শনিবার ১১ জুলাই ২০২০
Online Edition

সুদানে বিক্ষোভ  ৩৮ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

২০ জানুয়ারি, আল জাজিরা : মিথ্যা ও উস্কানিমূলক সংবাদ ছড়ানোর অভিযোগে সুদানে ৩৮ জন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে সুদানের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা প্রসিকিউশন। স্থানীয় সংবাদের বরাত দিয়ে কাতারভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম এই খবর জানিয়েছে।

খবরে বলা হয়েছে, দেশটির প্রসিকিউশন ক্রিমিনাল কোডের ৬৬, ৬৯, ৭৭ ধারায় এবং সাইবার অ্যাক্টের ১৭ ধারায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। এসব ধারায় উস্কানি, জননিরাপত্তা বিঘ্ন, মিথ্যা সংবাদ ছড়ানো, বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সুনাম নষ্ট করা এবং জনস্থিতিশীলতা ও শান্তি-শৃঙ্খলা নষ্ট করা সম্পর্কিত। গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা সাংবাদিক ও অধিকারকর্মীদের মধ্যে ২৮ জন দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগে বলা হয়েছে, তারা দেশটিতে চলামান বিক্ষোভ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য এবং উস্কানি ছড়িয়েছে।

সাংবাদিক এবং অধিকারকর্মীদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা এমন একটি সময় এলো যখন দেশটিতে দীর্ঘ এক মাস ধরে জীবনমানের খারাপ পরিস্থিতি হওয়ায় সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। এই বিক্ষোভ থেকে দেশটিতে দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে শাসন ক্ষমতায় থাকা প্রেসিডেন্ট ওমর আল বশিরের পদত্যাগের দাবি উঠেছে। দেশটির অর্থনৈতিক সংকটে বৈদেশিক রিজার্ভ কমে গেছে, মুদ্রাস্ফিতি বাড়ায় খাবার ও ওষুধের দাম ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই অবস্থার মধ্যেই এই বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। ১৯৫৬ সালে স্বাধীনতা লাভের পর থেকে সুদানে এটিই সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ।

সুদানের রাজনৈতিক বিশ্লেষক ওসমান মারগানি বলেন, এই আন্দোলন দেশটির ক্ষমতার পালাবদল নিয়ে আসবে। এর মধ্যে দিয়ে নতুন কোন রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় আসতে পারে অথবা প্রেসিডেন্ট বশিরের পরিবর্তে নতুন কাউকে সামনে নিয়ে আসবে তার দল। এটা অবশ্যই মানতে হবে যে, ১৯ ডিসেম্বর আন্দোলন শুরু হওয়ার আগের সুদানের সাথে বর্তমান পরিস্থিতি মোটেই এক রকম নেই।

আর এই আন্দোলন প্রেসিডেন্ট বশিরের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ বিক্ষোভকারীরা প্রেসিডেন্টের পদত্যাগ ছাড়া এই আন্দোলন বন্ধ করবে না বলে জানিয়েছে। অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট আগামী নির্বাচন না আসা পর্যন্ত পতদ্যাগ করবে না বলে দৃড় অবস্থানে আছেন। তবে চলমান পরিস্থিতি নিয়ে প্রেসিডেন্ট ইতিমধ্যে কয়েক দফা মন্ত্রিসভার সাথে বৈঠকে বসেছেন।

দেশটিতে চলমান বিক্ষোভে নতুন করে শুক্রবার আরো একজন মারা গেছেন। দেশটির পূর্ব খার্তুমের বুড়ি শহরের বিক্ষোভে একজন মারা গেছেন। এ নিয়ে দুই দিনে মারা গেছেন ৩ জন। সরকারের দেয়া তথ্যমতে, বিক্ষোভ শুরু থেকেই এখন পর্যন্ত ২৫ জন লোক মারা গেছেন। কিন্তু আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে মৃত্যের সংখ্যা ৪০ বেশি হবে। আর কমপক্ষে ১ হাজার মানুষকে আটক করা হয়েছে। এই অবস্থার মধ্যেই নতুন করে আবার ৩৮ জন সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হলো।

সুদানের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব এন্তোনিও গুতেরেস। মানবাধিকার রক্ষায় দেশটির সরকারের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তিনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ