শনিবার ০৪ জুলাই ২০২০
Online Edition

সিন্ডিকেট দৌরাত্ম বন্ধ করে চালের মূল্য নিয়ন্ত্রণের দাবি

স্টাফ রিপোর্টার : সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম বন্ধ করে চালের মূল্য বৃদ্ধি রোধ, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং কৃষকদের নামে দায়েরকৃত সার্টিফিকেট মামলা প্রত্যাহার করুন।
কৃষক ক্ষেতমজুর সংগ্রাম পরিষদ কেন্দ্রীয় পরিচালনা কমিটির এক সভা গত ১৯ জানুয়ারি ২০১৯ সন্ধ্যায় ক্ষেতমজুর ইউনিয়ন কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। সমন্বয়ক অধ্যাপক আব্দুস সাত্তার এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কৃষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ জহির চন্দন, ক্ষেতমজুর ইউনিয়নের সভাপতি সাইফুল হক, সমাজতান্ত্রিক ক্ষেতমজুর ও কৃষক ফ্রন্টের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যক্ষ ওয়াজেদ পারভেজ, সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ, জাতীয় কৃষক ক্ষেতমজুর সমিতির নেতা আজিজুর রহমান, বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতির সহ-সম্পাদক অর্ণব সরকার, কৃষক ফ্রন্ট নেতা জয়নাল আবেদীন মুকুল প্রমুখ।
সভায় এক প্রস্তাবে কোনো কারণ ছাড়াই হঠাৎ চালের মূল্যবৃদ্ধিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়, সরকার মুক্তবাজার অর্থনীতিতে দেশ পরিচালনা করায় চাতাল মালিক ও সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের হাতে বাজার নিয়ন্ত্রণের ভার ছেড়ে দিয়েছে। যার ফলে মওসুমে কৃষক ফসলের ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হয় এবং ভোক্তা ক্রেতা সর্বসাধারণ জনগণ বেশি দামে চালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে বাধ্য হয়।
 এবারেও আমন মওসুমে সরকার কেজি প্রতি ধান চালের দাম গত বছরের চেয়ে কমিয়ে নির্ধারণ করেছে। তারপরও সরকারি ক্রয়কেন্দ্র খুলে খোদ কৃষকের কাছ থেকে ধান ক্রয় না করায় কৃষক সরকার নির্ধারিত দামেও ধান বিক্রি করতে না পেরে লোকসান দিয়েছে। অথচ অল্প সময়ের ব্যবধানে চালের দাম কেজি প্রতি ৪/৫ টাকা বৃদ্ধি করে সিন্ডিকেট ব্যবাসয়ীরা জনসাধারণের পকেট থেকে শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নিলেও সরকার নিরব দর্শক হয়ে আছে।
সভার প্রস্তাবে চাতাল মালিক, সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম বন্ধ করে উৎপাদক ও ক্রেতা স্বার্থ রক্ষা এবং প্রতি ইউনিয়নে সরকারি ক্রয়কেন্দ্র খুলে সরকার নির্ধারিত দামে ফসল ক্রয়ের আহ্বান জানানো হয়।
সভার অপর এক প্রস্তাবে বলা হয়, ১৭ কোটি মানুষের মুখের অন্ন যোগায় যে কৃষক তারা সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ নিয়ে বন্যা, খরা, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ফসল হানি হয়ে পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় সারা দেশে মাত্র ৫০০ কোটি টাকার কৃষি ঋণের জন্য ১ লক্ষ ৬৮ হাজার কৃষকের নামে সার্টিফিকেট মামলা এবং ১১ হাজার ৭২২ জনের নামে গ্রেপ্তারি পরোয়না জারি করেছে। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে প্রস্তাবে বলা হয়, দেশের তফসিলি ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়ে তথাকথিত ব্যবসায়ী শিল্পপতিরা খেলাপি হয়ে আছে। তাদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা হয় নাই এমনকি খেলাপি ঋণ উদ্ধারে কার্যকর কোন উদ্যোগ নেই। এক দেশে দুই আইন চলছে।
সভার প্রস্তাবে অবিলম্বে সকল কৃষকের বিরুদ্ধে দায়ের করা সার্টিফিকেট মামলা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা প্রত্যাহার এবং ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ সুদাসলে মওকুফ করার জোর দাবি জানানো হয়।
সভায় বাঁচার দাবিতে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলার জন্য কৃষক ক্ষেতমজুরদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ