মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

এ কেমন রাজনীতি!

রাজনীতিবিদরা রাজনীতি করেন, বিজয়ী হলে দেশ পরিচালনা করেন। কিন্তু বর্তমান সভ্যতায় যে প্রশ্নটি বড় হয়ে উঠেছে তা হলো দেশ পরিচালনার কাজটি তারা সঙ্গতভাবে করছেন কী? তাদের শাসনে ন্যায়, নীতি, মানবিকতা কতটা রক্ষিত হচ্ছে? বরং ক্ষমতায় টিকে থাকা এবং আবার ক্ষমতায় ফিরে আসার লক্ষটিই তাদের কাছে এখন প্রধান হয়ে উঠেছে। এ লক্ষ্য অর্জনে অন্যায়, অবিচার, প্রহসনসহ যে কোন নিষ্ঠুর পদক্ষেপ গ্রহণে তারা কুণ্ঠিত নন। তাই জনমনে এমন প্রশ্ন, এ কেমন রাজনীতি?
ভারতের রাজনীতিতে নাগরিকত্ব সংশোধন বিল এখন এক মারাত্মক পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। এ বিল যুগ যুগ ধরে বসবাসকারী নাগরিকদের জন্য হুমকি সৃষ্টি করেছে। নাগরিকত্ব সংশোধন বিল অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন মেঘালয় ও মিজোরামের দুই মুখ্যমন্ত্রী কনরাড সাংমা ও জোরামথাঙ্গা। ১০ জানুয়ারি বিকালে এই দুই মুখ্যমন্ত্রী অন্য মন্ত্রীদের নিয়ে দেখা করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সঙ্গে। তাকে বলেন, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ। দেশের স্বার্থে এই বিল অবিলম্বে প্রত্যাহার করা হোক। তারা অপেক্ষমাণ সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, এই বিল গোটা উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সামাজিক মেলবন্ধন নষ্ট করে দেবে। সৃষ্টি করবে আইন-শৃঙ্খলার ক্ষেত্রে তীব্র সমস্যা। এই বিল দেশকে দুর্বল করে তুলবে। তারা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলেছেন, এই বিল রাজ্যের আদিবাসী ও সংখ্যালঘুদের তীব্রভাবে আহত করেছে।
উল্লেখ্য যে, নাগরিকত্ব বিলকে কেন্দ্র করে আসামসহ গোটা উত্তর-পূর্বাঞ্চলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। রাজনীতির দিক দিয়ে যেসব আঞ্চলিক দল বিজেপির কাছাকাছি এসেছিল এই বিলকে কেন্দ্র করে তারা ক্রমেই দূরে সরে যাচ্ছে। মনিপুরে অশান্তি চলছে। এই বিলের বিরোধিতা করছে ত্রিপুরার শাসক বিজেপির শরিক আইপিএফটি। এই অবস্থায় বিজেপি কী করবে? দলের একটি অংশের ধারণা, উত্তর-পূর্বাঞ্চলে যে বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে, এই বিল তা নষ্ট করে দিতে পারে। আসামে অসম গণপরিষদ (অগপ) মন্ত্রীরা ইস্তফা দিয়েছেন, যদিও তা এখনও গৃহীত হয়নি। ভাবতে অবাক লাগে, রাজনীতিবিদরা যেখানে নাগরিকদের নিরাপত্তা বিধান করবেন, সুখ-শান্তি নিশ্চিত করবেন; সেখানে তারা এখন সংকীর্ণ স্বার্থে মানুষের নাগরিকত্ব হরণে তৎপর হয়েছেন। মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের পর এমন মন্দ উদাহরণ কারও কাম্য হতে পারে না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ