বৃহস্পতিবার ০২ জুলাই ২০২০
Online Edition

৬৮ বছর পর কাস্টম হাউজের কার্যক্রম খুলনা থেকে মংলায় স্থানান্তরিত 

 

খুলনা অফিস : অবশেষে বন্দর ব্যবহারকারী আর ব্যবসায়ীদের দাবির মুখে ৬৮ বছর পর খুলনা থেকে স্থানান্তরিত হয়ে রোববার থেকে মংলা বন্দরে কাস্টম হাউজের অধিকাংশ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রফতানি ও আমদানি শুল্কায়নসহ যাবতীয় কার্যক্রম মংলা বন্দর থেকেই সম্পন্ন করতে পারবেন ব্যবসায়ী ও বন্দর ব্যবহারকারীরা। তবে কাস্টমস কমিশনারসহ যুগ্ম কমিশনাররা আগামী জুন থেকে মংলায় অফিস করবেন।

মংলা বন্দর ও কাস্টমস সূত্র জানায়, ১৯৫০ সালের ১ ডিসেম্বর চালনা পোর্ট নামে মংলা সমুদ্রবন্দরের কার্যক্রম শুরু হয়। এ বন্দরের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই আমদানি ও রফতানি বাণিজ্যসহ কাস্টমস শুল্কায়নের যাবতীয় কার্যক্রম ‘মংলা কাস্টম হাউজ’ নামে খুলনার খালিশপুরে পরিচালিত হয়ে আসছিল। তখন থেকে কাজের প্রয়োজনে বন্দর ব্যবহারকারীসহ ব্যবসায়ীদের শুল্কায়নসহ পণ্য খালাসের জন্যে দুই থেকে তিন দফায় খুলনা-মংলা যাতায়াত করতে হয়। বন্দরে কাজ শেষ করে কাস্টম ক্লিয়ারেন্সের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে খুলনায় যেতে হয়। পরে ওই কাগজ নিয়ে আবার বন্দরে ফিরে এসে জমা দিতে হয় সংশ্লিষ্ট দপ্তরে।

মংলা বন্দর কর্মচারী সংঘের সাধারণ সম্পাদক (বন্দরের সিবিএ) খোরশেদ আলম পল্টু বলেন, মংলা বন্দর থেকে প্রায় ৫৮ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এ কাস্টমস হাউজে গিয়ে শুল্কায়নের কার্যক্রম করতে অনেক ভোগান্তির শিকার হয়ে আসছিল বন্দর ব্যবহারকারী ও ব্যবসায়ীরা।

মংলা বন্দররের সিএন্ডএফ ব্যবসায়ী মেসার্স সুজুতি এন্টারপ্রাইজের মালিক মহিদুল ইসলাম ও মেসার্স রাহাদ ট্রের্ড লি. মো. এমাদুল হক (সিএন্ডএফ) মালিক বলেন, মংলা বন্দর থেকে প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হলেও যথাস্থানে কাস্টম হাউসের মূল অফিস না থাকায় ব্যবসায়ীদের পড়তে হয় ভয়াবহ ভোগান্তিতে। এ অবস্থায় আমদানি রফতানির গতি বৃদ্ধি এবং বন্দর ব্যবহারের যথার্থ সুবিধার স্বার্থে মংলা কাস্টম হাউস মংলায় রাখার দাবি করে আসছিলো তারা।

খুলনা সিএন্ডএফ (ক্লিয়ারিং এন্ড ফরোয়ার্ডিং) এসোসিয়েশনের সভাপতি সুলতান আহম্মেদ বলেন, শুল্কায়ন কার্যক্রমের সাথে বেশ কিছু কার্যক্রম জড়িত। ব্যাংকিং সেবা, ক্লিয়ারিং এন্ড ফরোয়ার্ডিং, শিপিং এজেন্সির কার্যক্রমসহ বেশ কিছু কার্যালয়ও শুল্ক কার্যালয়ের সাথে সাথে মংলায় স্থানান্তর করতে হবে।

মংলা কাস্টমস হাউজের খুলনার ডেপুটি কমিশনার মো. সেলিম রেজা জানান, মংলা কাস্টম হাউসের রফতানি শুল্কায়ন ও আমদানি শুল্কায়ন গ্রুপ-২ এবং ৪ এর শুল্কায়নসহ সকল কার্যক্রম রোববার থেকে চালু হয়েছে। কাস্টমসের মোট ৫টি গ্রুপের মধ্যে ৪টি মংলায় স্থানান্তরিত হলো। বাকী একটি আগামী জুন মাসে স্থানান্তরিত হওয়ার কথা রয়েছে।

মংলা বন্দর ব্যবহারকারী ও খুলনা চেম্বারের সদস্য এইচ এম দুলাল জানান, বর্তমানে গড়ে প্রতিমাসে এ বন্দরে ৭০-৮০টি বাণিজ্যিক জাহাজের আগমন ঘটছে। আগামীতে ব্যবসা বাণিজ্যের গতি বৃদ্ধি এবং পণ্যবাহি বাণিজ্যিক জাহাজের সংখ্যা আরও দ্বিগুণ হবে। নানা জটিলতা উপেক্ষা করে বন্দর প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ ৬৮ বছর পর পূর্ণাঙ্গভাবে স্থানান্তরিত হয়ে মংলায় এসেছে। আর এতে ব্যবসায়ীদের সময় সাশ্রয়ের পাশাপাশি দূর হবে বিড়ম্বনা।

মংলা কাস্টমস হাউসের কমিশনার সুরেশ চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, বন্দর ব্যবহারকারীদের দাবির মুখে ২০১৭ সালের ৫ আগস্ট মংলা বন্দর উপদেষ্টা কমিটির ১৪তম সভায় খুলনার খালিশপুর থেকে কাস্টমস হাউজের সকল কার্যক্রম মংলায় স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। কিছুটা বিলম্বে হলেও কাস্টমস হাউজের যাবতীয় কার্যক্রম স্থানান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।

মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান কমডোর এ কে এম ফারুক হাসান বলেন, আমদানি-রফতানির গতিশীলতা ধরে রাখতে হলে কাস্টমস ও বন্দরের কার্যক্রম এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনায় সমন্বয় থাকতে হয়। তাই যে কোন মূল্যেই মংলা বন্দরের সাথেই কাস্টমস কার্যালয় স্থানান্তরিত হতে হবে। তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে কাস্টমস কর্তৃপক্ষকে সার্বিক সহায়তা করে আসছে মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ। কাস্টমস হাউজ হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে ব্যবসায়ী ও বন্দর ব্যবহারকারীরা উপকৃত হবে। বন্দরের সার্বিক গতি বৃদ্ধিসহ কর্মচাঞ্চল্যতাও বাড়বে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ