে নেয়া হয়। মূলত যুক্তরাষ্ট্রের সাথে তুরস্কের সম্পর্কের অবনতি শুরু হয় তখন থেকেই। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম থেকে পাওয়া তথ্যমতে, ২০১৬ সালে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগানের বিরুদ্ধে ব্যর্থ অভ্যুত্থান চেষ্টার পর যে ৫০ হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়। ব্রনসন দম্পতি গ্রেফতারের বিষয়টি সে ধারাবাহিকতাই অংশ মাত্র।
অবশ্য কয়েকদিন পর নোরিন ব্রনসনকে মুক্তি দেয়া হয়। তবে ডিসেম্বর মাসে যাজক ব্রনসনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করে তুরস্ক তাকে কারাগারে পাঠিয়ে দেয়। আঙ্কারার অভিযোগ,  ব্রনসনের সঙ্গে দু’টি গ্রুপের যোগাযোগ রয়েছে, যাদের সন্ত্রাসী বলে মনে করে তুরস্ক। সে অভিযোগেই এই মার্কিন যাজক গ্রেফতার ও  বিচার কার্যক্রম পরিচালিত হয়। অপরাধ প্রমাণিত হলে তার ৩৫ বছর পর্যন্ত কারাদন্ড হওয়ার কথা থাকলেও গত বছরের ১২ অক্টোবর তুরস্কের একটি আদালতের এক রায়ে ব্রনসনকে মাত্র ৩ বছর ১ মাসের কারাদন্ড দেয় এবং একই সাথে তাকে মুক্তিরও নির্দেশ দেয় আদালত। আদালতের নির্দেশ মোতাবেক তিনি মুক্তিও পেয়েছেন। তার বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ হলো তিনি কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টিকে (পিকেকে) সাহায্য করছেন। এই দলের নেতা ফেতুল্লাহ গুলেন-ব্যর্থ ওই অভ্যুত্থান চেষ্টার জন্য যাকে দায়ী করছে তুরস্ক।
এর আগে ব্রনসন ইস্যুতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওর কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর মার্কিন প্রশাসন বিষয়টি নিয়ে নড়েচড়ে বসে। আর তারই ধারাবাহিকতায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তুরস্ক থেকে আমদানি করা স্টিল ও অ্যালুমিনিয়ামের ওপর শুল্ক দ্বিগুণ করা হবে  বলে ঘোষণা দেন। ডোনাল্ড ট্রাম্প এক টুইট বার্তায় বলেন, ‘তুরস্কের সঙ্গে এই মুহূর্তে আমাদের সম্পর্ক ততটা ভালো নেই।’ সে সময় মার্কিন নেতারা একটি প্রতিরক্ষা বিলে স্বাক্ষর করেন, যার ফলে একশোটি এফ-৩৫ ফাইটার জেট বিমান এই ন্যাটো সহযোগী দেশটির কাছে হস্তান্তর বিলম্বিত হওয়ার কথা বলা হয়। ফলে উভয় দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কে একেবারে তলানীতে এসে পৌঁছে। যা এখন পর্যন্ত অব্যাহত আছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এমন সিদ্ধান্তে আঙ্কারাও নির্লিপ্ত থাকেনি বরং পাল্টা জবাব হিসেবে দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের ইলেকট্রনিক পণ্য বর্জনের ঘোষণা দেয়। যা দেশ দু’টির সম্পর্ককে আরও অবনতিশীল করে তোলে। প্রেসিডেন্ট এরদোগান এক ঘোষণায় বলেন ‘আমি আমার জাতিকে আহবান জানাচ্ছি, বিশেষ করে আমাদের ব্যবসায়ী সম্প্রদায়কে; এখন আমাদের সবচেয়ে ভালো জবাব হবে চালকের আসনে শক্তভাবে বসা। আমরা আরো বেশি উৎপাদন করব, আরো বেশি রপ্তানি করব,’।
মূলত পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে এবার বেশ কয়েকটি মার্কিন পণ্যে দ্বিগুণ শুল্কারোপ করে তুরস্ক। এর মধ্যে ছিল যাত্রীবাহী গাড়ি, অ্যালকোহল ও তামাক। সে সময় তুরস্ক থেকে আমদানি করা অ্যালুমিনিয়াম ও স্টিলের ওপর দ্বিগুণ শুল্কারোপের ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর জবাবে পাল্টা শুল্কারোপ করে গেজেট প্রকাশ করে তুরস্ক। তুরস্কের প্রেসিডেন্টের সই করা ওই গেজেটে বলা হয়, মার্কিন যাত্রীবাহী গাড়িতে ১২০ শতাংশ, অ্যালকোহলে ১৪০ ও তামাক পাতায় ৬০ শতাংশ শুল্কারোপ করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রসাধনী, চাল ও কয়লার মতো পণ্যে দ্বিগুণ শুল্ক বসিয়েছে তুরস্ক।
সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে যুদ্ধরত কুর্দি যোদ্ধাদের অস্ত্র দেয়ার অভিযোগ রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে। ফলে আঙ্কারা দেশটির ওপর অনেক আগে থেকেই ক্ষুব্ধ। তা ছাড়া নির্বাসিত ধর্মীয় নেতা ফেতুল্লাহ গুলেনকেও তারা বিচারের জন্য তুরস্কের হাতে তুলে দেয়নি। এ ছাড়া আঙ্কারা যে রাশিয়ার কাছ থেকে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ব্যবস্থা কেনার পরিকল্পনা করছে - সেটাও চলমান সঙ্কটের একটা বড় কারণ। আঙ্কারার অভিযোগ, ফেতুল্লাহ গুলেন পেনসিলভানিয়ায় তার বাড়িতে বসে প্রেসিডেন্ট এরদোগানের বিরুদ্ধে এক ব্যর্থ অভ্যুত্থানের কলকাঠি নেড়েছিলেন। তুর্র্কি প্রেসিডেন্টের ভাষায়, সন্ত্রাসের অভিযোগে তুরস্কে বিচারাধীন মার্কিন ধর্মযাজক এ্যান্ড্রু ব্রানসনের ব্যাপারে বিচারের প্রক্রিয়া শেষ হবার অপেক্ষা না করেই ওয়াশিংটন পাল্টা ব্যবস্থা নিয়ে উত্তেজনা বৃদ্ধি করেছে। মি. ব্রানসনের বিরুদ্ধে তুরস্কের অভিযোগ তার সাথে কুর্দি ওয়ার্কার্স পার্টি এবং ফেতুল্লাহ গুলেনের সম্পর্ক আছে। আমেরিকার শক্তিশালী ইভানজেলিকাল খ্রিষ্টান লবি এ নিয়ে হৈচৈ শুরু করার পর এর জবাবে তুর্কী স্বরাষ্ট্র এবং বিচারমন্ত্রীর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ওয়াশিংটন। তুরস্কের মন্ত্রীদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার কিছুদিন পরেই ট্রাম্প এই শুল্ক বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছিলেন।
এ ছাড়াও দেশ দু’টির সম্পর্কের অবনতি হওয়ার ক্ষেত্রে আরও কিছু দৃশ্যমান কারণও রয়েছে। তুরস্ক তাদের প্রায় অর্ধেক তেল আমদানি করে ইরান থেকে। সে কারণে ইরানের ওপর পুনঃআরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা তুরস্কের অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে বলে মনে করা হয়। তুরস্কের মাটিতে আছে ন্যাটো জোটের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইনজারলিক সামরিক বিমান ঘাঁটি। ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে আক্রমণের জন্য নেটো এ ঘাঁটিটি ব্যাপকভাবে ব্যবহার করেছে। এ ঘাঁটিটি বন্ধ করে দেবার জন্য তুরস্কে অভ্যন্তরীণ চাপও আছে।
 সে সময়ের চলমান সংকটের সাথে রাশিয়া সম্পৃক্ত হওয়ায় সংকট নতুন মাত্রা পেয়েছিল বলেই মনে করা হয়। বিষয়টির একটি কূটনৈতিক সমাধান সম্ভব হলেও কোন পক্ষকেই এ বিষয়ে ইতিবাচক মনে হয়নি। ফলে সমস্যা যে তিমিরে ছিল সে তিমিরেই রয়েছে গেছে। তুর্র্কি-মার্কিন সম্পর্কে দৃশ্যত কোন উন্নতি হয়নি। যদিও পাদ্রী এন্ড্রু ব্রনসনের কাকতালীয় মুক্তিতে কূটনৈতিক মহলে জোর আলোচনা রয়েছে যে এই বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তুর্কী প্রেসিডেন্ট এরদোগানের মধ্যে গোপন চুক্তি হয়েছে। কিন্তু এ বিষয়ে কোন পক্ষই বিষয়টি খোলাসা করেনি।
উভয় দেশের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক অচলাবস্থার মধ্যেই আবারও নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। ১৩ জানুয়ারির মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি টুইট বার্তাকে কেন্দ্র করেই এই উত্তেজনা। ১৪ জানুয়ারি বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, সিরিয়া থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণার পরপর কুর্দিবাহিনীর সুরক্ষার বিষয়টি আলোচনায় উঠে এসেছে। মার্কিন সেনাদের কারণে তাঁরা বেশ সুরক্ষিত ও নিরাপদই ছিল। তাই মার্কিন সেনারা সেখানে থেকে চলে গেলে তাদের ওপর তুরস্ক চড়াও হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এ অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তুরস্কের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে এ নিয়ে সমঝোতার একটি চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে তুরস্ক এতে সাড়া দিচ্ছে না। উল্টো তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান যুক্তরাষ্ট্রের এমন আহ্বানের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন।
বিষয়টিকে কেন্দ্র করে গত ১৩ জানুয়ারি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প টুইটারে বলেন, ‘কুর্দিদের আঘাত করলে তুরস্কের অর্থনীতিতে ধস নামিয়ে দেওয়া হবে। আবার কুর্দিরা তুরস্ককে উত্তেজিত করুক এটাও তিনি চান না’। তিনি বলেন, ‘আইএস নির্মূলে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপের কারণে তুরস্ক, রাশিয়া, ইরান ও সিরিয়া সবচেয়ে বেশি উপকৃত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রও উপকৃত হয়েছে। কিন্তু এখন সময় হয়েছে সেনাদের ঘরে ফিরিয়ে আনার। এই অন্তহীন যুদ্ধের শেষ হোক’। সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আইএসের বিরুদ্ধে মার্কিন বাহিনী কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়া ডেমোক্রেটিক ফোর্সের (এসডিএফ) সঙ্গে কাজ করছে। এসডিএফে মূল লড়াকু বাহিনী হচ্ছে পিপলস প্রোটেকশন ইউনিটস (ওয়াইপিজি) মিলিশিয়া। এই ওয়াইপিজিকে তুরস্ক সন্ত্রাসবাদী বলে থাকে।
সিরিয়ায় আইএস পরাজিত হয়েছে এমন যুক্তিতে গত বছরের ডিসেম্বরে সিরিয়া থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প। তাঁর এ ঘোষণার বিরোধিতা করে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের সদর দপ্তর পেন্টাগনের তিন শীর্ষ ব্যক্তি পদত্যাগ করেন। প্রতিরক্ষামন্ত্রী জিম ম্যাটিসের পদত্যাগের পর তাঁকে অনুসরণ করে পদত্যাগ করেন আইএসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যৌথ বাহিনীতে মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত ব্রেট ম্যাকগার্ক এবং প্রতিরক্ষা বিভাগের চিফ অব স্টাফ কেভিন সুয়েনি।
সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণায় কুর্দি যোদ্ধারাও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে তাঁরা তুরস্কের চাপের মুখে পড়বেন। এমন অবস্থায় এ বছরের শুরুতে ইসরায়েল ও তুরস্ক সফরে গিয়ে মার্কিন নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন জানান, সুনির্দিষ্ট কিছু পরিস্থিতির ওপর সিরিয়া থেকে সেনা প্রত্যাহার করা হবে। তাঁর বক্তব্যে থেকে আভাস পাওয়া যায়, সিরিয়া থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার হলেও তা ধীরে ধীরে হবে। মধ্যপ্রাচ্য সফরে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও ১২ জানুয়ারি আবুধাবিতে সাংবাদিকদের বলেন, কুর্দি যোদ্ধাদের রক্ষায় তুরস্কের সঙ্গে চুক্তির ব্যাপারে তিনি আশাবাদী। যদিও এ বিষয়ে তুর্কি প্রশাসন কোন উৎসাহ দেখাচ্ছে না।
সম্প্রতি তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান কুর্দি যোদ্ধাদের রক্ষার ব্যাপারে মার্কিন নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টনের আহ্বান প্রত্যাখ্যান করে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি বলেন, এটা ‘অগ্রহণযোগ্য’। দলের এমপিদের তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র জানে না, কুর্দি বাহিনীতে কারা কারা আছে। যুক্তরাষ্ট্র যদি তাদের ‘কুর্দিভাই’ বলে মনে করে, তবে তাদের ভয়াবহ মতিভ্রম হয়েছে বলা যায়।
আঙ্কারা দাবি করছে, ওয়াইপিজি নিষিদ্ধ কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টির (পিকেকে) সম্প্রসারিত সংগঠন। পিকেকে তুরস্কে কুর্দি স্বায়ত্তশাসন চেয়ে তিন দশক ধরে লড়াই করেছে। তবে ওয়াইপিজি পিকেকের সঙ্গে কোনো ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্ক থাকার কথা অস্বীকার করেছে।
সিরিয়ায় দুই হাজারের বেশি মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে বলে জানা গেছে। সৌদি রাজপরিবারের জ্যেষ্ঠ সদস্য প্রিন্স তুর্র্কি আল ফয়সাল বিবিসিকে বলেছেন, ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্তে ‘নেতিবাচক ফলাফল’ হতে পারে যার সুবিধা তুলবে ইরান, রাশিয়া ও সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ। অপরদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজের  সৈন্য প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করে বলেছেন, অবশিষ্ট আইএস যোদ্ধাদের ওপর ‘নিকটবর্তী ঘাঁটি’ থেকে আক্রমণ চালানো যাবে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তুর্কি-মার্কিন সম্পর্ক খুব একটা ভাল যাচ্ছে না। বিভিন্ন ইস্যুতেই দেশ দু’টি পরস্পরের মুখোমুখি। এর মধ্যেই কুর্দি যোদ্ধাদের কেন্দ্র করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের টুইট উভয় দেশের সম্পর্ককে আরও জটিল হতে জটিলতর করে তুলবে বলেই মনে করা হচ্ছে। যা কারো কাম্য হতে পারে না।
smmjoy@gmail.com

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ